ধর্ম

ইসলামে মানুষের দৈহিক সৌন্দর্য যেভাবে মূল্যায়ন করা হয়

নিউজ ডেস্ক২৮ মে ২০২১২ মিনিট পড়া

মানুষের দৈহিক সৌন্দর্য আল্লাহর দান। এটা মানুষের ইচ্ছা ও নিয়ন্ত্রণের বাইরে। তাই এই সৌন্দর্য নিয়ে যেমন গর্ব করার সুযোগ নেই, তেমনি অসৌন্দর্যের জন্য কাউকে তাচ্ছিল্য করার অধিকার কারো নেই। কারো চেহারার সৌন্দর্য ও অসৌন্দর্য নিয়ে মন্তব্য করতে ইসলাম নিষেধ করেছে। কারণ চেহারা মানুষের স্পর্শকাতর একটি অঙ্গ। চেহারা নিয়ে তার ভেতর একটি মানবিক দুর্বলতা কাজ করে। কেউ তার চেহারার প্রশংসা করলে যেমন খুশি হয়, তেমনি কেউ তার নিন্দা করলে সে মানসিকভাবে অনেক বেশি কষ্ট পায়। আবু হুরায়রা (রা.) বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘তোমরা বোলো না! আল্লাহ তার চেহারা কুৎসিত বানিয়েছেন।’ (আল আদাবুল মুফরাদ, হাদিস : ৮৫)

অন্য হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যখন তোমাদের কেউ উপমা দেয়, সে যেন চেহারা পরিহার করে। সে যেন না বলে, আল্লাহ তোমার চেহারা কুৎসিত করেছেন এবং তোমার মতো যাদের চেহারা তাদেরও। কেননা আদমকে তার আকৃতিতে তৈরি করেছেন।’ হাদিসবিশারদ শায়খ আলবানি (রহ.) এই হাদিসের সনদকে ‘হাসান’ বলেছেন। (আস-সিলসিলাতুস সহিহাহ : ২/৫১৯)

হাদিসের ব্যাখ্যায় মুহাদ্দিসরা বলেছেন, মূলত আল্লাহ মানুষকে যে সম্মান দান করেছেন তা রক্ষা করার জন্যই এই নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘আর আমি মানব জাতিকে সম্মানিত করেছি। স্থলে ও জলে দান করেছি তাদের কর্তৃত্ব। তাদের দিয়েছি উত্তম রিজিক। আমার সৃষ্টিজীবের ভেতর অনেকের ওপর দিয়েছি তাদের শ্রেষ্ঠত্ব।’ (সুরা : ইসরা, আয়াত : ৭০)

এই আয়াতের দাবি অনুসারে সাধারণভাবে সব মানুষ এই সম্মানের অধিকারী। ইসলামী শরিয়ত কোনো মানুষের চেহারার নিন্দা করা, তাতে আঘাত করা; এমনকি যুদ্ধের ময়দানে শত্রুপক্ষের সৈনিকদের চেহারা বিকৃত করার অনুমতি দেয়নি। এর প্রত্যেকটি ইসলামী শরিয়তে নিষিদ্ধ। আল্লামা ইবনে তাইমিয়া (রহ.) বলেন, ‘চেহারায় আঘাত করা, চেহারার নিন্দা করা সাধারণভাবে সব মানুষের ব্যাপারেই নিষিদ্ধ।’ (বয়ানু তালবিসুল জাহমিয়্যা : ৬/৫৮২)।

বরং ইসলামের শিক্ষা হলো, মানুষ মানুষকে তার তাকওয়া, খোদাভীতি, নীতি-নৈতিকতা ও সততার ভিত্তিতে মূল্যায়ন করবে, বাহ্যিক রূপ-সৌন্দর্যের বিবেচনায় নয়। কেননা তা মানুষের অর্জন নয়, তা একান্তই স্রষ্টার দান। অন্যদিকে আল্লাহ যার চেহারা সুন্দর করেছেন সে আল্লাহর কৃতজ্ঞতা আদায় করবে। আল্লাহ যার চেহারা অন্যদের মতো সুন্দর করেননি সে-ও আল্লাহর কৃতজ্ঞতা আদায় করবে। কেননা আল্লাহ তাকে মানুষ হিসেবে মর্যাদা দিয়েছেন এবং তাকে আরো অসুন্দর করেননি।

 

সূত্রঃ কালের কণ্ঠ