রাজশাহীর খবর

লেবার সর্দার থেকে কোটিপতি রাজশাহী রেলের তেল চুরির হোতা রবিউল

নিউজ ডেস্ক২৫ এপ্রিল ২০২০২ মিনিট পড়া

নিজস্ব প্রতিবেদক:

রাজশাহী রেলওয়ের ডিপো থেকে তেল চুরির সাথে জড়িত মূল হোতা রবিউল ইসলাম সরদার এখনো ধরা-ছোঁয়ার বাইরে। তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটিতে এখন সংযোগ পাওয়া যাচ্ছে। কিন্তু আইনশৃঙ্খলা বাহনীর সদস্যরা তাকে এখনো গ্রেপ্তার করতে পারেনি। তবে মামলা থেকে বাঁচতে রবিউল ইসলাম এখন মহানগর ও জেলার আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতাদের দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন বলেও জানা গেছে।

একাধিক সূত্র জানায়, রবিউল ইসলাম সরদারের বাড়ি নড়াইলে। তবে তিনি রাজশাহী কোর্ট এলাকার মোল্লা মিল এলাকায় বসবাস করেন। এছাড়া রাজশাহী জেলা ফার্টিলাইজার অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক ও রাজশাহী জেলা ট্রাক মালিক গ্রুপের সভাপতি। এই রবিউল একসময় ছিলের লেবার সর্দার। এখন তিনি কোটিপতি।

প্রসঙ্গত, গত বৃহস্পতিবার রাজশাহী রেলওয়ের জন্য বরাদ্দকৃত ওয়াগানে থাকা ১১ হাজার লিটার ডিজেল পাচার করছিলেন রবিউল ইসলাম। এ সময় ৫ হাজার লিটার তেলসহ রবিউল ইসলামের লরিটি হাতেনাতে জব্দ করেন রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা। এই ঘটনায় ৭ জনের নাম উল্লেখ করে মামলা করেন নিরাপত্তাবাহিনীর এসআই আসাদুজ্জামান।

পরে রেলওয়ের সিনিয়র সাব-ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার আবুল হাসানসহ ৪ জনকে আটক করা হয়। তাদের মধ্যে তিনজনকে হাতেনাতো গ্রেপ্তার করা হয়।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, রবিউল ইসলাম সরদার মূলত একসময় রাজশাহীতে লেবার সরদার ছিলেন। পরে রেলের ডিপোতে থাকা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ম্যানেজ করে স্বল্প মূল্যে তেল কিনে সেই তেল চুরি করে বেশি দামে বিক্রি করা শুরু করেন। গক কয়েক বছর ধরেই তিনি চোরাই তেল বিক্রি করে আসছেন। আর এভাবেই তিনি কোটি টাকা কামিয়েছেন। হয়েছেন আঙ্গুল ফুলে কলা গাছ। নড়াইলে আছে তার দুটি পেট্রোল পাম্পসহ বিপুল ধন সম্পদ।
এছাড়া রাজশাহীতে আছে তার ১৮ টি ট্রাক, ১২ টি লরি, তিনটি তেলের ডিপো। তেল পাচারের সুবিধার্তে করেছেন তিনটি লাইসেন্স। স্ত্রীর নামে তামান্না এন্টারপ্রাইজ, ম্যানেজার রিপনের নামে রিপন এন্টারপ্রাইজ ও নিজের নামে সরদার পেট্রলিয়াম এজেন্সি খুলে বসেন তিনি।
আরও জানা গেছে, রেলওয়ের তেলের ডিপোতে যেসকল লেবার কাজ করেন তারা সকলেই রবিউল লোক। তবে এই রবিউল এখন পলাতক।

তবে রবিউল ইসলাস দাবি করেন, তিনি তেল সরবরাহকারী তিনটি কম্পানী থেকে তেল কিনেছিলেন। তারা ভুলে রেলওয়ের ওয়াগন থেকে তেল দিচ্ছিলেন। তবে চুরির কোনো ঘটনা ঘটেনি। চুরির সঙ্গে তিনি জড়িতও নন।

 

রাজশাহী রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনী ইন্সপেক্টর আহসান হাবীব জানান, রবিউলকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চালানো হচ্ছে। সে এই তেল চুরির মূল হোতা। তিনি এর আগেও রেলের তেল চুরির সঙ্গে জড়িত ছিলেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাকে গ্রেপ্তার করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।
স/আর

ট্যাগ: