নিজস্ব প্রতিবেদক:
রাজশাহী জেলা বিএনপি নেতা খন্দকার মাইনুল ইসলামের নিজ বাড়িতে গুলিবিদ্ধ হয়ে মৃত্যু নিয়ে রহস্য সৃষ্টি হয়েছে। এই ঘটনায় বুধবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ছেলেসহ তিনজনকে আটক করেছে পুলিশ। পরে দফায় দফায় তাদের জিজ্ঞাসাবাদ শেষে সবািইকে ছেড়ে দেওয়া হয়।

জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তিনজনকে পুলিশ হেফাজতে নেয়া হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছন মহানগর পুলিশের মুখপাত্র ও সহকারি কমিশনার (এসি) ইফতে খায়ের আলম। পরে তাদের জিজ্ঞাসাবাদ শেষে ছেড়ে দেওয়া হয়। তিনি আরো জন, সব মিলিয়ে অন্তত ১০জনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।
আটককৃতরা হলেন, নিহত মাইনুল ইসলামের ছেলে খন্দকার হেদায়েতুল ইসলাম লিমন, শ্যালক সুজন ও এক কর্মচারি। এদিকে মামলা ভিন্ন খাতে পরিচালনা করার জন্য আলামত সরিয়ে ফেলা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। তাই আলামত সরিয়ে ফেলার নিয়ে পুলিশ বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করছে। তবে হত্যাকাণ্ডের মতো কোনো তথ্য তাদের নিকট থেকে না পাওয়ায় পরে সবাইকে ছেড়ে দেওয়া হয়।
তিনি বলেন, বুধবার রাতে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তিনজনকে বোয়ালিয়া থানা হেফাজতে নেয়া হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তাদের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে বলে জানান এসি।
এসি ইফতে খায়ের বলেন, মাইনুলের লাশ উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যায় দমকল কর্মীরা । কিন্তু এর পর পরই ঘটনাস্থল থেকে রক্ত ধুয়ে মুছে ফেলা হয়।
এছাড়াও নাইন এমএম মডেলের পিস্তলটি পাওয়া গেছে ঘটনস্থল থেকে বেশ দুরে বাড়ির সিড়ির নিচে। এবং সেন্ডেল পাওয়া গেছে বাড়ির ড্রেনের পাশে। সেখানে তিনটি গুলির খোসা পাওয়া গেলেও তার শরীরে একটি গুলি লেগেছে।
তিনি বলেন, মাইনুল ইসলামের মৃত্যুতে তার পরিবারের সদস্যদের তেমন কোন প্রতিক্রিয়া লক্ষ্য করা যায়নি। পরিবারের সদস্যরা আত্মহত্যার করেছে বলছে।তবে প্রাথমিক তদন্তে বেশ কিছু অসঙ্গতি পাওয়া গেছে।
এর আগে গতকাল মাইনুলকে গুলি লাগা নিয়ে রহস্য রয়ে গেছে। তার নিজের হাত থেকে ছোড়া গুলি, নাকি অন্য কারো হাত থেকে ছোড়া হয়েছে সেটি নিশ্চিত হতে পারছেন ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসকও। এতে করে মাইনুল আত্মহত্যা করেছেন নাকি তাকে হত্যা করা হয়েছে, সেটি নিয়েও সংশয়ে আছেন ফরেনসিক মেডিসিন বিভাগের ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসক-এমনটিই সিল্কসিটি নিউজকে নিশ্চিত করেছেন ওই বিভাগের চিকিৎসক এনামুল হক।
প্রসঙ্গত, বুধবার দুপুর দেড়টার দিকে খন্দকার মাইনুল ইসলাম নগরী হোসনিগঞ্জে অবস্থিত বাড়ির উঠানে নিজের পিস্তুলের গুলিতে মারা যান। মৃত্যুর পরে তার পরিবারের পক্ষ থেকে প্রথমে দাবি করা হয় তিনি আত্মহত্যা করেছেন। পরে আবার দাবি করা হয় পড়ে গিয়ে মারা গেছেন তিনি। অনেকেই আবার বিষয়টি নিয়ে কথা বলতেও রাজি হননি।
স/আ









