সিল্কসিটিনিউজ ডেস্ক:
পদ্মা সেতু নির্মাণকে ঘিরে সরকারের বিরুদ্ধে যেসব দেশীয় ও আন্তর্জাতিক মহল চক্রান্তে জড়িত ছিল, তাদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের শীর্ষস্থানীয় নেতারা। পদ্মা সেতু দুর্নীতি মামলাকে কানাডার আদালত ‘অনুমানভিত্তিক ও গুজব’ অভিহিত করার পর চক্রান্ত ও ষড়যন্ত্রকারীদের চিহ্নিত করার দাবি জানিয়েছে আওয়ামী লীগ।
পদ্মা সেতুর দুর্নীতিকে হাতিয়ার করে কারণে-অকারণে সরকারকে চাপে ফেলতে যারা অব্যাহতভাবে তথ্যসন্ত্রাস চালিয়েছে, কানাডা আদালতের রায়ের পর তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারে বলে মনে করছে ক্ষমতাসীন দলটি। জাতির কাছে তথ্যসন্ত্রাসীদের প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়া উচিত বলেও মনে করে আওয়ামী লীগ।

আওয়ামী লীগের নীতি-নির্ধারকরা মনে করেন, পদ্মা সেতু নিয়ে দুর্নীতির অভিযোগ সরকারের বিরুদ্ধে গভীর ষড়যন্ত্র ও সরকার উৎখাতের অপপ্রয়াস ছিল। শেখ হাসিনার সরকারকে প্রশ্নবিদ্ধ করাই ছিল ষড়যন্ত্রকারীদের মূল লক্ষ্য। এর নেপথ্যে জড়িত ছিলেন দেশের মানুষজনই। কানাডার আদালতের রায়ের পর পদ্মা সেতু দুর্নীতি মামলা যে কাল্পনিক, মিথ্যা ও সরকারের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র ছিল, তা প্রমাণিত হয়েছে। সুতরাং এর বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা না হলে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্রকারীরা ভবিষ্যতে এ ধরনের আরও সুযোগ নেওয়ার চেষ্টা করবে।
এদিকে বর্তমান সরকারের দু’জন মন্ত্রী জানান, কানাডার আদালতের রায়ের প্রেক্ষিতে পুরো বিষয়টি পর্যালোচনা করবে সরকার। এক্ষেত্রে নিশ্চয়ই প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে। আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে কিনা সেই সিদ্ধান্ত নিতে হলে রায়ের পুরো বিষয়টি বুঝতে হবে। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বসে তার পরামর্শ অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করবে সরকার। এক্ষেত্রে দলীয় পরামর্শও নেওয়া হতে পারে।
এ বিষয়ে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য কাজী জাফরউল্যাহ বলেন, ‘ষড়যন্ত্রকারীদের বিরুদ্ধে কি ব্যবস্থা নেওয়া উচিত, তা নিয়ে দলগতভাবে আগামী কার্যনির্বাহী সংসদের সভায় সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। তবে অবশ্যই আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত।’
আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মাহাবুবউল আলম হানিফ, সাংগঠনিক সম্পাদক খালিদ মাহমুদ চৌধুরী ও সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য মোহাম্মদ নাসিমের মন্তব্য, কানাডার আদালত এই দুর্নীতির মামলাকে গুজব ও অনুমাননির্ভর উল্লেখ করার মাধ্যমে শেখ হাসিনার চ্যালেঞ্জকে বাস্তব রূপ দিয়েছে। কারণ তিনি বরাবরই বলে এসেছেন,পদ্মা সেতু নিয়ে কোনও দুর্নীতি হয়নি। শুধু তা-ই নয়, বিশ্বব্যাংক ফিরে গেলেও শেখ হাসিনার সৎ সাহস ছিল বলে পদ্মা সেতুর কাজ নিজ উদ্যোগে শুরু করেছে তার সরকার। ধীরে ধীরে পদ্মা সেতু বাস্তবে রূপ নিতে শুরু করেছে।
ষড়যন্ত্রকারীদের বিরুদ্ধে আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণে কি করা যেতে পারে প্রশ্নের জবাবে আওয়ামী লীগের আইন সম্পাদক অ্যাডভোকেট আব্দুল মতিন খসরু বলেন, কানাডিয়ান আদালতের রায় হাতে আসার পর তা পর্যালোচনা করে সরকার নিশ্চয়ই পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করবে। তার আগে সরকারপ্রধান শেখ হাসিনার পরামর্শ গ্রহণ করতে হবে, তিনি কোন প্রক্রিয়ায় বিষয়টি মোকাবেলা করবেন তা জানতে হবে।
প্রসঙ্গত, দুর্নীতির অভিযোগে ২০১১ সালে পদ্মা সেতুর কাজ বন্ধ করে দেয় এর প্রধান অর্থায়নকারী প্রতিষ্ঠান বিশ্বব্যাংক। তাদের অনুরোধে কানাডার পুলিশ সে দেশের দুই নির্মাণ প্রতিষ্ঠান এসএনজি ও লাভালিন ইন্টারন্যাশনালের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করে। ২০১২ সালে কানাডার আদালতে এ ব্যাপারে অভিযোগ দায়ের করা হয়। ২০১৩ সালে বিশ্বব্যাংক পদ্মা সেতুর নির্মাণ কাজে দুর্নীতির ঘটনায় এসএনসিকে ১০ বছরের জন্য নিষিদ্ধ ঘোষণা করে এবং পদ্মা সেতুর অর্থায়ন থেকে সরে দাঁড়ায়।
তবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিশ্বব্যাংকের পিছিয়ে যাওয়ার পেছনে গ্রামীণ ব্যাংকের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে দায়ী করেন। পদ্মা সেতু প্রকল্পে দুর্নীতির মামলাকে ‘অনুমানভিত্তিক’ ও ‘গুজব’ বলে উল্লেখ করেছেন কানাডার একটি আদালত। একই সঙ্গে পদ্মা সেতুতে দুর্নীতির অভিযোগে ২০১৩ সাল থেকে বিশ্বব্যাংকের কোনও উন্নয়ন প্রকল্পে ১০ বছরের জন্য নিষিদ্ধ ঘোষিত কানাডীয় প্রতিষ্ঠান এসএনসি’কেও ‘নির্দোষ’ বলে রায়ে উল্লেখ করেছেন ওই আদালত।
শুক্রবার (১০ ফেব্রুয়ারি) কানাডার পত্রিকা টরন্টো স্টার জানায়, মামলার বিচারক ইয়ান নরডেইমার গত মাসে এই রায় দিলেও এতো দিন তা প্রকাশে বাধা ছিল।
সূত্র: বাংলা ট্রিবিউন









