রাজশাহীর খবর

আজ ১৮ই ডিসেম্বর রাজশাহী মুক্ত দিবস

নিউজ ডেস্ক১৮ ডিসেম্বর ২০২০৩ মিনিট পড়া

নিজস্ব প্রতিবেদক:

আজ ১৮ই ডিসেম্বর রাজশাহী মুক্ত দিবস। ১৬ই ডিসেম্বর সারা বাংলাদেশ শত্রু মুক্ত হলেও রাজশাহী ১৮ই ডিসেম্বর শত্রু মুক্ত হয়। ১৯৪৭ সালে দেশভাগের পর ভারতের উত্তর প্রদেশ, মধ্যপ্রদেশ, বিহার, উড়িষ্যা, পশ্চিমবঙ্গ, আসাম থেকে বানের জলের মতো “রিফিউজি”রা সীমান্তবর্তী রাজশাহী জেলায় এসে আশ্রয় নেয়।

১৯৬৪ সালের পর দেখা যায়, রাজশাহী জেলার মোট জনসংখ্যার ৬০ ভাগ মানুষই ভারত থেকে পালিয়ে আসা রিফিউজি এবং এই রিফিউজিদের প্রভাবেই রাজশাহীর যারা আদি বাসিন্দা তারা তাদের ব্যবসা-বানিজ্য, সামাজিক প্রভাব-নিয়ন্ত্রণ সকল কিছুই সংখ্যায় কমে যাওয়ার দরুন এই রিফিউজিদের কাছেই হারাতে থাকে। কারণ ঘর-বাড়ি, জমি-জমা হারানো, সহায়-সম্বলহীন এই রিফিউজিদের “একতা” এখানকার অধিবাসীদের তুলনায় বেশী ছিল (এখনো আছে) এবং এর প্রভাব পড়ে দারুনভাবে ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময়।

ভারত থেকে পালিয়ে আসা রিফিউজিরা স্বাভাবিকভাবেই পাকিস্তানী সেনাবাহিনীর সাথে একাত্নতা ঘোষণা করে। তাই মুক্তিযুদ্ধের সময় এখানকার যারা অধিবাসী তাদের যুদ্ধে অংশ নেয়া খুব কঠিন হয়ে পড়ে। একসময়ে সরল মনে আশ্রয় দানকারীরাই মুক্তিবাহিনীতে পরিবারের কোনো সদস্য যোগ দেয়ার ফলে লুটপাট, দখলের খপ্পরে পড়ে। নেমে আসে নানান সামাজিক অত্যাচার। ফলে আরো যারা যারা যুদ্ধে যেতে আগ্রহী ছিলেন তারাও তাদের পরিবার-পরিজনের নিরাপত্তার কথা চিন্তা করে পিছিয়ে যান।

অনেকে কৌশল বদলে আগে পরিবারকে গ্রামে বা ভিন্নকোন নিরাপদ স্থানে সরিয়ে তারপর যুদ্ধে অংশ নেন।
তবুও সবসময়েই কিছু মানুষ ঘুরে দাঁড়ায়। রাজশাহীও তার ব্যতিক্রম নয়।

রাজশাহীর প্রথম শহীদ (৩০শে মার্চ-১৯৭১) সিপাহী আব্দুল মালেক তৎকালীন ইস্ট পাকিস্তান রাইফেলস একজন জোয়ান ছিলেন। প্রথম শহীদ বুদ্ধিজীবি রাজশাহী ক্যাডেট কলেজের অধ্যাপক এবি সিদ্দিক। রাজশাহীতে প্রথম প্রতিরোধ যুদ্ধে শুরু করেন ক্যাপ্টেন গিয়াসউদ্দিন চৌধুরী এবং ক্যাপ্টেন রশিদ (৩রা এপ্রিল ১৯৭১)

তবে পাক সেনাবাহিনীর সাথে তারা বেশীদিন টিকতে পারেননি ১৩ই এপ্রিল পিছে সরতে বাধ্য হন। বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় বধ্যভুমি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শামসুজ্জোহা হলের পেছনে অবস্থিত। এছাড়াও ৬টি গনকবর, ২টি গনহত্যার স্থান এবং ৪টি মুক্তিযুদ্ধের শহীদ ভাস্কর্য আছে রাজশাহীতে।

রাজশাহীর মুক্তিযুদ্ধের সবচেয়ে গৌরবের সময় যখন বীরশ্রেষ্ঠ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর এই অঞ্চলে যুদ্ধ করেছেন। তার অসম সাহসিকতায়, দৃঢ় নেতৃত্বে রাজশাহীর মোহনপুর, দূর্গাপুর, চারঘাট, গোদাগাড়ি, তানোর অঞ্চলের স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধারা অমিততেজে ঝাঁপিয়ে পড়েন। তাহেরপুর, বেলপুকুর, সারদাহ, ঝালুকা বিভিন্ন জায়গায় পাক সেনাবাহিনীর শক্ত স্থাপনাগুলোকে একে একে গুড়িয়ে দিতে থাকেন। তথাপি রাজশাহী শহরে যেহেতু পাকিস্তানপন্থী রিফিউজিদের সংখ্যা বেশীছিল এবং তারা সেনাবাহিনীকে অকুন্ঠভাবে সমর্থন দিয়ে যাচ্ছিল তাই শহরের নিয়ন্ত্রন নিতে আরো দুইদিন দেরী হয়।

বীর মুক্তিযোদ্ধা সুশীল সরেন এর বর্ননা মতে “আমি আজো যখন সেই বিজয়ের দিনটি কল্পনা করি, তখন চোখের জল আটকাতে পারি না। চারদিকে রক্ত আর লাশ, মূমুর্ষ আহত মানুষের আর্তনাদ। যার মধ্যে অনেকেই ছিল নারী। ১৮ ডিসেম্বর পাক সেনাবাহিনী তাদের স্থাপনাগুলো গুটিয়ে নিয়ে নাটোরের উদ্দেশ্যে রওনা হয়। রাস্তায় নেমে আসে হাজারো মানুষ আর বিজয় উল্লাস করতে থাকে।

স/আর

 

ট্যাগ: