রাজশাহী

আরএমপি’র অফিস সহকারীর কব্জায় মালামাল সরবরাহের কোটি টাকার টেন্ডার

নিউজ ডেস্ক১০ জুন ২০২০৩ মিনিট পড়া

নিজস্ব প্রতিবেদক:

রাজশাহী মহানগর প্রায় তিন কোটি টাকার একটি টেন্ডার অফিস সহকারীর কব্জায় রয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। ফলে টেন্ডারটির সিডিউলও দেওয়া হয়নি কয়েকজন ঠিকাদারকে। ফলে অফিস সহকারী আব্দুল লতিফের পছন্দের ঠিকাদারকেই দেওয়া হচ্ছে এ কাজটি। গতকাল সোমবার এই টেন্ডারটির দরপত্র জমা দেওয়া শেষে ওপেন করা হয়। এ নিয়ে ঠিকাদার কল্যাণ সমিতির পক্ষ থেকে একটি লিখিত অভিযোগ পাঠানো হয়েছে ।

সূত্র মতে, রাজশাহী মহানগর পুলিশের জন্য গাড়ির যন্ত্রাংশ, কম্পিউটার যন্ত্রাংশ ও আসবাবপত্র সরবরাহের জন্য একটি টেন্ডার গত ১৩ মে আহ্বান করা হয়। এরপর গত ৭ জুন পর্যন্ত টেন্ডারটির সিডিউল বিক্রি করা হয়। গতকাল সোমবার ওই দরপত্রটি ওপেন করা হয়। এতে দেখা যায়, কম্পিউটারের যন্ত্রাংশ সরবরাহের জন্য দরপত্র জমা পড়ে মাত্র ৬টি, আসবাবপত্র কেনার জন্য দরপত্র জমা পড়ে মাত্র ৩টি এবং গাড়ির যন্ত্রপাতি কেনার জন্য দপরপত্র জমা পড়ে মাত্র ৩টি।

ঠিকাদারদের লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, মালামাল সরবরাহের এই দরপত্রে অংশ নিতে আরও একাধিক ঠিকাদার আগ্রহ প্রকাশ করেছিলেন। কিন্তু মহানগর পুলিশের অফিস সহকারী আগে থেকেই তাঁর পছন্দের ঠিকাদারদের সঙ্গে যোগাযোগ করে অন্য ঠিকাদারদের মাঝে সিডিউল বিক্রি করেননি। ফলে অন্য ঠিকাদাররা চাইলেও সিডিউল পাননি।

গতকাল দরপত্র ওপনে হওয়ার পরে দেখা যায় তিনটি কাজের বিপরিতে মাত্র ১২টি সিডিউল জমা পড়ে। তবে অন্য ঠিকাদাররা এই কাজে অংশ নিতে পারলে আরও অন্তত ২০-৩০ টি সিডিউল জমা পড়ত। বেশি ঠিকাদার অংশ নিতে পারলে মালামাল সরবরাহ কাজের ব্যয়ও যেমন কমে আসবে, তেমনি সিডিউল বিক্রি করেও সরকারের রাজস্ব আয় হত।

নাম প্রকাশে একজন ঠিকাদার বলেন, ‘আরএমপির অফিস সহকারী আব্দুল লতিফ তার পছন্দের ঠিকাদারকে উচ্চ দরে কাজ দেন। আবার আমরা যখন কাজের জন্য টেন্ডারে অংশ নিতে আগ্রহ প্রকাশ করি তখন আমাদের সিডিউল দেওয়া হয় না। এভাবে গত কয়েক বছর ধরে টেন্ডার কব্জা করে রেখেছেন আব্দুল লতিফ। কিন্তু বিষয়টি আরএমপির উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের চোখকে ফাঁকি দিয়েই কৌশলে এই কাজটি করে যাচ্ছেন ঠিকাদারের সঙ্গে আঁতাত করে। এর মাধ্যমে মোটা অংকের কমিশনও পাচ্ছেন তিনি।’
তবে এ বিষয়ে জানতে চাইলে আব্দুল লতিফ অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, কেউ সিডিউল নিতে এসে ঘুরে গেছে বলি জানি না। আমার কাছে কোনো ঠিকাদার সিডিউল পাইনি এমনটি হয়নি।

আরেক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘দরপত্র কম পড়লে কিছু করার নাই। বেশি ঠিকাদার টেন্ডারে অংশ নিতে চাইনি তাই দরপত্র কম জমা পড়েছে হয়তো। তবে কাজ পাইয়ে দিতে আমি কোনো ঠিকাদারের সঙ্গে যোগসাজস করেনি।’

এদিকে আরএমপির মূখ্যপাত্র গোলাম রুহুল কুদ্দুস বলেন, ‘এই ধরনের অভিযোগ আমাদের কাছে আসেনি। যদি অভিযোগ পাই, তাহলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

স/আর

ট্যাগ: