রাজশাহীর খবর

৪ কি:মিতে ব্যয় ২০৬ কোটি টাকা: রাজশাহীর একটি রাস্তাকে ৫ বছর ধরে হত্যা

নিউজ ডেস্ক২৩ অক্টোবর ২০২০৩ মিনিট পড়া

নিজস্ব প্রতিবেদক:

রাজশাহী নগরীর অক্ট্রোর মোড় থেকে (রুয়েট এলাকা) খড়খড়ি মোড় পর্যন্ত রাস্তাটির দৈর্ঘ সর্বোচ্চ চার কিলোমিটার। এই সামান্য পরিমাণ রাস্তার জন্য ব্যয় করা হচ্ছে ২০৬ কোটি টাকা। তাতেও ৮ বছর ধরে কাজটি শেষ করতে পারেনি রাজশাহী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ। কাজ শেষ না হলেও নতুন করে নির্মাণের নামে ময়লা-আবর্জনাসহ বিভিন্ন জিনিসপত্র ফেলে রেখে এই রাস্তাটিকে যেন হত্যা করেছে আরডিএ। ফলে যান চলাচল বন্ধ হয়ে আছে গত প্রায় ৫ বছর ধরে। এতে করে যেন একটি জনবহুল রাস্তার মৃত্যু ঘটেছে।

সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, নগরীর দক্ষিণ ও পূর্বাঞ্চলের মানুষদের যাতায়াতের জন্য এই রাস্তাটি অত্যান্ত জনগুরুপূর্ণ। এমনকি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ও রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে যাতায়াতের জন্যেও রাস্তাটির গুরুত্ব অনেক রয়েছে। ঠিকাদারের পক্ষ থেকে রাস্তাটি কেটে প্রসস্তকরণের জন্য কোথাও খোয়া আবার কোথাও পাথর ফেলে রাখা হয়েছে। ফেলে রাখা পাথরগুলো এরই মধ্যে উঠে যেতে শুরু করেছে। আবার খোয়াগুলো যেন মাথা উঁচু করে তাকিয়ে আছে।

কোথাও মাটির ঢিবি হয়ে আছে। এতে করে রুয়েট থেকে খড়খড়ি রেলগেট পর্যন্ত রাস্তাটি একেবারেই যান চলাচল বন্ধ হয়ে আছে প্রায় তিন বছর ধরে। তবে রেলগেট থেকে খড়খড়ি বাইপাশ পর্যন্ত বাকি প্রায় ৩ কিলোমিটার রাস্তাটিতে কোনো মতে যান চলাচল করছে। কিন্তু ফেলে রাখা পাথর ও খোয়াগুলো উঠে যাওয়ায় চম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে পথচারীদের।

খড়খড়ি এলাকার বাসিন্দা নাবিউল ইসলাম বলেন, ‘দিন পর দিন কাজ ফেলে রেখে ঠিকাদারের লোকজন হাওয়া হয়ে যাওয়ার কারণে আমাদের কষ্টের শেষ নাই। চলাচল যেন দায় হয়ে পড়েছে। অনেকেই সিটিবাইপাশ দিয়ে ঘুরে যাতায়াত করছেন। কিন্তু রাস্তাটির কাজ শেষ করার কোনো লক্ষ্যণ চোখে পড়ছে না। সবমিলিয়ে গত প্রায় ৫ বছর ধরে যেন দুর্ভোগের মধ্যে বাস করছি আমরা।’;

অক্ট্রোর মোড় এাকার বাসিন্দা দিদারুল ইসলাম বলেন, ‘প্রসস্তকরণে নামে এই রাস্তাটিকে যেডন হত্যা করে ফেলে রেখেছে আররডিএ। ফলে যান চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। আমাদের খড়খড়িতে যেতে হলে প্রায় ৪ কিলোমিটার রাস্তা ঘুরে যেতে হচ্ছে। এই দুর্ভোগের হোতাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া দরকার।’

এদিকে আরডিএ সূত্র মতে, মাত্র চার কিলোমিটার এই রাস্তাটি নির্মাণ বা প্রসস্তকরণের জন্য যে ব্যয় ধরা হয়েছে, সেখানেও চরম অস্বাভাবিকতা লক্ষ্য করা গেছে। ২০৬ কোটি টাকা ব্যয় করা হচ্ছে পুরনো এই রাস্তাটি প্রসস্তকরণের জন্য। যেটিকে আরডিএ বলছে নির্মিাণ প্রকল্প। রাস্তাটিতে একটি ছোট আকারের ফ্লাইওভারও সংযুক্ত করা হয়েছে। যেটির তেমন কোনো প্রয়োজন ছিল না। আবার অর্ধেক কাজ শেষ করতে না পারলেও এরই মধ্যে প্রায় ৭০ কোটি টাকা বিল পরিশোধ করা হয়েছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠাকে। কিন্তু বাকি কাজগুলো আদৌ কবে নাগাদ শেষ হবে তার কোনো হদিশ নাই।

আরডিএ সূত্র মতে, ২০১৩ সাল থেকে ২০২০ সালের জুন মাস পর্যন্ত মেয়াদ ধরে রাস্তাটির কাজের জন্য। কিন্তু করোনার দোহায় দিয়ে আরও এক বছর মেয়াদ বৃদ্ধি করা হয়। তার পরেও আগামী জুন মাসের মধ্যে কাজ শেষ হবে না বলে শঙ্কা প্রকাশ করছেন সংশ্লিষ্টরা।

জানতে প্রকল্পটির পরিচালক আব্দুল্লাহ আল তারেক জানান, ‘প্রয়োজনীয় অর্থ ছাড়া না হওয়ায় ঠিকাদারকে বিল পরিশোধ করতে পারছে না আরডিএ। এ কারণে কাজও শেষ করতে পারছে না ঠিকাদার। তবে করোনার কারণে কাজের মেয়াদ এক বছর বৃদ্ধি কর হয়েছে। এ সময়ের মধ্যে কাজ শেষ হবে বলেও আশা প্রকাশ করেররন তিনি।

স/আর

ট্যাগ: