রাজশাহী

রাজশাহীতে জেঁকে বসেছে শীত

নিউজ ডেস্ক৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৭২ মিনিট পড়া

সিল্কসিটিনিউজ ডেস্ক :

মাঘের শেষের দিকে পদ্মাপাড়ের রাজশাহীতে আবারও বেড়েছে শীতের দাপট। কাঁচের মত স্বচ্ছ শিশির বিন্দুগুলো ভর করেছে সবুজ প্রকৃতিতে। ভোর থেকে দুপুর পর্যন্ত ঘন কুয়াশার চাদরে ঢাকা থাকছে রাজশাহী।

স্থানীয় আবহাওয়া অফিস বলছে, শুক্রবার (৩ ফেব্রুয়ারি) রাজশাহীতে সূর্যোদয় হয়েছে ভোর ৬টা ৪৭ মিনিটে। তবে সকাল সোয়া ৮টা পর্যন্ত সূর্যের মুখ দেখা যায়নি। বর্তমানে দৃষ্টিসীমা ২শ’ মিটারের নিচে নেমে এসেছে।

ভোর থেকে প্রধান সড়কগুলোতে হেড লাইট জ্বালিয়ে যানবাহন চলাচল করতে দেখা যাচ্ছে। বেলা যতই বাড়ছে কুয়াশাও যেন আড়মোড়া দিয়ে প্রকৃতির সব কিছুকে কোলের মধ্যে টেনে নিচ্ছে। তার ওপর বেড়েছে শীতের তীব্রতা।

দুপুর পর্যন্ত সূর্যের তাপ না থাকায় হাড় কাঁপানো শীতে কাবু হয়ে পড়ছেন শহরের পথে-ঘাটে থাকা ছিন্নমূল মানুষ। এবার সময়ের আগেই যেন শক্তি হারিয়েছিল শীত। কিন্তু তাপমাত্রা কমায় আবারও বাড়ছে শীতের দাপট।

রাজশাহী আবহাওয়া অফিসের জ্যেষ্ঠ পর্যবেক্ষক নজরুল ইসলাম জানান, শুক্রবার রাজশাহীতে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১১ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এরআগে বৃহস্পতিবার ছিল ১২ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস। ফলে তাপমাত্রা কমেছে ১ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস। সকাল ৬টায় বাতাসের আদ্রতা ছিল ৯৯ শতাংশ।

এক প্রশ্নের জবাবে নজরুল ইসলাম বলেন, মাঘের শেষে এমন কুয়াশা পড়া অনেকটা স্বাভাবিক। সাধারণত এই কুয়াশা শীতের বিদায় বারতারই জানান দিচ্ছে। প্রকৃতিতে কুয়াশার ঘোর কাটলেই ১০/১২ দিনের মধ্যে রোদের তীব্রতা দ্বিগুণ হবে।

এদিকে, এমন ঘন কুয়াশা অব্যাহত থাকলে কৃষিতে ক্ষতি হবে বলে আশঙ্কা করছেন এ অঞ্চলের কৃষকরা। এই সময়টায় এসে কুয়াশার কারণে বরাবরই বোরো বীজতলা ও রবি ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়। বিশেষ করে বোরোতে কোল্ড ইনজুরি ও আলুতে লেটব্লাইট (পচন) দেখা দেয়। তবে পরস্থিতি মোকাবেলায় প্রস্তুতি রয়েছে বলে জানিয়েছে কৃষি বিভাগ।

রাজাশাহী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপপরিচালক দেব দুলাল ঢালী বলেন, এ বছর শুরু থেকেই শীতের প্রকোপ কম। তবে শেষ সময়ে এমন আবহাওয়া রবি শস্যের জন্য কাল হয়ে উঠতে পারে। তাই কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা সতর্ক রয়েছেন।

বর্তমানে জেলা, উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ের কৃষি কর্মকর্তারা মাঠ পরিদর্শন করছেন। ফসলকে নিরাপদ রাখতে কৃষকদের সব ধরনের পরামর্শ দিচ্ছেন তারা।

এছাড়া কৃষকরাও আগের চেয়ে অনেক বেশি সচেতন হয়ে উঠেছেন। মোবাইল অ্যাপস ও হট লাইনের মাধ্যমে ২৪ ঘণ্টাই কৃষি তথ্য সেবা নিচ্ছেন। সেই মতে ফসলের পরিচর্যাও করছেন বলে জানান কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের এই ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা।

স/তা