নিজস্ব প্রতিবেদক:
রাজশাহীতে রেঁস্তোরায় ১৫ শতাংশ ভ্যাট কমিয়ে ৩ শতাংশ করার দাবিতে মানববন্ধন করেছে বাংলাদেশ রেস্তোরা মালিক সমিতি রাজশাহী জেলা শাখা।
বৃহস্পতিবার (১৬ জানুয়ারি) সকালে রাজশাহী মহানগরীর জিরো পয়েন্টে এই মানববন্ধনের আয়োজন করা হয়। এতে নগর ও জেলার বিভিন্ন রেঁস্তোরার মালিক শ্রমিকরা অংশ নেন।

মানববন্ধনে বক্তারা, উচ্চ মূল্যস্ফীতির কারণে রেস্তোরাঁ ব্যবসা দুই বছরেরও বেশি সময় ধরে কঠিন সংকটে রয়েছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে ১৫ শতাংশ ভ্যাট বৃদ্ধি করা অযৌক্তিক। ব্যবসায়ীদের উপর জুলুম চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে। এই অন্যায় ভ্যাট বৃদ্ধি বাংলাদেশের মানুষ মেনে নেবে না। ভোক্তাদের উপর চাপ কমাতে ব্যবসায়ীরা বর্তমান ভ্যাট ৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৩ শতাংশ করার দাবি জানান। কিন্তু সরকার এটি তিনগুণ বাড়িয়েছে। এতে করে গ্রাহকদের ওপর সরাসরি প্রভাব পড়বে। মানুষজন হোটেল-রেস্টুরেন্টে খাওয়া কমিয়ে দেবেন। বর্তমান পরিস্থিতিতে করের আওতা না বাড়িয়ে এবং কর ফাঁকি প্রতিরোধের ব্যবস্থা না নিয়ে ভ্যাট বাড়ানোর সিদ্ধান্তটি হঠকারী সিদ্ধান্ত। বর্তমান তত্ত্বাবধায়ক সরকার ভ্যাট বাড়ানোর তালবাহানা করবেন না।
এছাড়াও মানববন্ধন থেকে আটটি দাবি তুলে ধরা হয়। দাবিগুলো হলো:
(১) ভ্যাটের হার ৩% করতে হবে এবং স্টীটফুড সহ সকল প্রতিষ্ঠান ভ্যাটের আওতায় আনতে হবে।
(২) সম্পূরক শুল্ক এস.ডি নামক অতিরিক্ত ভ্যাট সম্পূর্ণ প্রত্যাহার করতে হবে।
(৩) দোকান ভাড়ার উপরে ১৫% ভ্যাট প্রত্যাহার করতে হবে।
(৪) ভ্যাট আদায়ের নামে মামলা ও প্রিভেন্টিভ ভীতি প্রদান হতে বিরত থাকা এবং ভ্যাট আদায়কারী ব্যবসায়ীদের সাথে সম্মানজনক আচরণ করতে হবে।
(৫) রেস্তোরাঁ খাতে ওয়ান স্টপ সার্ভিস চালু করতে হবে।
(৬) বাংলাদেশ রেস্তোরাঁ মালিক সমিতির ছাড়পত্র ব্যতীত কাউকে ট্রেড লাইসেন্স দেওয়া যাবে না।
(৭) রেস্তোরাঁ শিল্পের উপর যে কোন সিদ্ধান্ত আরোপের পূর্বে বাংলাদেশ রেস্তোরাঁ মালিক সমিতির সাথে আলাপ করতে হবে।
(৮) রেস্তোরাঁ শিল্পকে সরকারি প্রনোদনার আওতায় আনতে হবে,এবং স্বল্প সুদে সহজ সত্যের ইন প্রদান করতে হবে।
পরিশেষে, বর্ধিত হারে ভ্যাট আরোপের সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার না হলে বাংলাদেশ রেস্তোরাঁ মালিক সমিতি রেস্তোরাঁ ব্যবসায়ীদের স্বার্থ রক্ষার্থে, জীবন-জীবিকার প্রয়োজনে আগামীতে কঠোর আন্দোলন গড়ে তোলার দেন।
মানববন্ধনে উপস্থিত ছিলেন, বাংলাদেশ রেস্তোরাঁ মালিক সমিতির রাজশাহী জেলা শাখার সভাপতি রিয়াজুর রহমান খান, সাধারণ সম্পাদক মাসুদুর রহমান রিংকুসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।









