নিজস্ব প্রতিবেদক:
রাজশাহী বিভাগের জেলাগুলোর চেয়ে মহানগরীতে আক্রান্তের হার বেশি। করোনা পজেটিভ হয়ে আইসসোলিশনে রয়েছেন ২৪ জন। আর জেলার মধ্যে সবচেয়ে বেশি তানোরে। সেখানে ১৩ করোনা পজেটিভ। এছাড়া পুঠিয়া ১০ জন ও মোহনপুরে ৯ জন করোনা পজেটিভ।
আজ মঙ্গলবার (০৯ জুন) রাজশাহী সিভিল সার্জন এনামুল হকের পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। এতে জানানো হয়- রাজশাহী নগরীতে সুস্থ্য হয়েছেন পাঁচ জন। এছাড়া আইসোলিশনে রয়েছেন ১৬ জন। প্রতিষ্ঠানিক আইসোলিশনে দুই জন (মিশন হাসপাতাল)। এই পর্যন্ত একজনের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া পুরো রাজশাহী জেলায় তিন জনের মৃত্যু হয়েছে।


অন্যদিকে, গত ২জুন রাজশাহী বিভাগে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা ছিল ৯৬২ জন। সেখানে গত এক সপ্তাহের ব্যবধানে প্রায় দ্বিগুন বেড়েছে আক্রান্তের সংখ্যা। গতকাল সোমাবর সকাল পর্যন্ত সেটি গিয়ে দাঁড়িয়েছে এক হাজার ৬০১ জন। গত এক সপ্তাহের ব্যবধানে মৃত্যুহারও বেড়েছে দ্বিগুন। গত ২ জুন সকালে যেখানে ছিল আটজন। সেখানে গতকাল সকালে গিয়ে ঠেকে ১৭ জনে। মঙ্গলবার বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডা. গোপেন্দ্রনাথ আচার্য্য এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
তিনি বলেন, রাজশাহী বিভাগে ক্রমেই বাড়ছে আক্রান্তের সংখ্যা। এছাড়াও মৃত্যুর হারও বাড়ছে। গ্রামের চেয়ে শহরেই আক্রান্তের সংখ্যা এখন বেশি দেখা যাচ্ছে। বিশেষ করে জেলার বগুড়া শহর এখন করোনার হটস্পটে পরিণত হয়েছে। অন্যান্য জেলা শহরগুলোতেও এখন আক্রান্তের হার বেড়েছে।
রাজশাহী বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালকের দপ্তর সূত্র মতে, বিভাগের ৮টি জেলায় গত রবিবার রাত থেকে গত সোমবার রাত পর্যন্ত ২৪ ঘন্টায় ৬১জন করোনা আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয়েছে। যা গতকাল মঙ্গলবার সকাল পর্যন্ত একই ছিল। তবে রাতে এই সংখ্যা আরও বেড়ে যাওয়ার কথা। রাজশাহীর দুটি ও বগুড়ার দুটি ও সিরাজগঞ্জের একটি ল্যাবে গতকালকের নমুনা পরীক্ষার প্রতিবেদন রাতে দেওয়ার কথা ছিল। সেই হিসেবে নতুন নমুনা পরীক্ষার প্রতিবেদন পেলে আক্রান্ত আরও বাড়বে।
গতকাল সকাল পর্যন্ত রাজশাহী বিভাগে মোট আক্রান্ত শনাক্ত ছিল ১ হাজার ৬০১ জন। এর মধ্যে মারা গেছেন ১৭ জন। এছাড়া ২৪ ঘন্টায় ৮৪ জনসহ সুস্থ্য হয়েছে মোট ৩৮৮ জন রোগী। হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন ৩৩২ জন।
জানা গেছে, বিভাগের সর্বোচ্চ আক্রন্ত রোগী শনাক্ত হয়েছে বগুড়া জেলায়। সেখানে আক্রান্তের সংখ্যা ৭৯০ জন। এর মধ্যে অধিকাংশই শহরের। পরের অবস্থানে রয়েছে বিভাগের জয়পুরহাট জেলা। সেখানে শনাক্তের সংখ্যা ২১৪ জন। ১৫৯ জন আক্রান্ত নিয়ে তৃতীয় অবস্থানে নওগাঁ। এছাড়া রাজশাহী জেলায় ৭৭ ও চাঁপাইনবাবগঞ্জে ৫৭ জন, নাটোরে ৬৬ জন, সিরাজগঞ্জ ১০৮ ও পাবনা ১৩০ জন আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয়েছেন।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের দেয়া তথ্যে দেখা যায়, রাজশাহী জেলায় করোনা আক্রান্ত শনাক্তের সংখ্যা ৭৭ জন। এর মধ্যে সুস্থ হয়েছেন ১৮ জন। জেলার হাসপাতালে ভর্তি আছেন ২২ জন। মারা গেছেন ৩ জন। গত ২৪ ঘন্টায় শনাক্ত চারঘাট উপজেলার ১ জন। এর মধ্যে দুজনই নগরীর। বিভাগের ৮টি জেলার মধ্যে বগুড়ায় সর্বোচ্চ ৭৯০ জন করোন আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয়েছে। এই জেলায় হাসপাতালে ভর্তি আছেন১০৬ জন। আর সুস্থ হয়েছেন ৫৯ জন। এ জেলায় ৭ জন মারা গেছেন। গত ২৪ ঘন্টায় শনাক্ত ৫৯ জন।
জয়পুরহাটে ২১৪ জনের মধ্যে হাসপাতালে ভর্তি ১৮১ জন। সুস্থ হয়েছেন ১১৫ জন। এ পর্যন্ত এই জেলায় করোনা আক্রান্ত কারও মৃত্যু হয়নি। ২৪ ঘন্টায় শনাক্ত নতুন কেউ শনাক্ত হয়নি।
নওগাঁয় মোট শনাক্ত হয়েছে ১৫৯ জন। এদের মধ্যে ৯৬ জন সুস্থ হয়েছেন। হাসপাতালে আছেন ৭ জন। এ জেলায় ২ জনের মৃত্যু হয়েছে। ২৪ ঘন্টায় শনাক্ত নাই। চাঁপাইনবাবগঞ্জে মোট শনাক্ত হয়েছে ৫৭ জন। এ জেলায় ৮ জন হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন। ইতোমধ্যে সুস্থ হয়েছেন ৩৭ জন। ২৪ ঘন্টায় শনাক্ত নাই। নাটোরে মোট শনাক্ত হয়েছে ৬৬ জন। এ জেলায় একজন মারা গেছেন। সুস্থ হয়েছেন ৩৯ জন। এখানে কেউ হাসপাতালে ভর্তি নেই। গত ২৪ ঘন্টায় শনাক্ত নাই।
সিরাজগঞ্জে ১০৮ জন করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছেন। এদের মধ্যে ১৬ জন সুস্থ হয়েছেন, ৩ জন হাসপাতালে। ২ জন মারা গেছেন। গত ২৪ ঘন্টায় শনাক্ত নাই। পাবনায় শনাক্ত ব্যক্তির সংখ্যা ১৩০। এখানে মারা গেছেন ২ জন। ৩ জন হাসপাতালে রয়েছেন। আর সুস্থ হয়েছেন ৮ জন। গত ২৪ ঘন্টায় শনাক্ত ১জন।
স/আর









