জাতীয়

‘সরকার চাইলে বিচার পাবো’

নিউজ ডেস্ক৯ ফেব্রুয়ারি ২০১৭৩ মিনিট পড়া

সিল্কসিটিনিউজ ডেস্ক :‘আমি সত্যি এখন আর বিচারের আশা করি না। পাঁচ বছরে অনেক তদন্ত হলো, কিছুই বের হলো না- এটাও বিশ্বাস করি না। আমার সাগর-রুনি খুন হওয়ার পর কতকিছু দেখলাম। না, আমি কারোর নাম উচ্চারণ করবো না। কিন্তু আমি জানি কারা কী করতে চায়, কারা কী করেছে। আমি একা মানুষ, আমার ক্ষমতা নেই তাদের বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর, কিন্তু আমি নির্বোধ না।’  পাঁচ বছরেও সন্তান হত্যার বিচার না পেয়ে নিহত সাংবাদিক সাগর সরওয়ারের মা সালেহা খানম এভাবেই ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

সন্তান হত্যার পাঁচ বছরের মাথায় এসে সাগরের মা বলেন, ‘ছেলেতো চলেই গেছে। কিন্তু মৃত্যুরহস্য উন্মোচিত না হওয়া যন্ত্রণার। আর এসব নিয়ে কথা বলতে ইচ্ছে করে না। কোনও লাভ নেই। এই তদন্তের ফল পেতে চাইলে সরকারের সদিচ্ছা থাকতে হবে এটুক মনে হয় সবসময়।’

৭ ফেব্রুয়ারি সকালে পুরান ঢাকার নওয়াবপুরের বাসায় সাগর সরওয়ারের মা বলেন, ‘সাংবাদিকেরা এ মাসের এ সময়টাতে আসবে আমি জানি। তোমাদের কিই-বা করার আছে, সেটাও বুঝি। কিন্তু তদন্ত নিয়ে, বিচার নিয়ে কোনও কথা বলতে চাই না।’

বসার ঘরের দেয়ালে সাগর-রুনি আর মেঘের একটি ছবি ঝুলছে। সেদিকে তাকিয়ে তিনি বলেন, ‘আমি সব হারিয়েছি। আমার ছেলের হত্যার পর আমাকে কোনোকিছুই জানানো হয়নি। তার বাড়ির সিলগালা করা হলো কিনা, কবে কার হাতে চাবি দেওয়া হলো সেসবের কিছুই আমাকে জানানো হয়নি। আমিওতো মা, ওই বাড়িতে আমার সন্তানওতো নিহত হয়েছে।’.

বাসার দেয়ালে সাগর-রুনির ছবি

ক্ষোভের কথা সেসময়ের তদন্ত কর্মকর্তাকে বলেছেন জানিয়ে এই মা বলেন, ‘তদন্ত কর্মকর্তা বলেছেন বাড়ির চাবি বাদীকে বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছিল। আমার সন্তানের একমাত্র চিহ্ন নানী-মামাদের সঙ্গে থাকতে স্বস্তিবোধ করে, থাকুক। কিন্তু সে তো আমার বংশের চিহ্ন, কাছে পেলে ভালো লাগে।’

সব কথার মধ্যে একটাই কথা, ‘বিচার হলো না। সরকার চাইলে আমি বিচার পাবো এ বিশ্বাস নিয়ে বেঁচে আছি।’

২০১২ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি সকালে রাজধানীর পশ্চিম রাজাবাজারের বাড়িতে সাংবাদিক দম্পতি সাগর সরওয়ার ও মেহেরুন রুনির ক্ষতবিক্ষত লাশ পাওয়া যায়। সাগর তখন মাছরাঙা টেলিভিশনে আর রুনি এটিএন বাংলায় কর্মরত ছিলেন।

এরপর থেকে তদন্ত চলছে, একের পর এক তদন্ত সংস্থা ও তদন্ত কর্মকর্তা পরিবর্তিত হয়েছে। সব কর্মকর্তাই পরিবারগুলোর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন, আশার বাণী শুনিয়েছেন। তবে পাঁচ বছরেও রহস্যের কুলকিনারা মেলেনি। কান্নাভেজা গলায় সাগর রুনির পারিবারিক ছবি উল্টে সাগরের মা বলেন, ‘তদন্তকারীদের ওপর আমার আর ভরসা নেই। তারা তদন্ত প্রতিবেদন দেবে এই আশা এখন করতে পারছি না, এখন ভরসা শুধু আল্লাহ।’

৮ ফেব্রুয়ারি ঢাকার মহানগর হাকিম মাজহারুল ইসলাম সাগর-রুনি হত্যা মামলার তদন্তের অগ্রগতি সম্পর্কে তদন্ত কর্মকর্তা র‌্যাবের এএসপি মহিউদ্দিনকে আগামী ২১ মার্চ প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন।

হত্যা রহস্য উন্মোচনের প্রশ্নে মামলার বর্তমান তদন্তকারী কর্মকর্তা র‌্যাব সদর দফতরের তদন্ত ও ফরেনসিক শাখার সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) মহিউদ্দীন আহমেদ বলেন, ‘খুনিদের খুঁজে বের করতে নানাভাবে চেষ্টা করা হচ্ছে। সন্দেহভাজন ১৩০ জনের একটি তালিকা করা হয়েছে। আদালতের দিক নির্দেশনা পাওয়া গেছে। তদন্ত চলছে।’

ছেলের মৃত্যুর পর থেকে ধীরে ধীরে শারীরিকভাবে ভেঙে পড়া সাগরের মা এখন মেয়ের সঙ্গে থাকেন। তিনি বলেন, ‘আমাকে আগে এলাকার কেউ চিনতো না। সাগর খুন হওয়ার পর এলাকার সবাই আমাকে চিনলো। ওরা আমাকে নানাভাবে স্বান্তনা দিতে চায়। নাতিকে (মেয়ের সন্তান) স্কুলে নিয়ে গেলে স্কুলশিক্ষকরা বলেন, আপনিতো এখন আমাদের সবার মা।’

 

সূত্র :বাংলা ট্রিবিউন