রাজশাহী

সবুজ নগরীর গাছ কেটে উজাড়ে ফেসবুকে চলছে প্রতিবাদের ঝড়

নিউজ ডেস্ক৯ মার্চ ২০১৭৩ মিনিট পড়া

নিজস্ব প্রতিবেদক: রাজশাহী নগরীর সড়ক ডিভাইডারের তাজা তাজা গাছগুলোতে আবারো কুড়ালের আঘাত পড়েছে। গত কয়েকদিন ধরেই নির্বিচারে কেটে ফেলা হচ্ছে বন্ধগেট এলাকার বিশালাকার গাছগুলো। এতে করে শহর হারাচ্ছে ছাঁয়াঘেরা সড়ক। এ নিয়ে সিল্কসিটি নিউজে প্রথম খবর প্রকাশ হয় গত ২৭ ফেব্রুয়ারি। তবে এখনো গাছ কাটা বন্ধ হয়নি।

 

  • বড় বড় পুরনো গাছগুলো কেটে সাবাড় করা হচ্ছে প্রতিদিন। আর এ তাতে সামাজিক গণমাধ্যমে উঠেছে প্রতিবাদের ঝড়। তবে এখনো কেউ এ নিয়ে প্রতিবাদে মাঠে নামতে পারেনি। আর সেই সুযোগে গাছগুলো হারাচ্ছে প্রাণ। শহর হারাচ্ছে সবুজায়ন।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, নিয়ম অনুযায়ী সরকারি রাস্তায় লাগানো গাছ কাটার আগে বন বিভাগের অনুমতির প্রয়োজন হয়। কিন্তু সেটিও না নিয়ে তাজা তাজা গাছগুলো নির্বিচারে কেটে ফেলা হচ্ছে। নগরীর বন্ধগেট এলাকায় ওই গাছগুলোর ডালপালা কাটা শুরু হয় গত ২৬ ফ্রেবুয়ারি বিকেল থেকে।

 

  • জানা গেছে, রাজশাহী নগরীর রেলগেট থেকে সিএনডি মোড় পর্যন্ত প্রায় দুই কিলোমিটার এই রাস্তার মাঝখানে ডিভাইডারে প্রায় ২৫ বছর আগে বিভিন্ন প্রজাতির গাছ লাগানো হয়। গাছগুলো এখন বিশালাকারে পরিণত হয়েছে। কিন্তু সেই গাছগুলো বছর তিনেক আগ থেকে কেটে সাবাড় করতে থাকে রাসিক।

 

গাছগুলো কেটে সেখানে নানা প্রজাতির ফুলের গাছ লাগানো হচ্ছে। তবে বন্ধগেট এলাকায় সবচেয়ে বেশি বড় আকারের গাছগুলো এতোদিন না কাটলেও গত ২৬ ফেব্রুয়ারি থেকে সেগুলোতেও পড়ছে কুড়াল আর ধারালো দা-এর আঘাত। আর এ নিয়ে ঝড় উঠেছে সামাজিক গণমাধ্যম ফেসবুকের পাতায়।

 

আব্দুল্লাহ আল মুয়িদ সাকিব গাছ কেটে ফেলার কয়েকটি ছবি পোস করে তাতে লিখেছেন ১০০ বছরের সাক্ষী গাছগুলোর অপরাধ কি???

 

সিরিন সুলতানা নামের একজন লিখেছেন, ‘এই গাছগুলো কেটে কি করা হবে সেখানে? কি এমন প্রয়োজন ছিল এত সুন্দর দৃশ্য ধ্বংস করার?

 

আইনজীবি সেলি রহমান লিখেছেন, কেউ প্রতিবাদ করার নাই। তাই এমন সাহস দেখাচ্ছে রাসিক। এভাবে নির্বিচারে গাছগুলো কেটে সাবাড় করা হচ্ছে। বিনষ্ট করা হচ্ছে ঐতিহ্যের নগরীর রাজশাহীর পরিবেশ।

  • এদিকে জানতে চাইলে নগরীর বন্ধগেট এলাকার বাসিন্দা সাইদুর রহমান সিল্কসিটি নিউজকে বলেন, ‘এইভাবে এলাকায় এর আগেও গাছ কেটেছে রাসিক। কিন্তু বড় বড় গাছগুলো তারপরেও এতোদিন রক্ষা পেয়েছিল। এবার সেগুলোও কেটে সাবাড় করা হচ্ছে। ফলে সবুজ নগরীর পরিবেশেও মারাত্মক প্রভাব পড়বে। আবার রাস্তা দিয়ে চলাচলকারীরা পথচারিরা এতোদিন যেখানে ছায়াঘেলা পরিবেশ দিয়ে বন্ধগেট এলাকা হয়ে চলাচল করতে পারতেন, এখন রোদ মাথায় নিয়ে চলতে হবে তাদের।’

স্থানীয় ব্যবসায়ী জুলফিকার আলি বলেন, রাসিক ইচ্ছেমতো গাছগুলো কেটে ফেলছে। অথচ এই গাছগুলো কত না মনোরম পরিবেশ সৃস্টি করে রেখেছিল এতোদিন। কিন্তু সেখানে এখন খাঁ খাঁ করছে। পথচারীদেরও এতে করে দুর্ভোগ বাড়বে।

 

  • এদিকে রাজশাহী সামাজিক বন বিভাগের প্রধান বন কর্মকর্তা ইসমাইল হোসেন বলেন, রাসিক গাছ কাটছে এ বিষয়টি আমাদের জানা নেই। অবশ্যই সরকারি রাস্তার গাছ কাটার আগে বন বিভাগের অনুমতি নিতে হবে। বনবিভাগই প্রয়োজনে মরা গাছ টেন্ডারে বিক্রি করবে। কোনো প্রতিষ্টান ইচ্ছেমতো তাজা গাছ কাটতে পারে না।

তবে গাছ কাটার বিষয়টি নিয়ে যোগাযোগ করা হলে রাজশাহী সিটি করপোরেশনের প্রধান প্রকৌশলী আশরাফুল হক বলেন, ‘গাছগুলোর ডালপালা বেঙে কখনো সড়ক দুর্ঘটনার সৃষ্টি হচ্ছে। তাই সেগুলো কেটে ফেলে নতুন করে প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এতে করে শহরের সৌন্দর্য আরো বৃদ্ধি পাচ্ছে। তবে গাছ কাটার জন্য বনবিভাগের কোনো অনুমতি নেওয়া হয়নি বলেও স্বীকার করেন ওই কর্মকর্তা।’

স/আর