শাহারিয়ার রহমান রকি, ঝিনাইদহ:
ঝিনাইদহের শৈলকুপার রামচন্দ্রপুর গ্রামের ধান ক্ষেত থেকে উদ্ধার হওয়া মস্কক বিহীন লাশের পরিচয় মিলেছে।

তিনি হলেন, জেলার হরিনাকুন্ডু উপজেলার হিঙ্গেরপাড়া গ্রামের আয়ুব হোসেনের ছেলে ইছানুল হক (২৬)।
দ্বিতীয় স্ত্রীর সাথে বিরোধের জেরেই তাকে হত্যা করা হয়েছে বলে পরিবারের লোকজন দাবি করেছেন।
নিহতের বড় চাচা নুর মোহাম্মদ সিল্কসিটি নিউজকে জানান, ইছানুল হক চুয়াডাঙ্গা জেলার ৯ মাইল এলাকার মতলেব মিয়ার আর এম ইট ভাটায় সরদারির কাজ করতো। কাজ করা অবস্থায় নিজ গ্রাম হিঙ্গের পাড়ার রশিদুল ইসলামের স্ত্রী দুই সন্তানের জননী তারাপী বেগমের সাথে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। এরই জেরে গেল দুই বছর আগে প্রথম স্ত্রী থাকা অবস্থাই তাদের বিয়ে হয়। এরপর বিভিন্ন সময় তাদের মধ্যে নানা বিষয় নিয়ে বিরোধ চলে আসছিল। এরই জের ধরে গেল ২ মাস আগে ইছানুলের দ্বিতীয় স্ত্রী তারাপী বেগম স্বামীর বাড়ি ত্যাগ করে শৈলকুপা উপজেলার রামচন্দ্রপুর গ্রামের ফুপুর বাড়িতে চলে যায়।
তিনি আরো জানান, এর মধ্যে একবার ফোনে স্ত্রীর সাথে যোগাযোগ হয়েছিল ইছানুলের। পরে সে আমাকে বলেছিল চাচা আমি যদি ওর ফুপু বাড়িতে যায় আর এরপর যদি আমার কোন খোজ না পাউ তাহলে মনে করবে ওরা আমাকে হত্যা করেছে। এভাবে গত বৃহস্পতিবার বিকালে ইছানুল শৈলকুপার রামচন্দ্রপুর গ্রামের ফুপু শাশুড়ীর বাড়ির উদ্দেশ্যে বের হয়। পরে তার আর কোন খোজ পাওয়া যায়নি। এরপর শুক্রবার তার মস্তক বিহীন লাশ উদ্ধার করা হয়।
নিহতের প্রতিবেশী লিটন বিশ্বাস জানান, আমরা শনিবার সকালে শৈলকুপা থানায় গিয়ে লাশ সনাক্ত করি। পরে জানতে পারি উপজেলার ত্রিবেনী স্বশানঘাটে ইছানুলকে জবাই করে হত্যার পর মস্তক আলাদা করে দেহ রামচন্দ্রপুর গ্রামে তারাপী বেগমের ফুপু বাড়ির পাশের ধান ক্ষেতে ফেলে রাখে। আমাদের বিশ্বাস তারাপী বেগম ও তার লোকজন মিলে ইছানুলকে হত্যা করেছে। আমরা এ ঘটনার সঠিক বিচার চাই।
এ ব্যাপারে শৈরকুপা থানার ওসি তরিকুল ইসলাম জানান, গতকালই হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে পুলিশ বাদী মামলা হয়েছে। হত্যাকাণ্ডের সাথে কারা জড়িত, কেনই বা তাকে হত্যা করা হয়েছে সে ব্যাপারে আমাদের জোর তদন্ত চলছে। অতি শীঘ্রই হয়তো আমরা আসামীদের গ্রেফতার করতে পারবো।
উল্লেখ্য, শুক্রবার সকাল ১০ টার দিকে শৈলকুপার রামচন্দ্রপুর গ্রামের ধান ক্ষেত থেকে ইছানুলের মস্তক বিহীন লাশ উদ্ধার করা হয়। তবে তার মস্তক এখনও পাওয়া যায়নি। তবে লাশ ময়নাতদন্ত শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
স/অ









