নাটোর প্রতিনিধি:
নাটোরের লালপুরে চাঁদাবাজির অভিযোগে যুবদল নেতা খোকনসহ তার দুই সন্তানকে আটক করে সেনাবাহিনী। এঘটনার প্রতিবাদে স্থানীয় বিএনপির নেতা কর্মীরা লালপুর ত্রিমোহিনী চত্বরে দুই দফায় ৪ঘন্টা ব্যাপী সড়ক অবরোধ করেও কোন সুরাহা হয়নি। শেষ পর্যন্ত আটককৃতদের আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানাযায়, শুক্রবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) রাতে সেনাবাহিনীর একটি দল লালপুরের দক্ষিণ লালপুর (কলোনি পাড়া) গ্রামে অভিযান চালিয়ে ৯ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক খোকন (৪৫) সহ তার দুই সন্তান ফিরোজ ও অনিক কে আটক করে লালপুর থানায় সোপর্দ করে।

শনিবার সকাল ও দুপুরে এই ঘটনার প্রতিবাদে ও তাদের মুক্তির দাবিতে স্থানীয় বিএনপি নেতারা দুই দফায় ৪ঘন্টা সড়ক অবরোধ করেন। এতে লালপুর -ঈশ্বরদী সড়ক তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়।
বিএনপি নেতৃবৃন্দরা জানান, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময় উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি মতিউর রহমান মতি ও তার ভাই জাহাঙ্গীর মেম্বার খোকনকে মারপিট করে একটি মোবাইল ফোন ভেঙ্গে দেয়। গত বৃহস্পতিবার ৬ ফেব্রুয়ারি সেই মোবাইল ভাঙচুরের ঘটনা ২০ হাজার টাকায় নিষ্পত্তি হয়। সেই ২০ হাজার টাকা লেনদেনের ঘটনা গোপনে ভিডিও করে রাখে তারা।
সেই ভিডিও ক্লিপ সেনাবাহিনীর হাতে পৌঁছলে সেনাবাহিনী লালপুরের কলোনীপাড়া থেকে ওয়ার্ড যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক খোকন (৪৫) তার দুই সন্তান ফিরোজ (৩২) ও অনিক (২৪) কে তাদের বাড়িতে অভিযান চালিয়ে আটক করে থানায় সোপর্দ করে।
খোকনের স্ত্রী রত্না বেগম জানান, রাত সাড়ে ১২টার দিকে সেনাবাহিনীর সদস্যরা তাদের বাড়ি ঘিরে ঘরে প্রবেশ করে তার স্বামী খোকনকে সহ দুই ছেলেকে বেদম মারপিট করে উঠিয়ে নিয়ে যায়।

লালপুর বাঘা সড়কে লালপুর থানা ফটকের সামনে এ ঘটনার প্রতিবাদে ও তাদের মুক্তির দাবিতে স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীরা সকাল সোয়া ৯টার দিকে লালপুর-ঈশ্বরদী সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ মিছিল করে। এরপরে তারা লালপুর ত্রিমোহিনী চত্বরে অবস্থান নেয়। এতে দুই ঘন্টা অবরোধের পর প্রশাসনের আশ্বাসে কিছু সময়ের জন্য তারা অবরোধ প্রত্যাহার করেন। কিন্তু আটককৃতদের ছাড়তে বিলম্ব করায় আন্দোলনকারীরা আবার সড়ক অবরোধ করেন।
এতে ঈশ্বরদী- বানেশ্বর আঞ্চলিক মহাসড়কে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হলে রাস্তায় চলাচলকারী যানবাহন ও যাত্রীদের চরম ভোগান্তিতে পড়তে হয়।
এ বিষয়ে লালপুর উপজেলা বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব হারুনার রশিদ পাপ্পু বলেন, আমি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত আছি। একটি ভূল বুঝাবুঝির কারণে সেনাবাহিনী তাদের আটক করেছে।
বিএনপি নেতৃবৃন্দের নির্দেশনায় আন্দোলনকারীরা দুপুর আড়াইটার দিকে সড়ক অবরোধ প্রত্যাহার করেন। এরপরে আটককৃতদের লালপুর থানা পুলিশ আদালতে প্রেরণ করেন।
লালপুর উপজেলা সেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি মতিউর রহমান বলেন আমি ও আমার পরিবার সেনাবাহিনীর কাছে কোন অভিযোগ করিনি।আমরা ডেভিল হান্ট অভিযানে আটকের ভয়ে বাড়ি ছাড়া হয়ে আছি।
এ ব্যাপারে লালপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) নুরুজ্জামান জানান, ১৫১ ধারায় অপরাধ নিবারণকল্পে অপরাধ প্রতিরোধ আইনে তাদের আটক করে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।









