সিল্কসিটিনিউজ ক্রীড়া ডেস্ক:
ক্রিকেট বিশ্বের নতুন সেনসেশন মুস্তাফিজুর রহমানকে এক অনুষ্ঠানে কাছে পেয়ে লন্ডনের বাঙালি বংশোদ্ভূত ক্রিকেটাররা আনন্দে আত্মহারা হয়েছেন।
বুধবার বিকেলে চ্যারিটি সংস্থা ক্যাপিটাল কিডস ক্রিকেট ও লন্ডন টাইগার্স -এর যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে যান মুস্তাফিজ। বাংলা টাউন নামে খ্যাত টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিলের হোয়াইট চ্যাপেল এলাকার এলডার স্ট্রিটে ইউকে ক্যারাম একাডেমিতে এই আয়োজনে সমবেত হয়েছিল টাওয়ার হ্যামলেটস ক্রিকেট ক্লাবের এক ঝাঁক ক্রিকেটার। এদের সাথে ছিলেন অনুষ্ঠানের সহ উদ্যোক্তা লন্ডন টাইগার্স এর ক্রিকেটাররা। তাদের অধিকাংশই বাঙালি বংশোদ্ভূত। অন্যান্য কমিউনিটির ক্রিকেটাররাও ছিলেন।

মুস্তাফিজ তাদের সঙ্গে ক্রিকেটও খেলেন। কাঁধে চোট থাকায় বোলিং করেননি; হাতে তুলে নেন ব্যাট।
ক্রিকেটারদের সঙ্গে কথা বলে তাদের উৎসাহ যোগান মুস্তাফিজ। ভালো ক্রিকেটার হতে কঠোর অনুশীলনের উপর জোর দেন।
“শেখার শেষ নাই। আমি ভোরে বাড়ি থেকে চল্লিশ কিলোমিটার দূরে অনুশীলনের জন্য যেতাম। তারপরও অন্য খেলোয়াড়দের আগে পৌঁছতাম।”
ইংল্যান্ডে এসে বাবা-মার অভাব মু্স্তাফিজ যে বোধ করছেন বোঝা গেল তা। জীবনে সাফল্য পেতে হলে সবসময় বাবা-মার দোয়া চাইতে খুদে ক্রিকেটারদের উপদেশ দেন তিনি।
ইংল্যান্ডে চোটের কারণে দুটির বেশি ম্যাচ খেলতে পারেনি বলে কিছুটা হতাশাও ঝড়লো তার কথায়, “আমার ভাগ্য খারাপ, আপনাদেরও ভাগ্য খারাপ।”।
অনুষ্ঠানের মূল উদ্যোক্তা ক্যাপিট্যাল কিডস এর ডিরেক্টর অব ক্রিকেট শহীদুল আলম রতন বলেন, “টাওয়ার হ্যামলেটস ক্রিকেট ক্লাবের ক্রিকেটারদের উৎসাহিত ও অনুপ্রাণিত করার জন্যই আমরা তাদের সামনে এনেছি তাদের রোল মডেল ও আইকনিক ক্রিকেটার মুস্তাফিজুর রহমানকে।”
রতন জানান, ২০০৯ সালে প্রতিষ্ঠিত টাওয়ার হ্যামলেটস ক্রিকেট ক্লাবে প্রায় ১০০ জন ক্রিকেটার রয়েছে। এদের মধ্যে ৭০ শতাংই বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত। এদের অধিকাংশই লন্ডনে জন্ম নেওয়া ও বেড়ে উঠা বাঙালি।
ইসিবির লেবেল থ্রি কোচ এবং কোচ এডুকেটর হিসেবে দায়িত্ব পালনরত রতন অদূর ভবিষ্যতে কাউন্টি এবং ইংল্যান্ড জাতীয় দলে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ক্রিকেটারদের দেখা যাবে বলে আশা করেন।
রতন জানান, ২০০৮ সালে জুনিয়র টিম হিসেবে টাওয়ার হ্যামলেটস ক্রিকেট ক্লাবের যাত্রা শুরু হয়েছিল। এখন এই ক্লাবের সিনিয়র দলও রয়েছে এবং এরা মিডলসেক্স চ্যাম্পিয়নশিপ লিগ টুর্নামেন্টের ডিভিশন টুতে খেলছে।
বাংলাদেশে থাকাকালে ক্রিকেট বোর্ড এর ন্যাশনাল কোচ ও মালয়েশিয়ার অনুর্ধ ১৯ দলের কোচের দায়িত্ব পালন করা রতন ২০০৮ সালে ক্যাপিট্যাল কিডস ক্রিকেটের ডেভেলপমেন্ট হেড কোচ হিসেবে যোগদান করেন।
সূত্র: বিডি নিউজ









