রাজশাহী

এক ধাক্কায় ধুলোয় মিশে গেলো সাদিয়ার ডাক্তার হওয়ার স্বপ্ন

নিউজ ডেস্ক২৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৭৩ মিনিট পড়া

শাহিনুল ইসলাম আশিক:
‘শান্ত মেজাজের মেয়ে ছিলো সাদিয়া। বাড়ি থাকলে মনে হবে না যে কেউ আছে। মা-বাবার কোন কথার বাইরে যাবে না। আর মা-বাবাও তাকেউ খুব ভালোবাসতো। সাদিয়ার মা তাকে খুব ভালোভাবে বড় করে তুলেছিলেন। মেয়েটা সব বিষয়ে খুব ভালো ছিল। যেমন লেখাপড়া, তেমনি নাচ-গানে। তার মায়ের অনেক স্বপ্ন ছিল মেয়েটাকে নিয়ে। এই বছর মেডিকেল লেখাপড়া শেষ। কয়েকদিন পরে ডাক্তার। সেই ডাক্তার হওয়ার স্বপ্ন যেন ধুলোয় মিশে গেলো এক ধাক্কায়।’

আজ রোববার বেলা দুইটার দিকে রাজশাহী মহানগরীর হড়গ্রাম বাজার এলাকায় সাদিয়া নিজ বাড়িতে ফুফু ডা. আনুয়ারা বেগম সিল্কসিটি নিউজকে এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, শনিবার সকাল ১০ টায় মেডিকেলে পরীক্ষা আছে। তাই আগের দিন শুক্রবার রাত সাড়ে ১২টা। রাজশাহী থেকে ঢাকা যাওয়ার জন্য বাস স্টোন্ডে। দেশ ট্রাভেলসের একটি বাসে পাশা-পাশি বসেছিলেন তারা মা মেয়ে। সকালে ঢাকায় নেমে একটি সিএনজিতে রওয়ানা হয় মেডিকেল কলেজের দিকে। সিএনজির পেছনের সিটে সাদিয়া, আর সামনের সিটে মা শাহীনা সুলতানা জলি। হঠাৎ বংশাল থানার নর্থসাউথ রোড এলাকায় একটি বাস এসে সিএনজিকে ধাক্কা দেয়। তার মা জলি ছিটকে পড়ে রাস্তায়। আর মেয়ে সাদিয়ে সিএনজির ভেতরে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে আছে।

তিনি আরো বলেন, জলি রাস্তা থেকে উঠে আশা-পাশের মানুষকে ডাকা-ডাকি করছিলো। যে আমার মেয়েকে কেউ বাঁচাও। কিন্তু কেউ আসেনি। কয়েকটা গাড়ি পাশ কাটিয়ে চলে গেছে। কাউকে যে ফোন দেবে তাই নেই। ব্যাগটা চুরি হয়ে গেছে। সেখানে টাকা, মোবাইল ফোন ও কাগজপত্র ছিলো। সাদিয়ার ব্যাগে থেকে মোবাইল নিয়ে ফোন দেবে তো টাকা ছিলো না। পরে অন্যের মোবাইল থেকে ফোন দেয়। এর পরে একটি গাড়িতে করে সাদিয়াকে মেডিকেলে নিয়ে যাওয়া হয়। মেডিকেলে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

‘সাদিয়া স্কুল ও কলেজ পড়–য়া বান্ধবী শ্রাবনী, পিংকী ও পিউ বলেন, ‘সাদিয়া সরকারী হেলেনাবাদ স্কুল থেকে এসএসসি ও  নিউ গভ. ডিগ্রি কলেজ থেকে এইচএসসিতে জিপিএ-৫ পেয়েছিলো। সে অনেক ভালো ছাত্রী ছিলো। শুধু লেখাপড়ায় নয় নাচ-গানেও ছিলো বেশ ভালো। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নাচ-গান গেয়ে অনেক সম্মান অর্জন করেছে সে। সাদিয়া নাচের চেয়ে গান ভালো গাইতো। তার মা এমন করে মেয়েটাকে তৈরি করেছিলো যে কোন কিছুই তাকে আটকাতে পাড়তো না।

সাদিয়ার বাবা হাসানুজ্জামান বুলু সাবেক পূবালী ব্যাংকের ডিজিএম, মা শাহীন সুলতানা জলি কাশিয়াডাঙ্গা কলেজের সমাজ বিজ্ঞান বিভাগের প্রভাষক ও এক ভাই সিলেটের শাহজালাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিএসসি ইঞ্জিনিয়ার হয়েছেন এই বছর।

এ দুর্ঘটনায় আহত সাদিয়ার মা শাহীন সুলতানা জলির মাথায় তিনটি সেলাই ও মুখের বেশ কিছু অংশ কেটে গেছে। বর্তমানে তেমন কথা বলতে পাড়ছেনা।
এর আগে শুক্রবার মেডিকেল কলেজে তার প্রথম জানাযা হয়। শনিবার রাত সাড়ে আটটার দিকে রাজশাহীতে নিয়ে আসা হলে সেই রাত ১০টার দিকে তাকে হড়গ্রাম করবস্থানে দাফন করা হয়। সাদিয়ার মৃত্যুর খবরে তার নিকট আত্মীয় ও বান্ধবীদের মাঝে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। সাদিয়ার শোকসন্তপ্ত পরিবারকে সমবেদনা জানাতে অনেকই আসছেন।

স/শ