মোহনপুর প্রতিনিধি
খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির আওতায় মোহনপুর উপজেলা ৬টি ইউনিয়নে হতদরিদ্রদের মধ্যে ১০ টাকা কেজি মূল্যে চাল বিক্রির জন্য তালিকা তৈরির অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। তালিকায় হতদরিদ্রদের নাম বাদ দিয়ে এলাকার ধনী, প্রভাবশালী, স্থানীয় রাজনৈতিক নেতা ও ব্যবসায়ীদের নাম অর্ন্তভূক্ত করার অভিযোগ উঠেছে। সেইসঙ্গে নির্ধারিত সময়ে চাল বিতরণ না করে গোপনে কালোবাজারে বিক্রির অভিযোগ উঠেছে।

জানাগেছে, উপজেলার ৬ টি ইউনিয়নের জন্য ২ জন করে সরকার নির্ধারিত মূল্যে কার্ডের মাধ্যমে খাদ্যশস্য বিতরণের জন্য ডিলার নিয়োগ করা হয়েছে।
- ১ নম্বর ধূরইল ইউনিয়নে মিজানুর রহমান মহব্বতপুর বাজারে সরকারি নিদের্শনা মোতাবেক প্রতিমাসে শুক্রবার, শনিবার, মঙ্গলবার চাল বিতরণের দিন ধার্য্য করেন। এরপর তিনি গত ৩ অক্টোবর উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের কার্যালয় হতে ১৫ মেট্রিক টন চালের ডিও নিয়ে খাদ্যগুদাম হতে ৩০০ বস্তা চাল উত্তোলন করেন। অক্টোবর মাসের বরাদ্দকৃত চাল মাত্র ৩ দিন বিতরণ করে ৩০০ জন কার্ডধারীদের মধ্যে ২০০ জনই তার নিকট থেকে চাল পাননি।
অথচ পরে চাল বিতরণ করা হবে বলে কৌশলে তাদের নিকট থেকে স্বাক্ষল টিপসই নেওয়া হয়েছে।
চাল না পেয়ে ধূরইল ইউনিয়নের পালশা ছোট, পালশা,খান পুর, মল্লিকপুর, ধুরইল হাটপাড়া,কাশিমালাসহ শতাধিক কার্ডধারী ব্যক্তি খাদ্য মন্ত্রণালয় সচিব, বিভাগীয় কমিশনার রাজশাহী, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাসহ বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
অক্টোবর মাসে কার্ডধারী চাল না পাওয়া ভুক্তভোগীরা হলেন, আক্কাস আলী-কার্ড নং-৮৭৫, আয়নাল হক-৯০৬, আহসান-৯০৫, মোকলেস ৮৯০, সুলতান-৮৮৭, নুরজাহান-৮৯৯,আমির রহমান-৮৬২, মাইনুল-৮৯৮.মহব্বত আলী-৮৬৭, ফায়েজ-, ওয়াজনবী- আপেল-৫৩০, আলামিন ৫৩৬, সাইফুল ইসলাম-৫২৮, সিরাজ উদ্দিন-৫৩৭,আনোয়ার হোসেন-৬২৪,আঃ মালেক-৬২৭,আপেল-৫১৫, সুখী-৬৩০, রঞ্জিত সিং-৬৩২,সুধির শিং-৮৩১, খিতিশ -৬৩৩, বাবলু,৯১১, আলতাব ৯১০,আবু বাক্কার-৯০৯, আঃ হামিদ- পারেছ-৫৯৫, কালাম-৬৪১,আজিজ সরকার,৬৪০ ,দুলাল-৮৩৯, সালাম-৬১৭, নইমুদ্দিন- ৬০৭,কলিম-৫৯৯, আজিজ-৬৩৫, ফয়েজ উদ্দিন- ৬৩, মিজান- ৫৯৪, লাল মোহাম্মদ-৬০৮ প্রমুখ।
এদের মধ্যে অনেক কার্ডধারীকে অগ্রিম স্বাক্ষর/টিপসহই নিয়ে ১ মাসের জনপ্রতি ৩০ কেজি চালের স্থলে ২৮ কেজি চাল বিতরণ করাও হয়েছে।
- কিন্তু যারা একেবারেই চাল পাননি তাদের বিষয়ে জানতে চাইলে ডিলার মিজানুর বলেন, গত মাসের চাল শেষ হয়ে গেছে।
কাশিমালা আদিবাসি পাড়া দরিদ্র কৃষক সুধির কুমার শিং সিল্কসিটি নিউজকে জানান, ডিলার মাসুদ কুট-কৌশলে বিভিন্ন অজুহাতে চেয়ারম্যান ও ইউপি সদস্য দোষ দিয়ে চাল বিতরণ না করে ঘুরাতে থাকে। গত ২৯ অক্টোবর ডিলার মিজানুরের কাছে ১০ টাকা কেজির চাল তুলতে গেলে তিনি বলেন, তোদের চাল শেষ হয়ে গেছে তোদেরকে পরে চাল তুলে খবর দেওয়া হবে।
অন্যদিকে ধূরইল ইউনিয়নে সংরক্ষিত মহিলা সদস্য মুন্জুআরা আরাসহ অধিকাংশ ইউপি সদস্য নিজেরদের আত্মীয়-স্বজন, প্রভাবশালী ব্যক্তিদের নাম অন্তর্ভূক্ত করেছেন সুবিধাভোগীদের তালিকায়।
- এদের মধ্যে নাম রয়েছে এইভাবে ৩০ বিঘা জমির মালিক অবসর প্রাপ্ত সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক আলহাজ্ব আব্দুল হালিম যার কার্ড নং-৫০৫, কালু হাজির ছেলে মজিবর রহমান। তারও রয়েছে হতদরিদ্রের নামের তালিকায়।
এদিকে ৬ নম্বর জাহানাবাদ ইউনিয়নে কুঠিবাড়ী পাড়া বাজারে ডিলার আব্দুস সালাম চাল বিতরণ করেন গত ২৯ তারিখে। এখানে ৫০০ সুবিধাভোগীদের মধ্যে ৩৫০ জনের মধ্যে চাল বিতরণ করা হলেও ওজনে কম দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। অন্যদের পরে চাল দেওয়া হবে বলে বলেও এখনো সেই চাল বিতরণ করা হয়নি।
অথচ সেই চাল মোহনপুরের কালোবাজারী সিন্ডিকেটের কাছে বিক্রি করে দিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
সুবিধাভোগী লাইলী বেগম কার্ড-৫৫৯, সুলতান-৬৭৩, বানেছা বেগম-৭১৭, নাজমুল, হাতেম, মজিবর-৪০৯, সোহেল-৪৯৯সহ আরো অনেকে অভিযোগ করে বলেন, ডিলার শাহিনুর গত মাসে আমাদের পাওনা ৩০ কেজি চাল না দিয়ে এক সাথে ৬০ কেজি চাল দেওয়া দিবে বলে জানিয়েছে। কিন্তু গত মঙ্গলবার চাল উত্তোলন করতে গেলে তিনি আগেই ২ মাসের চাল পেয়েছেন বলে সুবিধাভোগী কার্ডে টিপসহি/স্বাক্ষর দেখান ডিলার।
মৌগাছি ইউনিয়নে চেয়ারম্যান আল-আমিন বিশ্বাসের নিজের নামে ওএমএস ডিলারের লাইন্সেস থাকায় নিজের বোন জামাই বরজাহান আলীর নামে ডিলার শীপ পাইয়ে দেন বলেও অভিযোগ উঠে। ওই ডিলার সুবিধাভোগীদের ৩০ কেজি চাল না দিয়ে ২৮ কেজি করে চাল দেন বলেও অভিযোগ উঠেছে। আবার অনেক সুবিধাভোগীদের কার্ডে চাল বিতরণের আগেই ২ মাসের টিপসই বা স্বাক্ষর নিয়ে রেখেছেন তিনি।
সুবিধাভোগী বেলী-২৪৩, মনোআরা-৩১৭, বদিউজ্জামানসহ আরো অনেকে এসব অভিযোগ করেছেন।
- ঘাসিগ্রাম ইউনিয়নে নামেমাত্র ডিলার নাসির উদ্দিন ওজনে কম দিয়ে চাল বিতরণ শুরু করেন। এ নিয়ে বিক্ষোভও করেন কার্ডধারীরা।
এ বিষয়ে জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য ও সাবেক চেয়ারম্যান খন্দকার মিজানুর রহমান বলেন, সরকারে ভাল সিদ্ধান্ত কাজগুলোকে কিছু অসৎ মানুষের জন্য বাস্তবায়ন হচ্ছে না। এইভাবে ডিলারেরা কায়দা করে ৯ টি ওয়ার্ডের মধ্যে প্রতিমাসে কোন কোন ওয়ার্ডে চাল না দিয়ে পার পেয়ে যাচ্ছে। তিনি প্রশাসনের কাছে তদারকি জোরদার করতে আহাবন জানান।
- এদিকে অতি-দরিদ্রদের চাল বিতরণে অনিয়ম ও উপজেলা খাদ্য কর্মকর্তা পারভীনের বিরুদ্ধে ঘুষ বাণিজ্যের অভিযোগ উঠেছে।
এ বিষয়ে মোহনপুর উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মোছাঃ পারভীন সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে। তবে নিজে বিরুদ্ধে উঠা অনিয়মের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন তিনি।
মোহনপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আলমগীর কবিরের সাথে যোগযোগ করা হলে তিনি জানান, অভিযোগ পেয়েছি তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।
স/আর









