শাহিনুল ইসলাম আশিক:
‘বাবা তো মারা গেছে। আর মা থেকেও নাই। বাবা মারা যাওয়ার পরে মা টাও পাগলী (এ্যানি খাতুন নুরি-১১) ও তার বড় ভাইকে (আকাশ ১৪) রেখে চেলে গেছে ঢাকায়। তার আর কোন খোঁজ-খবর নাই। ভাইটার তেমন জ্বালা নাই। পাগলী মেয়েটা শুধু মা মা করে ঘুরে বেড়ায়। যাকে দেখে তাকেই আব্বা মা কোথায় একে ওকে বলে বেড়ায়।’
আজ বৃহস্পতিবার রাজশাহী মহানগরীর লক্ষ্মীপুরের চন্ডিপুর এলাকার মৃত রতনের মেয়ে প্রতিবন্ধি এ্যানিকে (১১) কে বা কারা ধর্ষণের পরে হত্যা করে ফেলে রেখে যায়-এমনটিই দাবি করে নিহতের দাদা আবদুল মালেক ও তার স্ত্রী গোলেনূর বেগম সিল্কসিটিনিউজকে এসব কথা বলেন।
গোলেনূর বেগম বলেন, আমি কতবার আল্লাহকে বলেছিলাম আমার পাগলীকে আল্লাহ তুমি ফিরে দাও। আল্লাহ তুমি আমার কথা শুনলা না। আল্লাহ তুমি আমার পাগলীর লাশটাই ফিরিয়ে দিলা। যারা আমার এই সর্বনাশ করেছে, আল্লাহ তাদের ভালো করবে না। পাগলী হলে কি হবে, যতই কষ্ট হক না কেনো খেয়ে না খেয়ে আমার বাড়িতে তো থাকতো। কিছু বলতে পারতো না। সারাক্ষণ শুধু মা মা করে বেড়াতো।’

নিহত এ্যানির চাচা স্বপন সিল্কসিটিনিউজকে বলেন, ‘গত মঙ্গলবার সন্ধ্যা থেকে এ্যানিকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না। এ্যানির বড় ভাই আকাশ (১৪) তার নানার বাড়ি ছোটবন গ্রামে খুঁজতে এসেছিলো। তাকে সেখানে না পেয়ে বৃহস্পতিবার সকালে মসজিদের মাইকিং করা হয় এ্যানির সন্ধান চেয়ে। তার পরেও তাকে খুঁজে পাওয়া যায়নি। কিন্তু শেষ পর্ন্ত পাওয়া গেলে এ্যানির লাশ।’
স্থানীয়রা সিল্কসিটিনিউজকে জানায়, এ্যানির বাবা রতন বেঁচে থাকা অবস্থায় হেলেনাবাদ এলাকার একটি প্রতিবন্ধি স্কুলে পড়তো এ্যানি। বাবা মারা যাওয়ার তিন থেকে চার মাস পরে মা আঁখি বেগম এ্যানি ও আকাশকে ছেড়ে চলে যায়। তার পরে আঁখি আর আসেননি। কিন্তু আঁখির আত্মীয়-স্বজনরা মাঝে মাঝে আসতো তাদের খোঁজ খবর নিতে।
এ্যানিকে যেখানে হত্যা করা হয়, সেখানে যেভাবে প্রাচীর দেয়া আছে তাতে করে সাধারণ মানুষ এখান সহজে প্রবেশ করা সম্ভব নয়। আর এর ভেতরের যাওয়ার জন্য একটি গ্যাট আছে সেখানেও সব সময় তালা মারা থাকে। ওই প্রাচীরের পাশেই এলাকার কিছু বখাটে আড্ডা মারে। ফেন্সিডিল খাই। তারাই এ ঘটনাটি ঘটাতে পারে বলেও ধারণা করছেন স্থানীয়রা।
এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় রাজশাহী সিটি করপোরেশনের সাত নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর সোহরাব হোসেন শেখ সিল্কসিটিনিউজকে জানায়, প্রাথমিকভাবে আমার মনে হচ্ছে, হত্যা করা হয়েছে। তবে যে এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত তার উপযুক্ত শাস্তি হওয়া উচিত। আমি এবার এই প্রতিবন্ধি মেয়েটির কার্ড করেছিলাম। ভাতার দেয়া জন্য। কিন্তু মেয়েটা এই হত্যাকাণ্ডের শিকার হলেন।
রাজপাড়া থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রাজপাড়া থানার (ওসি) আমান উল্লাহ সিল্কসিটিনিউজকে বলেন, নিহতরে লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তরে ব্যবস্থা করা হয়েছে। তবে এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে কে বা কারা জড়তি তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
স/আ









