অপরাধ ও দুর্নীতি

এমপি লিটনের এক খুনির ক্যাপ পুলিশের হাতে!

নিউজ ডেস্ক৬ জানুয়ারি ২০১৭৪ মিনিট পড়া

সিল্কসিটিনিউজ ডেস্ক:

গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে সরকারদলীয় সংসদ সদস্য মঞ্জুরুল ইসলাম লিটন হত্যা মামলা তদন্তে একটি গুরুত্বপূর্ণ আলামত পাওয়ার কথা জানিয়েছে পুলিশ। লিটনের বাড়ির পাশ থেকে একটি ক্যাপ উদ্ধার করা হয়েছে, যেটি খুনিদের একজনের বলে পুলিশ মনে করছে।

 

স্থানীয় কিশোররা ক্যাপটি পেয়ে পুলিশকে দেয়। স্থানীয় পুলিশ জানায়, ডিএনএ পরীক্ষার জন্য ক্যাপটি ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। পুলিশের ধারণা, ক্যাপটির ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের মধ্য থেকে প্রকৃত খুনিকে শনাক্ত করা সহজ হবে।

 

লিটন হত্যার ঘটনায় স্থানীয় সব মহলের সন্দেহ এখনো জামায়াত-শিবিরের দিকেই। দীর্ঘদিনের ঘটনাপ্রবাহের ধারায় একে একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড বলে মনে করছে পুলিশ। তবে তদন্তে যাতে কোনো ফাঁক না থাকে সে লক্ষ্যে পারিবারিক বিষয়, দলীয় কোন্দল, জেলা পরিষদ নির্বাচনসহ অন্যান্য বিষয়ে বিরোধও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

 

গত ৩১ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় মোটরসাইকেলে করে আসা তিন যুবক গাইবান্ধা-১ আসনের এমপি মঞ্জুরুল ইসলাম লিটনের বাড়িতে ঢুকে গুলি করে তাঁকে হত্যা করে। ওই দিনই লিটনের বাড়ির সামনে গাবগাছের দক্ষিণ দিকে একটি কালো রঙের ক্যাপ পাওয়া যায়। বাড়ির সামনের মাঠে সে সময় যেসব শিশু-কিশোর ক্রিকেট ও ভলিবল খেলছিল তারাই ক্যাপটি কুড়িয়ে পেয়ে পুলিশকে দেয়।

 

কয়েকজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করে পুলিশ জেনেছে, যে দুজন খুনি লিটনকে হত্যা করার জন্য ঘরের ভেতর ঢুকেছিল তাদের পরনে ছিল কালো রঙের জ্যাকেট, কালো প্যান্ট আর মাথায় ছিল কালো রঙের ক্যাপ। পুলিশের ধারণা, গুলি চালিয়ে দ্রুত বেরিয়ে যাওয়ার সময় ঘাতকদের কারো মাথা থেকে ক্যাপটি পড়ে গিয়েছিল।

 

সুন্দরগঞ্জ থানার ওসি মো. আতিয়ার রহমান জানান, এই ক্যাপটি ডিএনএ পরীক্ষার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। ডিএনএ পরীক্ষার রিপোর্টের ভিত্তিতে সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের মধ্য থেকে প্রকৃত খুনিকে শনাক্ত করতে সহায়তা পাওয়া যাবে।

জেলা পুলিশের একটি সূত্র গতকাল বৃহস্পতিবার জানায়, লিটন হত্যায় জড়িত থাকার সন্দেহে এ পর্যন্ত যে ২৭ জনকে আটক করা হয়েছে তাদের বেশির ভাগই জামায়াত-শিবিরের চিহ্নিত ক্যাডার। কয়েকজন জঙ্গি সংগঠন আল্লাহর দলের ক্যাডার বা সমর্থক। পরে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে আটক ব্যক্তিদের মধ্য থেকে ২১ জনকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।

 

যাঁদের গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে তাঁরা হলেন মহসিন আলী, সিরাজুল ইসলাম, রাতুল ইসলাম, লাল মিয়া, আইয়ুব আলী, আলম মিয়া, সানু মিয়া, ভুট্টু মিয়া, আমজাদ হোসেন, রুবেল মিয়া, আজিজুর রহমান, গোলাম মোস্তফা, মাহাতাব হোসেন, হাফিজ উদ্দিন, মোজাম্মেল হক, নুরুন্নবী, গোলাম বারী, মমিন উদ্দিন, আব্দুল মালেক, মঈন উদ্দিন ও আব্দুল খালেক। লিটন হত্যার জন্য জামায়াত-শিবিরকে দায়ী করছে স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরাও।

 

উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক যুগ্ম সম্পাদক সাজেদুল ইসলাম বলেন, জামায়াতের ষড়যন্ত্র ও হত্যার রাজনীতির বিরুদ্ধে লিটন প্রতিরোধ গড়েছিলেন। তিনি আরো বলেন, ‘সৌরভ হত্যাচেষ্টা মামলার পর এর পক্ষে বিপক্ষে দলীয় নেতাকর্মীরা বিভক্ত হলেও এমপি লিটন হত্যার ঘটনায় স্থানীয় আওয়ামী লীগের কোনো বিভক্ত মত নেই। আমরা চাই বস্তুনিষ্ঠ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য বেরিয়ে আসুক। কারণ লিটনের মৃত্যুতে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ’

 

লিটনের সন্তান ঢাকায় পুলিশি নিরাপত্তায় : পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, লিটনের স্ত্রী খুরশিদ জাহান স্মৃতি এবং একমাত্র সন্তান রাতিন বাবু এখন ঢাকায় অবস্থান করছেন লিটনের বোনদের সঙ্গে। রাতিন ঢাকার একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছাত্র। তার যাতায়াতের ক্ষেত্রে নিরাপত্তা দিচ্ছে পুলিশ। গাইবান্ধার পুলিশ সুপার মো. আশরাফুল ইসলাম বিষয়টি ঊর্ধ্বতন মহলে জানালে ঢাকা থেকে পুলিশি নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়।

ঢাকা-যাত্রা হঠাৎ বাতিল হয়েছিল : ৩১ ডিসেম্বর বিকেলে সৈয়দপুর হয়ে বিমানে ঢাকা যাওয়ার কথা ছিল এমপি লিটনের। কিন্তু হঠাৎ করেই সে কর্মসূচি বাতিল হয়।

 

টিকিট না পাওয়ার অজুহাতে ওই যাত্রা বাতিল হয়। পরে সন্ধ্যায় খুন হন তিনি। অনেক কিছুর মতো এখানেও রহস্য খুঁজছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। টিকিট কাটার দায়িত্বে থাকা এমপি লিটনের কোল্ডস্টোরেজের ম্যানেজার আইয়ুব আলী এ ব্যাপারে জানান, ৩১ ডিসেম্বর বিমানের টিকিট পাওয়া যায়নি। তাই তিনি ১ জানুয়ারির টিকিট নিয়ে আসেন। আর এ কারণেই লিটন সিদ্ধান্ত নেন শনিবারের পরিবর্তে রবিবার তিনি ঢাকায় যাবেন।

 

এমপি লিটনের ওই দিন বিমানের টিকিট না পাওয়ার কারণে আকস্মিক ঢাকা-যাত্রা বাতিল হওয়ার কথা খুনিরা কিভাবে জেনেছে সে নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। পুলিশের তদন্ত কর্মকর্তারা গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করছেন এসব বিষয়।

 

সূত্র: কালের কণ্ঠ