অপরাধ ও দুর্নীতি

নয়া আতঙ্ক আত্মঘাতী হামলা!

নিউজ ডেস্ক১৮ মার্চ ২০১৭৪ মিনিট পড়া

সিল্কসিটিনিউজ ডেস্ক: দেশজুড়ে জঙ্গিদের টার্গেটেড কিলিং-এর পর নয়া আতঙ্ক হয়ে দাঁড়িয়েছে আত্মঘাতী হামলা। সম্প্রতি কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিটের একাধিক অভিযানে জঙ্গিদের আত্মঘাতী হওয়া এবং সর্বশেষ আশকোনায় র‌্যাবের নির্মাণাধীন কার্যালয়ে আত্মঘাতী হামলার পর বিষয়টি ভাবিয়ে তুলেছে সবাইকে। জঙ্গিদের আত্মঘাতী হওয়ার প্রবণতাকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে দেখছেন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

তারা মনে করছেন, জঙ্গিবাদ নির্মূলে আরো বেশি সচেতন এবং কৌশলী না হলে আত্মঘাতী হামলা বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এর ফলে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নিতে পারে। পুলিশের বিভিন্ন ইউনিটকে রাজধানী ঢাকা সহ সারা দেশে জঙ্গিদের আত্মঘাতী হামলার ক্ষেত্রে বিশেষ সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। রাজধানীতে এরই মধ্যে পুলিশ ও র‌্যাবের ব্যাপক তল্লাশি অভিযান শুরু হয়েছে।

কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিটের প্রধান মনিরুল ইসলাম বলেছেন, ‘ধারাবাহিক অভিযানে জঙ্গিদের কোণঠাসা করে ফেলার কারণেই তারা বিচ্ছিন্নভাবে হামলা করার চেষ্টা করছে। তবে কোথাও তারা সফল হতে পারছে না। তার আগেই আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে ধরা পড়ে যাচ্ছে। ধরা পড়ার আগে কেউ কেউ আত্মঘাতী হওয়া বা আত্মঘাতী হামলার চেষ্টা করছে।’

জঙ্গি প্রতিরোধে অভিজ্ঞ ডিআইজি পদমর্যাদার এই পুলিশ কর্মকর্তা আরও বলেন, ‘জঙ্গিদের এখন আগের মতো শক্তি-সামর্থ্য কোনোটাই নেই। তাদের শীর্ষ নেতারা ধরা পড়েছে অথবা নিহত হয়েছে। অল্প কয়েকজন যারা বাইরে রয়েছে, তারা নতুন করে সংগঠিত হওয়ার চেষ্টা করছে। এতে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। জঙ্গিদের একেবারে নির্মূল করার জন্য কঠোর প্রচেষ্টা চলছে।’

সংশ্লিষ্ট সূত্র থেকে জানা গেছে, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে জঙ্গিদের কোণঠাসা করার কথা বলা হচ্ছে। তবে সম্প্রতি কুমিল্লার চান্দিনায় দুই যুবককে হাতে তৈরি গ্রেনেডসহ গ্রেফতারের পর জঙ্গিদের নতুন করে সংগঠিত হওয়ার বিষয়টি আবারও সামনে চলে এসেছে। গ্রেফতার হওয়া দুই জঙ্গির কাছ থেকে এবং তাদের দেওয়া তথ্য মতে চট্টগ্রামের মিরসরাই থেকে যেসব হাতে তৈরি গ্রেনেড উদ্ধার করা হয়, তা আগের যে কোনও গ্রেনেডের চেয়ে আকারে বড়।

 

এছাড়া গত বছরের ২৪ ডিসেম্বর আশকোনার সূর্যভিলা নামে এক বাসায় অভিযান চালানোর পর একাধিক বিস্ফোরক ভেস্ট উদ্ধার করে সিটিটিসি। এই ভেস্ট পড়ে এক নারী আত্মঘাতীও হয়। গত ১৫ মার্চ চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের আমিরাবাদ এলাকার ‘সাধনকুটির’ নামে বাসা থেকে যে জঙ্গি দম্পতিকে গ্রেফতার করা হয়, তাদের কাছেও আত্মঘাতী ভেস্ট ছিল। তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, পাশের প্রেমতলায় অভিযানের সময় অন্তত দুই জঙ্গি আত্মঘাতী হয়েছিল বলে জানিয়েছে পুলিশ। তারা সোয়াত বাহিনীর ওপর আত্মঘাতী হামলা চালানোর চেষ্টাও করেছিল।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সূত্রগুলো বলছে, বাংলাদেশে জঙ্গিদের সুইসাইডাল বা আত্মঘাতী যেসব ভেস্ট উদ্ধার করা হয়েছে, সেগুলো হাতে তৈরি। একটি ভেস্টে পাঁচটি করে হাতে তৈরি গ্রেনেড রেখে তা একযোগে বিস্ফোরিত করা হয়। জঙ্গিদের মধ্যে আত্মঘাতী হওয়ার প্রবণতা বাড়াটা উদ্বেগজনক। আশকোনায় র‌্যাবের নির্মাণাধীন সদর দফতরের নিরাপত্তা বেষ্টনী পেরিয়ে আত্মঘাতী হামলাকারীর ভেতরে ঢুকে পড়া আরও বেশি ভাবিয়ে তুলেছে নিরাপত্তার সঙ্গে জড়িত সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একটি গোয়েন্দা সংস্থার শীর্ষ একজন কর্মকর্তা জানান, জঙ্গিদের সংগঠিত হয়ে ধারাবাহিক হামলা করার আশঙ্কা একেবারে উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। আশকোনার র‌্যাব ক্যাম্প বা নির্মাণাধীন ভবনের মতো আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অনেক কার্যালয় বা অফিস রয়েছে, যেখানে সহজেই আত্মঘাতী হামলাকারীদের পক্ষে ঢুকে পড়া সম্ভব। এছাড়া পুলিশ-র‌্যাবের চেকপোস্ট বা জঙ্গিদের ভাষায় ‘টার্গেটেড’ ভিন্ন মত বা ধর্মের মানুষ, বিদেশি নাগরিকদের অফিস, বাসা বা আড্ডাস্থলে ঢুকে আত্মঘাতী হামলা চালাতে পারে তারা।

 

জঙ্গিদের ভাষায় ‘যেখানেই বাধা সেখানেই হামলা’ নীতিও ভয়ঙ্কর। আত্মঘাতী হামলা বন্ধ করতে হলে জঙ্গিরা যেন বিস্ফোরক দ্রব্য সহজে হাতে না পায়, সেই ব্যবস্থা নিতে হবে। হাতে তৈরি গ্রেনেড তৈরিতে যে ডেটোনেটর ব্যবহার করা হয়, তা আসে প্রতিবেশী দেশ থেকে। সীমান্তে কড়া নজরদারির মাধ্যমে ডেটোনেটরের চোরাচালানও বন্ধ করতে হবে।

কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিটের কর্মকর্তারা বলছেন, জঙ্গিদের আস্তানা গুঁড়িয়ে দিয়ে তাদের দমন ও অস্ত্র-বিস্ফোরক আনার পথগুলো বন্ধ করতে পারলে আত্মঘাতী জঙ্গি হামলা ঠেকানো সম্ভব হবে। এছাড়া দীর্ঘ মেয়াদে জঙ্গিবাদ দমনে পাল্টা মতাদর্শ প্রচার ও সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি জোরদার করাও প্রয়োজন। সূত্র: বাংলা ট্রিবিউন