নিজস্ব প্রতিবেদক
রাজশাহী অঞ্চলে সম্প্রতি নারী ও শিশু নির্যাতনের ঘটনা তুলে ধরেছে মানবাধিকার সংগঠন এ্যাসোসিয়েশন ফর কম্যুনিটি ডেভেলপমেন্ট-এসিডি। তারা রাজশাহীতে গত বছরের ১৫ নভেম্বর থেকে এই বছরের অক্টোবর মাস পর্যন্ত নারী ও শিশু নির্যাতনের চিত্র আজ বৃহস্পতিবার এক বিজ্ঞপ্তিতে তুলে ধরে।
এসিডি’র ডক্যুমেন্টেশন সেলের তথ্যানুযায়ী, গত এক বছরে নভেম্বর ২০১৫-অক্টোবর ২০১৬ পর্যন্ত রাজশাহী জেলায় ২৬৮ জন নারী নির্যাতন ও সহিংসতার শিকার হয়। এমনকি চলতি বছরের প্রথম ১০ মাসে রাজশাহী জেলায় ২৩৬ জন নারী নির্যাতন ও সহিংসতার শিকার হয়েছে।
এসব ঘটনার মধ্যে মহানগরীর চারটি থানায় সংগঠিত হয়েছে ৮৭টি এবং মহানগরীর বাইরের ৯টি থানায় সংঘটিত হয়েছে ১৮১টি নির্যাতনের ঘটনা। এর মধ্যে বাগমারায় ১৮টি, বাঘায় ২২টি, মোহনপুরে ৩৬টি, পুঠিয়ায় ১৮টি, চারঘাটে ১৬টি, গোদাগাড়ীতে ২০টি, পবায় ৮টি, দুর্গাপুরে ২৪টি এবং তানোরে ১৯টি নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছে।

এসব ঘটনার মধ্যে হত্যা ১৫টি, হত্যার চেষ্টা ৩১টি, রহস্যজনক মৃত্যু ৮টি, ধর্ষণ ১৬টি, ধর্ষণের চেষ্টা ৬টি, পাচার ৪টি, অপহরণ ১টি, আত্মহত্যা ৪০টি, আত্মহত্যার চেষ্টা ১৬টি, যৌন হয়রানি ৩০টি এবং অন্যান্য যেমন- মারপিট, আঘাত ইত্যাদি ১০১টি ঘটনা ঘটেছে।
উল্লেখ্য যে, একই সময় রাজশাহী জেলায় নভেম্বর’১৫-অক্টোবর’১৬ পর্যন্ত ২১৫ জন শিশু বিভিন্ন প্রকার নির্যাতন ও সহিংসতার শিকার হয়, যাদের অধিকাংশই কন্যা শিশু।
রাজশাহী জেলায় নারী নির্যাতনের ঘটনা ও এর মাত্রা বৃদ্ধিতে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন এসিডি’র নির্বাহী পরিচালক জনাব সালীমা সারোয়ার।
তিনি বলেন, ‘এরুপ ঘটনা দিন দিন বাড়তে থাকায় আমরা খুবই উদ্বিগ্ন। সমাজে নারীর অধিকারহীনতা, পরাধীনতা ও ক্ষমতায়নের অভাব এবং আইনের যথাযথ প্রয়োগ না থাকায় এসব ঘটনা বেড়ে চলেছে। গণমাধ্যমে নারী নির্যাতনের ঘটনা খুব কম প্রকাশিত হয় কিন্তু বাস্তবে তা অনেক বেশি।’
তিনি আরো বলেন, নারীদের ওপর হওয়া এসব ঘটনা হ্রাসে তিনি নারীবান্ধব সমাজ গঠনের পাশাপাশি সার্বিক অবস্থার ইতিবাচকতা তৈরিতে সরকারের সাথে জনগণ, প্রশাসন ও সুশীল সমাজসহ সকলকে সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহবান জানান।
স/অ









