নিজস্ব প্রতিবেদক:
‘এখানে যে স্লোগান আছে সেই স্লোগান রাজনৈতিক সভায় দেয়া ভালো। আমরা যখন রাজনৈতিক সমাবেশ করি তখন আমাদের স্লোগান দেয়াই ভালো। তবে এখানে সজীব ওয়াজেদের নেতৃত্বের প্রশংসায় স্লোগান দিলে আমি খুশি হতাম। আমাকে ছাত্রলীগ এয়ারপোর্টে ফুল দিয়েছে আবার এখানো ফুল দিচ্ছে। আগামীকাল আমরা যখন রাজনৈতিক সভা করবো তখন ইচ্ছে মত স্লোগান দিবো কেউ বাঁধা দিবে না।
- রাজশাহী কলেজ মাঠে শুক্রবার সকাল থেকে শুরু হওয়া তিন দিনব্যাপী বিভাগীয় ডিজিটাল উদ্ভাবনী মেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ছাত্রলীগের ফুল দেওয়া এবং স্লোগান দেওয়ায় বিরক্ত হয়ে এসব কথা বলেন আওয়ামী লীগরে সাধারণ সম্পাদক, সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।

সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেন, এই মঞ্চে ছাত্রলীগের কোনো স্লোগান দেয়ার কি প্রয়োজন আছে? ছাত্রলীগ আমাকে ফুল দিয়েছে এয়ারপোর্টে। কাল (শনিবার) বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ে যাচ্ছি অনেক সুযোগ আছে। এই মঞ্চটা আলাদা মঞ্চ, এটা ডিজিটাল প্রশাসন আয়োজন করেছে। তাইলে আয়োজক কিন্তু আমাদের লিটন নয়। যদিও লিটন আমাদের রাজশাহীর রাজনীতির প্রাণপুরুষ। কিন্ত আয়োজক তো লিটন নয়। আমিও নই। আমরা প্রশাসনকে অহেতুক কেন রাজনিতিতে জড়াবো? কোন দরকার নেই।
তিনি আরো বলেন, ‘আমাদের রাজনীতির যারা আমাদের কর্মী,যারা আমাদের নেতা, সবাইকে আমি একটা পরামর্শ দিতে চাই। এখানে আমাদের ভাবতে হবে, এই সভার কি বৈশিষ্ট্য। এটা একটা ডিজিটাল মেলা এটা কোনো রাজনৈতিক সভা বা সমাবেশ নয় এবং রাজনৈতিক কোন আলোচনা সভা এটা নয়। কাজেই এখানে রাজনৈতিক কোন স্লোগান দেয়ার কোনো প্রয়োজন নেই। যারা স্লোগান দেয় তারাই আবার হাততালি দেয় সব কিছুতেই আছে। এ হুজুক থেকে বেরিয়ে যেতে হবে। যে আসরে যা গান সেই আসরে তাই গাইতে হবে।’

তিনি বলেন, ডিজিটাল হলো-একটা স্বচ্ছ বিষয়। একটা ভিশণের বিষয়। কাজেই এটাকে ঐভাবেই দেখতে নেই। আমি নেতাকর্মীদের বলবো কাজকর্মে ডিজিটাল হোন। কাজে কর্মে স্মার্ট হতে হবে। টেকনোলজির সাথে আমাদের এগিয়ে যেতে হবে। কিন্তু আচার ব্যাবহারে আমি কাউকে ডিজিটাল হতে বলবো না। আচার ব্যাবহার এনালগ হতে হবে। এখানে আমরা ডিজিটাল চাই না। ডিজিটাল হলে কে কোনটা করে বসে তার ঠিক নাই।’
- প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, অনুষ্ঠানের শুরুতেই রাজশাহী মহানগর ছাত্রলীগের উদ্যোগে মন্ত্রী ওবাইদুল কাদেরকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান মহানগর ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। পরে অনুষ্ঠানস্থলেও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা দলীয় ও নেতাদের নাম ধরে ধরে স্লোগান দিতে থাকেন।এতেই বিরক্ত হন মন্ত্রী ওবাইদুল কাদের।
রাজশাহীর বিভাগীয় ভারপ্রাপ্ত কমিশনার মনির হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম এমপি, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক এবং রাজশাহী মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন, সাধারণ সম্পাদক ডাবলু সরকারসহ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
স/আর











