নিজস্ব প্রতিবেদক:
২০১১ সালে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউ প্রতিষ্ঠা করার কিছু দিনের মধ্যে হঠাৎ ভর্তি হওয়া এক রোগীর ডায়রিয়া হলো। খবর নিলাম, রোগীর স্বজনরা হাসপাতালের বাইরে থেকে তরল খাবার কিনে এনেছে। কারণ, রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে তখন আইসিইউর রোগীর জন্য কোন খাবার বরাদ্দ ছিল না। খাবার সরবরাহকারী ঠিকাদারকে তরল খাবার সরবরাহের জন্য রাজী করালাম। কিন্তু খাবারের মান খুবই খারাপ ছিল। অভিযোগ করলে কয়েকদিন ভালো হলেও আবার খারাপ, আবার ভালো এভাবেই চলছিল।
রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের প্রাক্তন পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল Shameem Yazdany স্যারের সাথে পরামর্শ ক্রমে নতুন আইসিইউ কমপ্লেক্সের শিশু আইসিইউতে Structural ডিজাইনে স্যুপ কর্নার /পুষ্টি কর্নার রেখে অনুমোদন নেওয়ার ব্যবস্থা হলো। হাসপাতালের পথ্যের টেন্ডার প্রক্রিয়ায় আইসিইউ এর খাবার আলাদা করে দেওয়া হলো। তবুও খাবারের মানের উন্নতি হচ্ছিল না। রোগীর স্বজনদের বাইরে থেকে স্যুপ/ তরল খাবার আনতে হচ্ছিল।


নির্মাণাধীন আইসিইউ কমপ্লেক্সের পুষ্টি কর্নার তৈরি হবার পর বর্তমান পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল F M Shamim Ahmmed স্যারের সাথে আমার রোগীদের খাবার পরিবেশনার পরিকল্পনা শেয়ার করে অনুমতি নিলাম।
আমাদের ১৬ শয্যার জেরিয়েট্রিক ও ১২ শয্যার এ্যডাল্ট আইসিইউর রোগীদের জন্য রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নির্ধারিত খাদ্য তালিকা দিয়ে দিনে ৩ বার ডিমের স্যুপ, আপেল, হরলিক্স দিয়ে ১ বার স্যুপ এবং বাকী সময় দুধ দিয়ে তৈরি তরল খাবার দেওয়া হচ্ছে। এ সব কিছু দ্বায়িত্ব প্রাপ্ত একজন সিনিয়র স্ট্যাফ নার্সের তত্বাবধানে আইসিইউ কমপ্লেক্সের পুষ্টি কর্নারে বিশেষ আয়া (মাস্ক, ক্যাপ ও গ্লাভস পরিহিত) দিয়ে প্রক্রিয়া করে রোগীদের খাবার সরবরাহ করার ব্যবস্থা হয়েছে। আইসিইউর রোগীর জন্য হাসপাতালের বাইরে থেকে/ হাসপাতাল কিচেন থেকে আর কোন স্যুপ/ তরল খাবার আনার প্রয়োজন হচ্ছে না।
এছাড়া, ১২ শয্যার শিশু আইসিইউর রোগীর মা দের জন্য কর্পোরেট হাসপাতালের মতো প্যাকেট করে বাচ্চাদের পুষ্টির জন্য খাবার দেওয়া হচ্ছে।
এসব কিছু রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের খাবারের পথ্য তালিকার বরাদ্দ থেকেই করা হচ্ছে। সরকারের অতিরিক্ত অর্থের প্রয়োজন হয়নি।
আইসিইউতে ভর্তি রোগীদের জন্য চিকিৎসা সেবার পাশাপাশি পুষ্টি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলেও এতদিন পর সেটা বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট সকলকে আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।
আপনাদের দোয়া/ প্রার্থনাতে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউতে ভর্তি হওয়া রোগী এবং এখানে কর্মরত সকল কর্মীবৃন্দ থাকবে, সেটা কামনা করছি।
লিখেছেন:
ডা: আবু হেনা মোস্তফা কামাল
সহযোগী অধ্যাপক ও ইউনিট প্রধান
আইসিইউ, রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল









