নিজস্ব প্রতিবেদক, নাটোর:
স্কুলের ম্যানেজিং কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে নাটোরের বড়াইগ্রামের পাঁচবাড়িয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের হাত-পা ভেঙে দিয়েছে সন্ত্রাসীরা।

মঙ্গলবার সকাল ১০টার দিকে ওই প্রধান শিক্ষক বিদ্যালয়ে আসার পথে পাঁচবাড়িয়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। আহত প্রধান শিক্ষককে প্রথমে বনপাড়া পাটোয়ারী হাসপাতালে পরে ঢাকা পঙ্গু হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।
স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান নীলুফার ইয়াসমিন ডালু বলেন, পাঁচবাড়িয়া গ্রামের ইউপি সদস্য বাচ্চু মিয়া দীর্ঘদিন থেকে নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি পদে থাকার জন্য প্রধান শিক্ষককে চাপ দিয়ে আসছিলেন। প্রধান শিক্ষক মিজানুর রহমান আইনের বাহিরে গিয়ে কমিটিতে অন্তর্ভুক্তির বিষয়ে অপারগতা প্রকাশ করেন। সম্প্রতি বর্তমান কমিটির মেয়াদ শেষের দিকে হওয়ায় নতুন কমিটি গঠনের লক্ষ্যে ভোটার তালিকা প্রনয়নের কাজ শুরু হয়।
সেই তালিকাতে নিয়ম বর্হিভুত ভাবে ১০ম শ্রেণীর শিক্ষার্থীর অভিভাবকের নাম অন্তর্ভুক্তির দাবী জানায় বাচ্চু মিয়া। প্রধান শিক্ষক তাতেও অপারগতা প্রকাশ করে এ বিষয়ে বর্তমান কমিটির সভাপতি উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে অবহিত করতে বললে বাচ্চু মিয়া ক্ষুব্ধ হন।
এরই জের ধরে মঙ্গলবার সকালে প্রধান শিক্ষক নিজ বাড়ি দারিখৈর থেকে পাঁচবাড়িয়া আসার পথে বাচ্চু মেম্বার, তার ভাই মজনু এবং সহযোগী রাশেদুল, নাজিম, মল্লেম, লিটনসহ ১০/১২ জন তাকে পাঁচবাড়িয়া মোড়ে ভুটভুটি থামিয়ে জোর করে টেনে-হিচড়ে নামিয়ে লোহার রড, লাঠি-সোটা দিয়ে এলোপাথাড়ি ভাবে পিটিয়ে তার বাম হাত ও ডান পা ভেঙ্গে এবং মাথা ফাটিয়ে রক্তাক্ত জখম করে । পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে বনপাড়া পাটোয়ারী হাসপাতালে ভর্তি করে।
ইউপি চেয়ারম্যান আরো বলেন, বাচ্চু মেম্বার একজন চিহ্নিত সন্ত্রাসী ও মাদক ব্যবসায়ী। তার নামে থানায় একাধিক মামলা ও গ্রেফতারী পরোয়ানা জারি আছে। ইতিপূর্বে আমাকে এবং ওই প্রধান শিক্ষককে প্রাণ নাশের হুমকি দিয়েছিলেন বাচ্চু মেম্বার। সে বিষয়ে থানায় জিডি করা আছে। এতো কিছুর পরেও পুলিশ রহস্যজনক কারণে বাচ্চু মেম্বারের বিষয়ে কোন পদক্ষেপ নিচ্ছে না।
পাটোয়ারী হাসাপাতলের সত্বাধিকারী ডা. সিদ্দিকুর রহমান পাটোয়ারী বলেন, প্রধান শিক্ষক মিজানুর রহমানের বাম হাত ও ডান পা গুরুতর ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। এরফলে তার চিরতরে পঙ্গু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তাই উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা পঙ্গু হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে।
ইউএনও এবং ওই বিদ্যালয়ের পরিচালনা কমিটির সভাপতি ইশরাত ফারজানা বলেন, এ বিষয়ে খবর পেয়ে আইনি ব্যবস্থা নিতে ওসিকে বলা হয়েছে।
বড়াইগ্রাম থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শাহ্রিয়ার খান বলেন, প্রধান শিক্ষককে লাঞ্ছিত করার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। এরপর অভিযোগের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আর গ্রেফতারী পরোয়ানা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, পরোয়ানায় বাচ্চু মিয়ার বাবার নাম ভুল থাকায় তা সংশোধনের জন্য আদালতে পাঠানো হয়েছে।
স/আর









