রাজশাহীর খবর

পটলের কেজি ২টাকা

নিউজ ডেস্ক১৭ জুলাই ২০১৬৩ মিনিট পড়া

নাটোর প্রতিনিধি:
বাম্পার ফলন এবং ভরা মৌসুমে চাহিদা না থাকায় উত্তরের জেলা নাটোরে পানির দরে পটল বিক্রি করতে হচ্ছে চাষীদের। মাত্র দুই টাকা কেজি দরে পটল বিক্রি করায় উৎপাদন খরচ উঠছেনা কৃষকের। অথচ ৪ কিলোমিটার দুরে একই পটল বিক্রি হচ্ছে ১০টাকা কেজি দরে। আর রাজধানীর চিত্র একটু ভিন্ন সেখানে প্রতি কেজি পটল বিক্রি হচ্ছে ৩০ টাকা।

এদিকে, পটলের দাম না থাকায় অনেক চাষী জমি থেকে পটল তুলছেনা। যার কারণে পটল ক্ষেতেই পেকে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। এ অবস্থায় একটি হিমাঘার নির্মানের দাবি জানিয়েছেন কৃষকরা।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্র জানায়, চলতি বছর নাটোর জেলায় ৩২২ হেক্টর জমিতে পটল চাষ করা হয়। যা থেকে সাড়ে ৪ হাজার মেট্রিক টন পটল উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করে কৃষি বিভাগ। এছাড়া ২০১৫-১৬ মৌসুমে জেলায় ৫’শ হেক্টর জমিতে পটল চাষ করা হয়।

নাটোর সদর উপজেলার ছাতনি দিয়ার গ্রামের পটল চাষী হাফিজুল ইসলাম। গতবছর পটলের ভালো দাম পাওয়ার কারণে এবারও তিনি বিঘা খানেক জমিতে মাচায় পটল চাষ করেন। সার কীটনাশকসহ এক বিঘা জমিতে তার পটল চাষ করতে খরচ হয়েছে অন্তত ১৫ থেকে ১৬হাজার টাকা।

কিন্তু বর্তমান বাজার দরে পটল বিক্রি করে বিঘা প্রতি খরচের অর্ধেক টাকাই লোকসান গুনতে হচ্ছে।

111111123333333

পটল চাষী হাফিজুল ইসলাম বলেন, গত বছর প্রতি মণ পটলের দাম গেছে ৮০০ থেকে এক হাজার টাকা। কিন্তু চলতি বছর ৮০ থেকে ১’শ টাকা মণ পটল বিক্রি করতে হচ্ছে। যার কারণে পটল বিক্রি করে উৎপাদন খরচই উঠছেনা।

একই এলাকার আরেক পটল চাষী দুলাল সরকার বলেন, ৬ থেকে ৭মণ পটল বিক্রি করে এক কেজি গরুর মাংসই হচ্ছেনা। গত কয়েক বছরের মধ্যে এবারই পটলের দাম নি¤œ মুখি হওয়ায় দিশেহারা হয়ে পড়েছি।

দুলাল সরকার আরো বলেন, এক বিঘা জমিতে পটল চাষ করতে সার, কীটনাশকসহ যাবতীয় যে খরচ হয়েছে পটল বিক্রি করে সে টাকা উঠানো কঠিন হয়ে পড়েছে। তাই বাধ্য হয়ে জমি থেকে পটল তোলা বন্ধ করে দিয়েছে। যার কারণে জমিতেই পটল হলুদ রং ধারণ করে পেকে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। এ অবস্থায় লোকসান ঠেকাতে হিমাঘার তৈরী করে সংরক্ষণ করা হলে কিছুটা হলেও লোকসান ঠেকানো সম্ভব।

এদিকে, স্থানীয় মাঠে উৎপাদিত বেশির ভাগ পটল বিক্রি হয় ছাত্রনি দিয়ার বটতলা এলাকায়। প্রতিদিন স্থানীয় মাঠ থেকে অন্তত ২’শ মণ পটল আমদানী হয় স্থানীয় এই বাজারে।

উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা নিরেন্দ্র নাথ বলেন, এই বছর পটলের বাম্পার ফলন আর রমজান মাসে মৌসুম পড়ার কারণে পটলের দাম একেবারেই কমে গেছে। যার কারণে কৃষকরা পটল চাষ করে লোকসান গুনছে। পটল যেহেতেু ৬ থেকে ৭ মাস মাচায় রাখা যায় সেকারণে আস্তে আস্তে দাম বাড়লে কৃষকরা লোকসান পুষিয়ে নিতে পারবে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক ড. উদ্দিন আহাম্মেদ বলেন, এই সংকট থেকে কৃষকদের বাঁচাতে সমবায় ভিত্তিতে কৃষি বাজার স্থাপনের জন্য আমরা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। পাশাপাশি হিমাগার নির্মাণ করা যায় কিনা সে বিষয়ে মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাব পাঠানো হবে।
স/আ