জাতীয়

দেশে খাদ্যের অপচয় বেড়েছে ৩৫ লাখ টন

নিউজ ডেস্ক৩০ মার্চ ২০২৪৩ মিনিট পড়া

সিল্কসিটি নিউজ ডেস্ক

দেশে প্রতিবছর যে পরিমাণ খাদ্য উৎপাদন হচ্ছে, তার একটি বড় অংশই চলে যাচ্ছে ময়লার ঝুড়িতে। ক্ষুধার্ত মানুষের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে খাদ্যের অপচয়। দেশে শুধু ২০২২ সালেই অপচয় হয়েছে ১ কোটি ৪১ লাখ টন খাবার।

গত বুধবার প্রকাশ হওয়া জাতিসংঘের পরিবেশবিষয়ক সংস্থা ইউনেপের ২০২৪ সালের ফুড ওয়েস্ট ইনডেক্স প্রতিবেদনে এমন তথ্য জানানো হয়।

একই সংস্থার এর আগের ২০২১ সালের প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, দেশে মোট খাদ্য অপচয়ের পরিমাণ ১ কোটি ৬ লাখ টন। ইউনেপের দুই প্রতিবেদন বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, কয়েক বছরের ব্যবধানে দেশে খাদ্যের অপচয় বেড়েছে প্রায় ৩৫ লাখ টন। এই বিপুল পরিমাণ খাবার অপচয়ের কারণে জাতিসংঘ ঘোষিত এসডিজি লক্ষ্যমাত্রা পূরণ নিয়ে শঙ্কা তৈরি হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এ জন্য জাতীয় কর্মপরিকল্পনা নীতি প্রণয়ন করতে হবে।

জাতিসংঘের ১৭টি টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার (এসডিজি) মধ্যে একটি খাদ্যের অপচয় রোধ করা। এসডিজি লক্ষ্যমাত্রার ১২ দশমিক ৩ অনুচ্ছেদে বলা আছে, ২০৩০ সালের মধ্যে খাদ্যের অপচয় অর্ধেকে নামিয়ে আনতে হবে।

ইউনেপের চলতি বছরের প্রতিবেদন বলছে, দেশে বাসাবাড়িতে একজন ব্যক্তির বার্ষিক খাবার অপচয়ের পরিমাণ ৮২ কেজি। যা যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, রাশিয়া ও ভারতের চেয়ে বেশি। ২০২১ সালের প্রতিবেদনে বার্ষিক মাথাপিছু খাবার অপচয়ের পরিমাণ ছিল ৬৫ কেজি।

এমন প্রেক্ষাপটেও জাতীয় পর্যায়ে খাদ্যের অপচয় নিয়ে সাম্প্রতিক কোনো গবেষণা খুঁজে পাওয়া যায়নি। গত বছরের জুন মাসে প্রকাশ হওয়া বাংলাদেশে আন্তর্জাতিক নিরাপদ খাদ্য ফোরাম এবং জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার (এফএও) গবেষণা থেকে জানা যায়, উৎপাদন থেকে মানুষের প্লেট পর্যন্ত পৌঁছানোর আগেই প্রায় ১৮ শতাংশ শস্যদানা অপচয় হয়। ১৭ থেকে ৩২ শতাংশ পর্যন্ত অপচয় হয় ফল ও সবজি। মোট অপচয়ের হার হিসেবে বাড়ি বা পরিবার থেকে ৬১ শতাংশ, হোটেল বা রেস্তোরাঁ থেকে ২৬ শতাংশ এবং বাকিটুকু বিক্রয় প্রতিষ্ঠান, সুপার শপ, দোকান ও বাজার থেকে নষ্ট বা অপচয় হচ্ছে। এরও আগে এফএও ২০২১ সালে বাংলাদেশে একটি সমীক্ষা চালিয়েছিল, যেখানে দেখা যায় উচ্চ আয়ের পরিবারে প্রতি মাসে মাথাপিছু ২৬ কেজি খাদ্য নষ্ট বা অপচয় করে।

খাদ্যের অপচয় রোধে সচেতনতার পরামর্শ দিয়েছেন ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ের খাদ্য ও পুষ্টি বিজ্ঞান ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক নাজমা শাহীন। তিনি আমাদের সময়কে বলেন, ‘আমাদের দেশে বাসাবাড়ি পর্যায়ে খাদ্য আপচয় রোধে সচেতনতা সৃষ্টি করা গেলে দেশের খাদ্য নিরাপত্তাহীতার ঝুঁকিও কমে আসবে। এ বিষয়ে সরকারি উদ্যোগের প্রয়োজন রয়েছে।’

বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা অ্যাকশনএইডের পুরনো এক গবেষণা থেকে জানা যায়, দেশে সবচেয়ে বেশি খাবার নষ্ট হয় বিয়ের অনুষ্ঠানে। এর পরই রয়েছে রেস্তোরাঁ। রাজধানীর বেশ কয়েকটি রেস্তোরাঁয় কথা বলে জানা যায়, তাদের রান্না করা খাবারের ১৫ থেকে ২০ শতাংশ নষ্ট বা অপচয় হয়। তবে রান্নার চেয়ে পরিবেশনে বেশি পরিমাণ খাদ্যের অপচয় হয় বলে জানান তারা।

এসডিজির লক্ষ্যমাত্রা পূরণে জাতীয় পর্যায়ে কর্মপরিকল্পনা গাইডলাইনের পরামর্শ দিয়েছেন বাংলাদেশ কৃষি বিশ^বিদ্যালয়ের হর্টিকালচার বিভাগের শিক্ষক ও গবেষক ড. মো. কামরুল হাসান। তিনি বলেন, ‘উন্নত দেশগুলো প্রযুক্তি ব্যবহার করে উৎপাদন পর্যায়ে খাদ্য অপচয় কমিয়ে এনেছে বহুগুণে। আমাদের এ বিষয়ে জোর দিতে হবে। এ ছাড়া খাদ্য অপচয় প্রতিরোধে ন্যাশনাল স্ট্রাটেজি তৈরি করা জরুরি। একটি সঠিক পরিকল্পনা আমাদের খাদ্য অপচয় রোধ করতে পারে।’

 

 

ট্যাগ: