নিজস্ব প্রতিবেদক:
তিনি সন্তান জন্ম দিয়েছিলেন গত ১৯ জানুয়ারি। এরপর কয়েকবার ছেলে সন্তানটির মুখ দেখেছিলেন তিনি। কিন্তু তার ঘন্টা ছয়েকের মাথায় সন্তানটি চুরি হয়ে যায়। সেই থেকে ছেলেকে পাওয়ার আশায় পথ চেয়ে বসেছিলেন মা মুক্তি খাতুন। কখন বুকে ফিরে আসবে তার আদরের ধন-এমন বেদনার প্রতিক্ষার প্রহর গুনছিলেন তিনি। শেষ পর্যন্ত গতকাল শনিবার সন্ধ্যায় নিজের সন্তানকে ফিরে ফিরে পান মুক্তি খাতুন।

এসময় তিনি আবেগাপ্লুত হয়ে বলেন, ‘আমি খুব খুশি। এতো খুশি যে বলে বুঝাতে পারবো না। যেন নতুন করে এখন থেকে সব আবার শুরু করতে পারবো। এই কয়দিন ছেলে হারানোর শোকে কিভাবে পার করেছি বলতে পারবো না। আমার বুকের ধন আমি ফিরে পেয়েছি-এটাই আমার কাছে বড় পাওয়া।’
প্রসঙ্গত, গত ১৯ জানুয়ারি রাজশাহী নগরীর নওদাপাড়া এলাকায় অবস্থিত আরবান হেলথ কেয়ারে জন্ম নেয় মুক্তির ছেলে সন্তানটি। পরে রাত সাড়ে নয়টার দিকে ক্লিনিক থেকেই চুরি হয়ে যায় নবজাতকটি। ঘটনার আটদিন পরে গত শুক্রবার নবজাতকটি উদ্ধার করা হয় নগরীর টিকাপাড়া বাসার রোডের একটি ভাড়া বাড়ি থেকে। এসময় পুলিশ শাহিন আক্তার শুভ্রা নামের এক নারীকেও গ্রেপ্তার করে। যে নারীই মুক্তিকে সহযোগিতার কথা বলে ওই ক্লিনিকে ভর্তি করে। এরপর সিজারিয়ানের মাধ্যমে সন্তান প্রসব করেন মুক্তি। কিন্তু তার পরেই চুরি করে নিয়ে আসেন শুভ্রা।
- শনিবার দুপুরে আদালত শিশুটিকে তার মা মুক্তি খাতুনের জিম্মায় দিয়ে দিতে বলেন। একই সঙ্গে নবজাতক চুরির সঙ্গে জড়িত চিকিৎসক পত্নি শাহিন আকতার শুভ্রাকে জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন আদালত। রাজশাহী মেমট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-৩ এর বিচারক জাহিদুল ইসলাম এ নির্দেশ দেন।
এদিকে নগরীর শাহ মখুদম থানার এসআই ও মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মতিয়ার রহমান জানান, মাস দুয়েক আগে শুভ্রার গর্ভজাত সন্তান নষ্ট হয়ে যায়। এরপরও তিনি নিজেকে গর্ভজাত হিসেবেই চলাফেরা করতেন। আর ওই সময় থেকেই তিনি একটি ছেলে সন্তান চুরি করে নিজের সন্তান হিসেবে লালন-পালন করার পরিকল্পনা করেন। সেই পরিকল্পনা অনুযায়ী তিনি মাঠে নামেন গর্ভজাত মেয়েদের সহযোগিতার নাম করে। অবশেষে গত ১৯ জানুয়ারি নওদাপাড়া ক্লিনিক থেকে প্রসূতি মুক্তি খাতুনের জন্ম নেওয়া শিশুটিকে চুরি করেন শুভ্রা। এরপর বাড়িতে নিয়ে গিয়ে তিনিই বাচ্চাটি প্রসব করেছেন বলে আশে-পাশের লোকজনকে জানান। এমনকি ঢাকায় থাকা চিকিৎসক স্বামী আক্তারুজ্জামানসহ পরিবারের অন্য সদস্যদেরও ছেলে হওয়ার বিষয়টি জানান শুভ্রা।
- মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা আরো জানান, একটি ছেলে সন্তানের জন্যই শুভ্রা ক্লিনিক থেকে ওই নবজাতকটিকে চুরি করে। তাঁর একটি মেয়ে রয়েছে। তবে স্বামীর সঙ্গে বনিবনা না হওয়ায় তিনি আলাদা বসবাস করায় শুভ্রা চুরি করা ছেলে সন্তানকেই নিজের মতো করে মানুষ করার জন্য এই পরিকল্পনা করেন বলে প্রাথমিকভাবে জিজ্ঞাসাবাদে তিনি জানিয়েছেন। তবে তাঁকে আরো জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। এর পেছনে বড় কোনো কারণ আছে কিনা সেটি খতিয়ে দেখতে তাঁকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।
পারিবারিক সূত্র মতে, শুভ্রা রাজশাহীর নর্থ বেঙ্গল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভর্সিটির সহকারী পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক হিসেবে কর্মরত। তাঁর স্বামী ডা. আক্তারুজ্জামান রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে কর্মরত। তবে আক্তারুজ্জামান বর্তমানে ঢাকায় একটি প্রশিক্ষণে রয়েছেন। পারিবারিক কলোহের জের ধরে আক্তারুজ্জামান গত ৮-৯ মাস ধরে বাড়ির বাইরে থাকেন। আর তাঁর স্ত্রী শুভ্রা একমাত্র মেয়েকে নিয়ে নগরীর টিকাপাড়া বাসার রোড এলাকায় ‘সপ্তর্ষি’ নামের একটি বাড়িতে ভাড়া থাকতেন।
স/আর









