বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি

আইএসপিএবির কার্যনির্বাহী কমিটির নির্বাচন: ক্যাটালিস্টে ভোটারদের আগ্রহ

নিউজ ডেস্ক২৫ অক্টোবর ২০১৯৪ মিনিট পড়া

সিল্কসিটিনিউজ ডেস্ক:

আগামীকাল ২৬ অক্টোবর দেশের ইন্টারনেট সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানগুলোর সংগঠন আইএসপিএবি’র কার্যনির্বাহী কমিটির ২০১৯-২১ মেয়াদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

নির্বাচনে পরিবর্তনের অঙ্গীকার নিয়ে অংশ নিচ্ছে আট প্রার্থীর সমন্বিত প্যানেল ‘টিম ক্যাটালিস্ট’।

আইএসপিএবির দীর্ঘদিনের জেঁকে বসা সিন্ডিকেট আর স্থবিরতা ভাঙার আহ্বানে ভোটাদের আকৃষ্ট করছেন এই প্যানেলের সদস্যরা।

ভোটাররাও নতুন এই প্যানেলের সদস্যদের প্রতি আগ্রহ দেখাচ্ছেন।

প্যানেলসংশ্লিষ্টরা বলছেন, পরিবর্তনের ডাকে সাড়া দিয়ে ভোটাররা টিম ক্যাটালিস্টকেই বিজয়ী করে তুলবে। ভোটাররা কেন টিম ক্যাটালিস্টে আগ্রহ প্রকাশ করছেন, এমন প্রশ্নের উত্তরে প্যানেলসংশ্লিষ্টরা বলছেন, এই প্যানেলের প্রত্যেক সদস্যই এক দশকেরও বেশি সময় ধরে ইন্টারনেট সংশ্লিষ্ট ব্যবসায় যুক্ত রয়েছেন। এই প্যানেলের প্রত্যেকে ব্যবসায়ী হিসেবে সফল এবং আইএসপিএবি পরিবারে অত্যন্ত সুপরিচিত।

টিম ক্যাটালিস্ট বলছে, দেশের তথ্যপ্রযুক্তি খাতের সংগঠনের মধ্যে পুরনো হলেও বেসিস, বিসিএস কিংবা বাক্য থেকে পিছিয়ে আছে আইএসপিএবি। মূলত দীর্ঘদিন একই নেতৃত্ব থাকায় আইএসপিএবি স্থবির হয়ে পড়েছে। ভোটাররা এ অবস্থার পরিবর্তন চান। বিসিএস, বেসিস, বাক্য সবাই সরকারের সহযোগিতায় ইন্ডাস্ট্রিসংশ্লিষ্ট বড়পরিসরে মেলা কিংবা সম্মেলন করতে পারলেও আইএসপিএবি এ ক্ষেত্রে পুরোটাই পিছিয়ে আছে। এ জন্য বতর্মান কমিটির স্বেচ্ছাচারিতা ও অযোগ্যতা দায়ী। এ অবস্থা থেকে উত্তরণ জরুরি হয়ে পড়েছে। আর এই পরিবর্তনের লক্ষ্য নিয়েই মাঠে নেমেছে টিম ক্যাটালিস্ট।

নির্বাচনে টিম ক্যাটালিস্টের স্লোগান হচ্ছে- ‘আমরা আইএসপির জন্য কাজ করি, আমরা দেশের জন্য নিবেদিত। মূলত ইন্টারনেট সেবাদাতাদের সঙ্গে সরাসরি সংযোগ স্থাপনের মাধ্যমে এক ছাতার নিচে এনে সবার জন্য সুযোগ নিশ্চিত করতে চায় প্যানেলটি। এ জন্যই টিম ক্যাটালিস্ট হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছেন এ প্যানেলের প্রার্থীরা।

টিম ক্যাটালিস্টের সদস্যরা আরও বলছেন, দেশজুড়ে ছোট-বড় কয়েক হাজার আইএসপি আছে। অথচ আমাদের মেম্বার পাঁচশরও কম। আইএসপিএবিকে কুক্ষিগত করে রাখতে ভোটারের সংখ্যা চাহিদা অনুযায়ী বাড়ানো হয়নি। এ অবস্থারও পরিবর্তন করা হবে। দলটি নির্বাচিত হলে, যোগ্যদের দ্রুততম সময়ে আইএসপিবির সদস্য করে নেয়া হবে।

এক নজরে টিম ক্যাটালিস্টের সদস্যরা

প্যানেলের অন্যতম সদস্য আইসিসি কমিউনিকেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সাইফুল ইসলাম সিদ্দিক টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি খাতের উদ্যোক্তা হিসেবে বিগত দুই দশকজুড়ে ১০টিরও বেশি প্রযুক্তিপ্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছেন। আইপিটিএসপি, ভিএসপি, ভয়েসঅ্যাপ, আইপি টিভির মতো ইন্টারনেটভিত্তিক সেবা গড়ে তুলেছেন।

দেশের প্রথম ইন্টারনেট মেলার আহ্বায়ক ব্র্যাক নেটের প্রধান পরিচালন কর্মকর্তা আজহারুল হক চৌধুরী।

চট্টগ্রাম বিভাগে ইন্টারনেট পৌঁছে দেয়ার ক্ষেত্রে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছেন চিটাগাং মাল্টি চ্যানেলের পরিচালক (প্রশাসন) কামরুল আলম শামীম। তিনি খেলার মাঠেও সুপরিচিত। ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট খাতে এক দশকেরও বেশি সময় ধরে যুক্ত তিনি।

আইএসপিবান্ধব নীতিমালা তৈরিতে সমন্বয়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন গ্রামীণ সাইবার নেটের পরিচালক মো. রহুল আমিন সরকার। তিনি পেশাগতভাবেই বিটিআরসি ও জাতীয় রাজস্বসংশ্লিষ্ট কাজে অভিজ্ঞ।

সাইবার ক্যাফে ব্যবসায়ীদের জন্য ক্যাটাগরি লাইসেন্স প্রবর্তনে ভূমিকা রাখেন জেডএক্স অনলাইনের চেয়ারম্যান এসএম জুলফিকার হায়দার। রাজধানীর ধানমণ্ডিসহ অন্যান্য এলাকায় সন্ত্রাসীদের উৎপাত থেকে আইএসপি ব্যবসায়ীদের রক্ষায় সক্রিয় ভূমিকা রাখছেন তিনি।

ডিজিটাল বাংলাদেশের অন্যতম শক্তি তারুণ্যকে ইন্টারনেটের মাধ্যমে গতিশীল করতে কাজ করবেন বাংলাদেশ সিস্টেম অ্যাডমিন ফোরাম ও আইডিইবির গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্বপালনকারী রেডহ্যাট সার্টিফাইট লেভেল থ্রি আর্কিটেক্ট বাংলানেট টেকনোলজিসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক জোবায়ের আল মাহমুদ হোসেন।

ব্রিস্ক সিস্টেমের চেয়ারম্যান মো. শরিফুল ইসলাম এফবিসিসিআই ও সাইবার ক্যাফে ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনেরও নেতৃত্ব দিয়েছেন।

এ ছাড়া ডলি আইটি কর্নারের প্রোপ্রাইটর মো. মনিরুজ্জামান মনির প্রায় দেড়যুগ ধরে আইএসপি পরিবারে অবদান রেখে চলেছেন।

এ প্যানেলের প্রধান সাইফুল ইসলাম সিদ্দিকী বলেন, দীর্ঘদিন আইএসপিএবিতে একই নেতৃত্ব থেকেছে। ফলে সংগঠনের কার্যক্রমে স্বাভাবিকভাবেই স্থবিরতা এসেছে। আইএসপি প্রতিষ্ঠানগুলো সেবা ও সময়ের বিবেচনায় যতটা গুরুত্ব ও মর্যাদা পাওয়ার কথা ছিল, তা পায়নি। এ কারণে আইএসপি প্রতিষ্ঠানগুলোকে প্রাপ্য মর্যাদায় উন্নীত করা, অধিকার অর্জন এবং গ্রাহকদের কাছে মানসম্পন্ন সেবা পৌঁছে দেয়ার লক্ষ্য নিয়েই এবারের নির্বাচনে টিম ক্যাটালিস্ট প্যানেল প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে। ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণে তৃণমূল পর্যায়ে ইন্টারেনেটকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার। ফলে ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট, আইপি টিভি, ক্লাউড কম্পিউটিংসহ নানা কাজে আইএসপি প্রতিষ্ঠানের গুরুত্ব বাড়ছে। নির্বাচনে বিজয়ী হতে পারলে এসব বিষয়ে আইএসপি প্রতিষ্ঠানের স্বার্থ নিয়ে সরকারের সঙ্গে কাজ করবে টিম ক্যাটালিস্ট।

ব্র্যাক নেটের প্রধান পরিচালন কর্মকর্তা আজহারুল হক চৌধুরী বলেন, আমরা আমাদের ঘোষিত ইশতেহারে সুনির্দিষ্টভাবে কমিটি গঠনের ৯০ দিনে বাস্তবায়নযোগ্য ১০টি লক্ষ্য ও পরববর্তী ৬ মাসের ১০টি লক্ষ্য ছাড়াও শেষ ১৫ মাসের জন্য ১৭টি লক্ষ্য প্রকাশ করেছি। একই সঙ্গে লক্ষ্য বাস্তবায়নের মাধ্যমে প্রযুক্তি খাতের অন্যান্য সংগঠনের মধ্যে পিছিয়ে থাকা আইএসপি খাতকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতের শীর্ষপর্যায়ে নিয়ে আসার প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়েছে। এ জন্য সংগঠনকে কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর কাছে জিম্মি না রেখে দেশ ও সদস্যদের কল্যাণে কাজ করার অঙ্গীকার করেছেন টিম ক্যাটালিস্টের সদস্যরা।