রাজশাহী

রাজশাহীতে ক্লিনিক থেকে নবজাতক চুরি: একমাত্র সন্তান হারিয়ে বিমর্ষ মা

নিউজ ডেস্ক২২ জানুয়ারি ২০১৭৩ মিনিট পড়া

নিজস্ব প্রতিবেদক:

রাজশাহী নগরীর নওদাপাড়া এলাকায় অবস্থিত নগর মাতৃ সদন আরবান প্রাইমারী হেলথ কেয়ার থেকে অভিনব কায়দায় চুরি হওয়া নবজাতকটির মা মুক্তি খাতুন বিমর্ষ হয়ে পড়েছেন। এমকাত্র ছেলে সন্তান জন্ম নেওয়ার পরপরই কয়েকবার তার মুখ দেখতে পেয়েছিলেন তিনি। এরপর কেটে গেছে দ্ইুদিন। কিন্তু সেই সন্তানের আর মুখ দেখতে পাচ্ছেন না অচেনা এক প্রতারক চোরের কারণে। অজ্ঞাত ওই নারী চোর মুক্তির সন্তানটিকে চুরি করে নিয়ে গেছে। আজ রবিবার পর্যন্ত তার সন্ধান মেলাতে পারেনি পুলিশ।

 

  • এদিকে সন্তানের খোঁজ না পাওয়ার কারণে একেবারে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন মা মুক্তি খাতুন। খাওয়া-দাওয়াও ছেড়ে দিয়েছেন তিনি। উপায়ন্তর না দেখে ক্লিনিকেই তার চিকিৎসা চলছে। অথচ নিয়ম অনুযায়ী গতকাল সকালেই সন্তান নিয়ে বাড়ি ফেরার কথা ছিল তার। কিন্তু সন্তান জন্ম দেওয়ার পর সেটি কয়েক ঘন্টার ব্যবধানে চুরি হয়ে যাওয়ার খবরে তিনি আরো অসুস্থ হয়ে পড়েছেন বলে জানিয়েছেন তাঁর স্বজনরা। ফলে বাড়িতে না পাঠিয়ে তাকে চিকিৎসার জন্য ক্লিনিকেই রাখা হয়েছে।

 
এর আগে গত বৃহস্পতিবার (১৯ জানুয়ারি) বিকেল তিনটার দিকে একটি ছেলে সন্তান জন্ম দেন রাজশাহীর পবা উপজেলার চরশ্যামপুর এলাকার দিনমজুর নাসির উদ্দিনের স্ত্রী মুক্তি খাতুন। এরপর ওইদিন রাত সাড়ে নয়টার দিকে একজন নারী প্রতারক মুক্তির নবজাতকটিকে কৌশলে চুরি করে নিয়ে যায়।

 
পুলিশ এ ঘটনায় সহযোগিতা করার অপরাধে তোহুরা খাতুন নামের এক নারীকে গ্রেপ্তার করেছে। তবে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে গতকাল ৫ দিনের রিমান্ড চেয়ে আদালতের মাধ্যমে তাঁকে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে। এছাড়া ওই ক্লিনিকের নার্স এলিজাবেথকে আটকের পর জিজ্ঞাসাবাদ শেষে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।

 

জানতে চাইলে নগরীর শাহমখদুম থানার ওসি জিল্লুর রহমান জানান, নবজাতকটিকে যে নারী চুরি করে নিয়ে গেছে তার এখনো পরিচয় নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে অজ্ঞাত ওই নারী নিজেকে দাতা সংস্থার কর্মী পরিচয় দিয়ে নবজাত ও প্রসূতি নিয়ে কাজ করার নাম করে রাজশাহীতে আসে। সে আরবান ক্লিনিকগুলোতে কৌশলে গর্ভবতী নারীদের নাম-ঠিকানা নিয়ে তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে থাকে। সঙ্গে আরবান হেলথ কেয়ারের মাঠকর্মী ও সুপারভাইজারদেরও সে সহযোগিতা নিয়েছিল।

 

এরপর তাদের দেওয়া তথ্য মতেই পবার দুর্গম চরাঞ্চলের বাসিন্দা হতদরিদ্র নাসির উদ্দিনের বাড়িতে যায় ওই নারী। নাসির উদ্দিনের গর্ভবতী স্ত্রী মুক্তি খাতুনকে সহযোগিতা করার কথা বলেই তাঁকে বৃহস্পতিবার দুপুরে নওদাপাড়ায় অবস্থিত নগর মাতৃ সদন আরবান প্রাইমারী হেলথ কেয়ারে নিয়ে যায় মুক্তি খাতুনকে। এরপর ওইদিন বিকেলেই সিজারের মাধ্যমে একটি ছেলে সন্তান জন্ম দেন মুক্তি খাতুন।

 
পরে রাতে শিশুটিকে চুরি করে নিয়ে অজ্ঞাত ওই নারী। এসময় ক্লিনিকে নগরীর দাশমারী এলাকার বাসিন্দা ও আরবান হেলথ কেয়ারের মাঠকর্মী তোহুরা খাতুনও ছিলেন।

 

  • ওসি বলেন, আমরা তোহুরা খাতুনকে অনেক জিজ্ঞাসাবাদ করেছি। কিন্তু সে ওই নারী সম্পর্কে কোনো তথ্যই দিতে পারেনি। তারপরেও তাকে আরো ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ৫ দিনের রিমান্ড চেয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে। আজ রবিবার রিমান্ড শুনানী হওয়ার কথা রয়েছে।’

 
এদিকে মামলার বাদী ও নবজাতকটির নানী রোজিনা খাতুন জানান, তার নাতি চুরি হওয়ার পর থেকেই মেয়ে মুক্তি খাতুন বিমর্ষ হয়ে পড়েছে। এমনিতেই সিজারিয়ান অপারেশনে কাতর হয়ে আছে। প্রথম সন্তানটি জন্ম নেওয়ার পরপরই তাকে হারানোর দু:খে আরো ভেগে পড়েছেন তিনি। ফলে শারীরিকভাবে আরো অসুস্থ হয়ে পড়েছেন মুক্তি। এ কারণে গতকাল শনিবার ক্লিনিক থেকে ছুটি দেওয়ার কথা থাকলেও সেখানে রেখেই তাঁকে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

 
মুক্তির স্বামী দিনমজুর নাসির উদ্দিনও ভেঙে পড়েছেন অনেকটা। তিনি কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘এভাবে প্রতারণা করে আমার সন্তানকে চুরি করে নিয়ে যাবে-তা কখনোই ভাবিনি। জানতে পারলে শত কষ্ট হলেও সিজারের জন্য যা খরচ হতো-ত সংগ্রহ করতাম।’

 

স/আর