রাজশাহীর খবর

ইজারা নিয়ে অর্পিত সম্পত্তির স্থাপনাও গুড়িয়ে দিচ্ছে রাজশাহী জেলা আ.লীগ

নিউজ ডেস্ক৭ সেপ্টেম্বর ২০২৩৩ মিনিট পড়া
নিজস্ব প্রতিবেদক:
রাজশাহী নগরীতে একটি অর্পিত সম্পত্তি ইজারা নেওয়ার পর এখন সেখানে থাকা স্থাপনা গুড়িয়ে দিচ্ছে জেলা আওয়ামী লীগ। চলতি বছরের শুরুতে নগরীর রানীবাজার এলাকায় কয়েক কোটি টাকা মূল্যের এই জমি জেলা প্রশাসনের কাছ থেকে ইজারা নেওয়া হয়। এই জমির পরিমাণ ১৪ শতাংশ। অথচ নগরীর ডাবতলা এলাকায় রাজশাহী জেলা আওয়ামী লীগের একটি নতুন নির্মিত ভবনও আছে। কয়েক কোটি টাকা ব্যয় ভবনটি ছদ্ম নির্মাণ করা হয়। সাবেক সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান আসাদ এর নেতৃত্বে ওই ভবনটি গড়ে তোলার হয় বলে সেখানে বর্তমান সাধারণ সম্পাদক কাজী আব্দুল ওয়াদুদ দারা এবং তার সমর্থকরা যান না।
দলীয় সূত্র মতে,  নগরীর রানী বাজারের এই জমির একাংশে পুরনো একটি বাড়ি ছিল। গত কয়েকদিন ধরে সেই বাড়িটি ভেঙে ফেলা হচ্ছে। চুন-সুরকি আর ইটের গাঁথুনি দিয়ে করা বাড়িটির অর্ধেক দুপুরের মধ্যেই শ্রমিক দিয়ে ভেঙে ফেলা হয়েছে।  এই বাড়িতে একজন নারী বাস করতেন। জেলা আওয়ামী লীগ জমিটি ইজারা নেওয়ার পর গত ফেব্রুয়ারিতে ওই নারীকে বিতাড়িত করা হয়।

রাজশাহী জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, জেলা আওয়ামী লীগের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে জমিটি তাদের একসনা ইজারা (প্রতিবছর ইজারামূল্য পরিশোধের শর্তে) দেওয়া হয়। ইজারা নেওয়া এই জমিতে স্থায়ী কোন স্থাপনা করা যাবে না। তবে যে স্থাপনা আছে তা সংস্কার করে ব্যবহার করা যাবে। তবে এখন স্থাপনাটি সংস্কার না করে গুড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে। গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, প্রাচীর দিয়ে ঘেরা জমিটির মূল ফটক বন্ধ করে ভেতরে স্থাপনা ভাঙার কাজ চলছে। চারজন শ্রমিক বাড়িটির দেয়ালগুলো ভাঙার কাজ করছেন। এদের একজন রাজশাহীর বায়া এলাকার রাসেল আলী জানান, গত ৮ দিন ধরে তারা বাড়িটি ভাঙছেন। আরও ৭-৮ দিন লাগবে পুরোপুরি ভাঙতে। এই স্থানে নতুন ভবন হবে বলে তারা জানেন। এদিকে, ভাঙার কাজ পরিদর্শন করছিলেন রাজশাহী জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি জাকিরুল ইসলাম সান্টু ও সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুস সামাদ। জানতে চাইলে সান্টু বলেন, জেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয় হবে। তাই পুরনো ভবনটি ভাঙা হচ্ছে।

জানতে চাইলে জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবদুল ওয়াদুদ দারা বলেন, ‘আমরা নিয়ম মেনে জমিটি ইজারা নিয়েছি। ইজারা শর্তে আছে যে স্থায়ী স্থাপনা নির্মাণ করা না গেলেও আমরা সেখানে একতলা টিনশেড ভবন করতে পারব। আগে থেকে যে বাড়িটি ছিল সেটি অনেক পুরনো, ভেতরে ঢোকা যায় না। তাই সেটি ভেঙে একতলা টিনশেড করা হবে।’ ইজারা নেওয়া অর্পিত সম্পত্তিতে স্থাপনা করতেও জেলা প্রশাসনের অনুমতি প্রয়োজন। এ বিষয়ে জানতে চাইলে আবদুল ওয়াদুদ দারা বলেন, ‘আমরা যখন ইজারা নিয়েছি, তখনই তো অনুমতি হয়ে গেছে।’
জানতে চাইলে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মো. আনিসুল ইসলাম বলেন, ‘অর্পিত সম্পত্তি ইজারা নিয়ে সেখানকার স্থাপনা ভেঙে দেওয়ার কোন সুযোগ নেই। আর ইজারা নেওয়া অর্পিত সম্পত্তিতেও নতুন কোন স্থাপনা নির্মাণ করতে হলে জেলা প্রশাসনের অনুমতি লাগবে। আমি যোগদানের পর জেলা আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে এ ধরনের কোন আবেদন পাইনি। জেলা আওয়ামী লীগ কীভাবে কি করছে তা আমি এখনই খোঁজ নেব।’
ট্যাগ: