রাজশাহী

রাজশাহীতে ঠিকাদার মাইনুলের মৃত্যুর পর আলামত সরে ফেলা নিয়ে রহস্যজট

নিউজ ডেস্ক১৬ নভেম্বর ২০১৬৩ মিনিট পড়া

নিজস্ব প্রতিবেদক:

রাজশাহী নগরীর হোসনিগঞ্জ ফায়ার সার্ভিস মোড় এলাকায় নিজ বাড়িতে গুলিবিদ্ধ হয়ে বিএনপি নেতা ও ঠিকাদার খন্দকার মাইনুল ইসলামের মৃত্যুর পর আলামত সরে ফেরা নিয়ে ব্যাপক রহস্যের সৃষ্টি হয়েছে।

 

ঋণের দায়ে মাইনুল ইসলাম আত্মহত্যা করেছেন বলেই পুলিশের পক্ষ থেকে শুরুতেই দাবি করা হয়। তবে তার পরিবারের সদস্যদের ভূমিকা নিয়ে ধন্দে পড়েছেন তদন্তকারী কর্মকর্তারা। বিশেষ করে ঘটনার পরে আলামত সরে ফেলানো এবং পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলার চেষ্টার বিষয়টি বেশি সন্দেহের জন্ম দিয়েছে। অনেকেই বিষয়টিকে একটি রহস্যজনক মৃত্যু হিসেবেও দেখছেন।

 

  • খন্দকার মাইনুল ইসলাম নিজ পিস্তল মাথায় ঠেকিয়ে আত্মহত্যা করেছেন বলে ঘটনার পরপরই পুলিশ দাবি করে। এসময় নগরীর বোয়ালিয়া থানার ওসি শাহাদত হোসেন সিল্কসিটি নিউজকে বলেন, ‘এটি একটি আত্মহত্যা। তিনি ঋণের দায়ে জর্জরিত ছিলেন। এ কারণেই তিনি হয়তো আত্মহত্যা করেছেন।’

 

তবে মাইনুলের মৃত্যুর পরে তার ব্যবহৃত পিস্তলটি উদ্ধার এবং ঘটনার আলামত সংগ্রহ করতে গিয়ে পুলিশ ধন্দে পড়ে যায়। পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) ক্রাইম সিন্স দল ঘটনাস্থলে গিয়ে আলমত সংগ্রহ করার চেষ্টা করেন। কিন্তু যেখানে মাইনুল ইসলাম গুলিবিদ্ধ হন, সেখানকার রক্ত পরিবারের সদস্যরা ধুয়ে মুছে ফেলে দেয় তার আগেই। এছাড়াও মাইনুলের পায়ের স্যান্ডেলটি পড়েছিল ঘনাস্থল থেকে কিছুটা দূরে বাড়ির ফুলের বাগানের একটি টবের কাছে।

 

আবার বাড়ির প্রাচীরের সঙ্গে লাগানো ট্যাপের পানি দিয়ে রক্ত ধোয়া হয়েছে, সেটিও স্পষ্ট বুঝা যাচ্ছিল। পিস্তলটিও পড়েছিল ঘটনাস্থল থেকে কয়েক হাত দূরে সিঁড়ির নিচে। আর এসব নিয়েই ঘটনা তদন্তকারী পুলিশ, র‌্যাব, পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন দলের সদস্যরা এমনকি সিআইডি সদস্যরাও দিধা-দ্বন্দ্বে পড়েন।

 

নাম প্রকাশ না করার শর্তে একটি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একজন কর্মকর্তা বলেন, ঘটনার আলামত নষ্ট করার বিষয়টি নিয়ে রহস্য জন্ম দিয়েছে। আত্মহত্যা হলে ঘটনার আলামত কেন পরিবারের সদস্যরা নষ্ট করে ফেলবে? আবার ঘটনার পরপরেই পরিবারের সদস্যরা কখনো পড়ে গিয়ে মাইনুল ইসলাম মারা গেছেন, আবার কখনো আত্মহত্যা করেছেন বলে দাবি করেছেন এ নিয়েও রসহ্য ঘোনিভূত হয়েছে।

 

তবে মাইনুল ইসলামের ঘোনিষ্টজনরা দাবি করেছেন, ‘প্রায় ৫৫ কোটি টাকা ঋণের দায়ে আত্মহত্যার পথ বেছে নেন।

 

প্রসঙ্গত, বুধবার দুপুর দেড়টার দিকে খন্দকার মাইনুল ইসলাম বাড়ির উঠানে নিজের পিস্তুলের গুলিতে মারা যান। মৃত্যুর পরে তার পরিবারের পক্ষ থেকে প্রথমে দাবি করা হয় আত্মহত্যা করেছেন মাইনুল ইসলাম। পরে আবার দাবি করা হয় পড়ে গিয়ে মারা গেছেন তিনি।

 

  • খন্দকার মাইনুল ইসলাম জেলা বিএনপির সহসভাপতি ছিলেন। এর আগে তিনি মহানগর বিএনপির সহসভাপতি ছিলেন। এছাড়াও রাজশাহী চেম্বার অব কমার্সের সভাপতি এবং রাজশাহী জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।

 

তিনি রাজশাহী পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রথম শ্রেণির ঠিকাদার ছিলেন। বিশিষ্ট এ ব্যবসায়ী তত্বাবধায়ক সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকেই আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হতে থাকেন। এরপর ক্রমেই তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন। এরই মধ্যে তার দুই বার হার্টের অপারেশনও করাতে হয়। ফলে রাজনীতিতেও তেমন সক্রিয় ছিলেন না তিনি। তবে দলের পেছনে অবদান থাকায় তাকে সম্মান স্বরুপ সহসভাপতি হিসেবে পদ দেওয়া হয়।

 

এদিকে জেলা বিএনপির সভাপতি নাদিম মোস্তফা বলেন, খন্দকার মাইনুল ইসলাম জেলা বিএনপি সহসভাপতি। এর আগে তিনি রাজশাহী মহানগর কমিটির সহসভাপতি ছিলেন। নাদিম মোস্তফা বলেন, খন্দকার মাইনুল ইসলাম তাঁর ব্যবসায়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিলেন। ব্যাংকে তার অনেক টাকা ঋণ রয়েছে। সম্ভবত এই কারণে তিনি হতাশায় ভূগছিলেন। নাদিম মোস্তফা তার নিজের এবং জেলা বিএনপির পক্ষ থেকে মাইনুল ইসলামের শোক সন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা প্রকাশ করেন।

স/আর