জাতীয়

বাংলাদেশের টুথপেস্টে বিপজ্জনক মাত্রায় প্যারাবেন

নিউজ ডেস্ক১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৪২ মিনিট পড়া

সিল্কসিটি নিউজ ডেস্ক

বাংলাদেশের টুথপেস্ট ও হ্যান্ডওয়াশে উদ্বেগজনক মাত্রায় প্যারাবেন পাওয়া গেছে। প্যারাবেন হলো জেনোস্ট্রোজেন। অর্থাৎ মানবদেহে বিদ্যমান হরমোনের মতোই এর রাসায়নিক গঠন। প্যারাবেনের কারণে হরমোন নিয়ন্ত্রণে ব্যাঘাত, প্রজনন সমস্যাসহ ক্যানসারের ঝুঁকিও সৃষ্টি হয়।

এ ছাড়া টুথপেস্টে ফ্লোরাইডের অতিরিক্ত ব্যবহার হাড়ের ভারসাম্য নষ্টসহ দাঁতের অ্যানামেল গঠনে সমস্যা তৈরি করে। তাছাড়া অতিরিক্ত সোডিয়াম ডাইক্লোরাইড ব্যবহারের ফলে উচ্চ রক্তচাপ, হৃদরোগ, স্ট্রোক এবং কিডনির সমস্যাও সৃষ্টি হতে পারে। গবেষণা সংস্থা এসডোর গতকাল প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এমন তথ্য উঠে আসে।

সাধারণত অধিক কার্যকরী ও সাশ্রয়ী হওয়ার কারণে পারসোনাল কেয়ার প্রোডাক্টে প্রিজারভেটিভ হিসেবে প্যারাবেন ব্যবহার করা হয়। তবে এই ধরনের রাসায়নিক পদার্থ আমাদের হরমোন নিয়ন্ত্রণের জন্য গুরত্বপূর্ণ এন্ড্রোকাইন সিস্টেমের কার্যক্রমকে ব্যাহত করে। এ কারণেই বেশ কয়েকটি দেশ তাদের এ ধরনের পণ্যগুলোতে প্যারাবেনের ব্যবহার সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ করেছে।

গবেষণার জন্য ঢাকার বিভিন্ন দোকান থেকে বহুল ব্যবহৃত টুথপেস্ট ও হ্যান্ডওয়াশের ৩০টি নমুনা ল্যাবে পরীক্ষা করা হয়। গবেষণায় দেখা গেছে, টুথপেস্ট ও হ্যান্ডওয়াশের সব নমুনাতেই নির্ধারিত মাত্রার চেয়ে বেশি মাত্রার রাসায়নিক পদার্থের উপস্থিতি পাওয়া গেছে। নমুনাগুলোতে ফ্লোরাইড (শুধু টুথপেস্টে) ও সোডিয়াম ডাইক্লোরাইডের উপস্থিতি সবচেয়ে বেশি দেখা গেছে। আরও আশঙ্কাজনক বিষয় হলো, প্রাপ্তবয়স্কদের পারসোনাল কেয়ার প্রোডাক্টে ২২টি নমুনার মধ্যে ৫টি পণ্যে সর্বোচ্চ মাত্রায় প্যারাবেনের উপস্থিতি পাওয়া গেছে। এ গবেষণায় সাতটি দেশের নমুনাও বিশ্লেষণ করা হয়। এর মধ্যে বাংলাদেশি পণ্যগুলোতেই সবচেয়ে বেশি মাত্রায় প্যারাবেন ব্যবহার করা হয়।

অনুষ্ঠানে এসডোর নির্বাহী পরিচালক সিদ্দিকা সুলতানা সতর্ক করে বলেন, এগুলো আমাদের শরীরের হরমোন নিয়ন্ত্রণে ব্যাঘাত ঘটাতে পারে এবং প্রজনন সংক্রান্ত জটিলতাও সৃষ্টি করতে পারে। তিনি পারসোনাল কেয়ার প্রোডাক্টে এগুলোর ব্যবহার সীমিত করার জন্য পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান।

 

 

ট্যাগ: