রাজশাহী

২৭ দিন পরে দেশে ফেরা মরদেহ নিয়ে স্বজনদের আহাজারি

নিউজ ডেস্ক৯ আগস্ট ২০২৩৩ মিনিট পড়া
নিজস্ব প্রতিবেদক :
সৌদি আরবের দাম্মামে ফার্নিচারের কারখানায় আগুনে আটজন বাংলাদেশির মধ্যে সাতজন রাজশাহী অঞ্চলের। আজ বুধবার দুপুরে (৯ আগস্ট) ২৭ দিন পরে নিহতদের মরদেহ দেশে ফিরেছে। এর আগে গত ১৪ জুলাই (শুক্রবার) অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় তাদের মৃত্যু হয়। ঘটনার পরে তাদের মরদেহ হুফুফ কিং ফাহাদ মর্গে রাখা হয়েছিল।
রাজশাহী অঞ্চলের নিহতরা হলেন- রাজশাহীর বাগমারা উপজেলার বারইপাড়ার জফির উদ্দিনের ছেলে রুবেল হোসাইন, একই এলাকার জমিরের ছেলে মোহাম্মদ সাজেদুল ইসলাম, শাহাদাত হোসাইনের ছেলে মো. আরিফ, বাগমারার বড় মাধাইমুরির আনিসুর রহমান সরদারের ছেলে ফিরুজ আলী সরদার, নওগাঁর আত্রাই উপজেলার উদয়পুরের মন্ডল পাড়ার মৃত রহমান সরদারের ছেলে বারেক সরদার (৪৫), একই উপজেলার শাহাগোলা ইউনিয়নের ঝনঝনিয়া গ্রামের মৃত আজিজার প্রামাণিকের ছেলে রমজান আলী (৩৩), নাটোরের নলডাঙ্গার খাজুরা ইউনিয়নের চাঁদপুর গ্রামের মৃত দবির উদ্দিনের ছেলে ওবায়দুল হক (৩৩)।
এদিকে দুপুর পৌনে দুইটার দিকে রাজশাহীর বাগমারা, নাটোর ও নওগাঁর নিহতদের মরদেহ গ্রামের বাড়িতে লাশবাহী গাড়িতে পৌঁছালে স্বজনরা কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন। প্রিয় মানুষকে হারিয়ে আজারি করতে থাকে স্বজনরা। এর আগে নিহতদের মরদেহ দেশে আসার খবরে পরিবারের পক্ষ থেকে জানাজা ও দাফনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়।
দুপুর দুইটা ২০ মিনিটে বাগমারা উপজেলার বারইপাড়ার জফির উদ্দিনের ছেলে রুবেল হোসাইনের জানাযা শেষে পারিবারিক গোরস্থানে দাফন করা হয়।
রুবেলের স্বজনরে জানান, তারা দীর্ঘ ২৭ দিন পরে মরদেহ পেয়েছে। এতদিন তারা নিহত স্বজনের মরদের অপেক্ষায় ছিলেন। দেরিতে হলেও মোর দয়া করে খবর দিতে পেরে সন্তুষ্ট তারা।
এ বিষয়ে বাগমারা উপজেলার নির্বাহী
কর্মকর্তা এ, এফ, এম, আবু সুফিয়ান ঢাকা পোস্টকে বলেন, সৌদি আরবের নিহতদের মধ্যে চারজন বাগমারার। কিছুক্ষণ আগে তাদের মরদেহ এলাকায় নিয়ে আসা হয়। জানাযাও দাফনের প্রস্তুতি চলছে। পরবর্তী 
সময়ে সরকারিভাবে সব ধরনের সাহায্য সহযোগিতা নিহতদের পরিবারকে করা হবে। 
একই ঘটনায় অপর নিহত হলেন, নাটোরের নলডাঙ্গার খাজুরা ইউনিয়নের চাঁদপুর গ্রামের মৃত দবির উদ্দিনের ছেলে ওবায়দুল হক (৩৩)। তারও মরদেহ গ্রামের বাড়িতে পৌঁছেছে।
এ বিষয়ে নাটোরের নলডাঙ্গার ৩নং খাজুরা ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান সোহরাব হোসেন বলেন, ওবাইদুলের মরদেহ পরিবার পেয়েছে। কবর আগে থেকে প্রস্তুত করা ছিল। দুপুর আড়াইটায় চাঁদপুর বাজারে জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হবে।
সৌদি আরবের এ ঘটনায় নওগাঁর আত্রাই উপজেলার উদয়পুরের মন্ডল পাড়ার মৃত রহমান সরদারের ছেলে বারেক সরদার (৪৫), একই উপজেলার শাহাগোলা ইউনিয়নের ঝনঝনিয়া গ্রামের মৃত আজিজার প্রামাণিকের ছেলে রমজান আলীর (৩৩) মৃত্যু হয়। দুপুরে তাদের মরদেহ নিজ নিজ গ্রামের বাড়িতে নিয়ে আসা হয়।
এ বিষয়ে আত্রাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ইকতেখারুল ইসলাম বলেন, নিহতদের মরদের আসার পরে বাদ জোহর দাফন সম্পন্ন হয়েছে।

প্রসঙ্গত, শুক্রবার (১৪ জুলাই) সন্ধ্যায় সৌদি আরবের দাম্মামে ফার্নিচারের  কারখানায় আগুনে আটজন বাংলাদেশির মধ্যে সাতজন রাজশাহী অঞ্চলের। এছাড়া  মাদারীপুরের কালকিনি উপজেলার আলিনগর ইউনিয়নের সস্তাল গ্রামের ইউনুস ঢালী ছেলে জুবায়ের ঢালী।

ট্যাগ: