সিল্কসিটিনিউজ ডেস্ক: দেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে সংগঠিত হয়ে বিস্ফোরক মজুত করে ধারাবাহিক নাশকতা ও হামলার পরিকল্পনা করছে জঙ্গি গোষ্ঠি। এই জঙ্গি গোষ্ঠির বিস্ফোরক আগের চেয়ে বেশি শক্তিশালী। রাজধানীর আশকোনায় র্যাবের নির্মাণাধীন সদর দফতরে আত্মঘাতী হামলার পর বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা এমনটাই ধারণা করছে।
গোয়েন্দা কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ‘ঢাকায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কড়া নজরদারির কারণে দেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে ঘাঁটি গাড়ার চেষ্টা করছে জঙ্গিরা। বাসা ভাড়া নিয়ে তারা বিস্ফোরণ মজুত করছে। এসব বিস্ফোরক তারা ধারাবাহিকভাবে নাশকতা ও হামলায় ব্যবহারের চেষ্টা করছে।’
কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিটের একজন কর্মকর্তা বলেন, ‘আশকোনায় আত্মঘাতি হামলাকারী শক্তিশালী বিস্ফোরক ব্যবহার করেছে। সীতাকুণ্ড জঙ্গি আস্তানাতেও তারা আগের চেয়ে বেশি শক্তিশালী বিস্ফোরেকের বিস্ফোরণ ঘটিয়েছে।’

গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের ধারণা, জঙ্গি গোষ্ঠি দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপণাকে টার্গেট করে আরও হামলা চালাতে পারে।
জঙ্গিদের ব্যবহৃত বিস্ফোরকের বিষয়ে এক গোয়েন্দা কর্মকর্তা বলেন, ‘জঙ্গিরা সাম্প্রতিক যেসব বিস্ফোরণ ঘটিয়েছে তা আগে দেখা যায়নি।’
শুক্রবার দুপুর ১টার দিকে র্যাবের প্রস্তাবিত ও নির্মাণাধীন সদর দফতরে আত্মঘাতী হামলা চালায় অজ্ঞাত এক যুবক। প্রস্তাবিত সদর দফতরটি বর্তমানে র্যাবের ব্যারাক হিসাবে ব্যবহৃত হচ্ছে। প্রায় দুইশ র্যাব সদস্য সেখানে থাকেন। সংরক্ষিত এলাকাটির চারপাশেই কংক্রিটের দেয়াল। প্রবেশের জন্য একটি প্রধান ফটক রয়েছে।সেখানে ২৪ ঘণ্টাই থাকে র্যাবের পাহারা। কঠোর নিরাপত্তার পরও সেখানে আত্মঘাতী হামলার পর পুরো এলাকাটি ঘিরে রাখে র্যাব। এমনকি ঘটনার পর প্রথমে থানা পুলিশকেও ভেতরে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি। আত্মঘাতী বোমা বিস্ফোরণের পরপরই ঘটনাস্থলে যান র্যাবের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ ও কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিটের কর্মকর্তারা।
ঘটনার পর বিমানবন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নূরে আজম বলেন, ‘দুপুরে র্যাবের নির্মাণাধীন ভবনের মধ্যে আত্মঘাতী হামলায় হামলাকারী নিহত হয়। র্যাবের দুই সদস্য এসময় আহত হন। তবে ঘটনার পর সেখানে পুলিশকে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি।’
এদিকে বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে সিআইডির ক্রাইম সিন প্রবেশ করে। তারা আলামত সংগ্রহ করার পর সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে নিহত জঙ্গির সুরাতহাল প্রতিবেদন তৈরি করেন বিমানবন্দর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) এজাজ শফী।
এরপর সন্ধ্যা পৌনে সাতটার দিকে ঘটনাস্থল পরিদর্শনে আসেন আইজিপি একেএম শহীদুল হক ও র্যাবের মহাপরিচালক বেনজীর আহমেদ। তারা গাড়িতে করেই র্যাবের নির্মাণাধীন সদর দফতরে প্রবেশ করেন। সেখানে ১৫ মিনিট অবস্থানের পর সন্ধ্যা সাতটার দিকে তারা বের হয়ে যান। এসময় সংবাদকর্মীরা তাদের সঙ্গে কথা বলতে চাইলেও তারা কেউ কথা বলেননি। আইজিপি গাড়ির গ্লাস খুলেন। তবে কোনও কথা বলতে রাজি হননি। এরপর তারা দুজনেই চলে যান। এর আগে বিভিন্ন সময় জঙ্গি আস্তানায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানের পর পুলিশ ও র্যাব প্রধান গণমাধ্যম কর্মীদের সঙ্গে কথা বললেও এবারই ব্যতিক্রম হলো। সন্ধ্যা ৭টা ১২ মিনিটের দিকে বিমানবন্দর থানার পুলিশ লাশ নিয়ে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে চলে যায়।
বিমানবন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নূরে আজম বলেন, ‘লাশের সুরাতহাল প্রতিবেদন তৈরি করার পর ময়নাতদন্তের জন্য ঢামেক হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।’ সূত্র: বাংলা ট্রিবিউন









