নিজস্ব প্রতিবেদক:
রাজশাহীর বাগমারায় ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে ভোট কেন্দ্রে যেতে পারবেন কি না এ নিয়েই চরম সংশয় দেখা দিয়েছে ভোটারদের মাঝে। ক্ষমতাশীন দল আওয়ামী লীগের মনোনিত প্রার্থীর কর্মীদের হুমকি ধামকির মুখে ভোট কেন্দ্রে যাওয়া নিয়ে সংশয়ে রয়েছেন স্বতন্ত্রসহ বিভিন্ন দলের প্রার্থীর কর্মী-সমর্থকরা। এতে বড় ধরণের সহিংসতার আশঙ্কাও করছেন তারা।
বিশেষ করে গোয়ালকান্দি, হামিরকুৎসা ও যোগিপাড়া ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের দলীয় ও বিদ্রোহী প্রার্থীর কর্মী-সমর্থকরা মুখোমুখি অবস্থানে রয়েছে। এ ইউনিয়নগুলোতে বিদ্রোহী প্রার্থী ও তাদের কর্মী-সমর্থকদের ভোটের প্রচারে নামতে বাধা দেয়াসহ মারপিট ও এলাকা ছেড়ে চলে যাওয়ার হুমকি দেয়া হয়েছে। এছাড়াও নির্বাচনী আচারণ বিধিও মানছেন না সরকারী দলের প্রার্থীরা। এসব বিষয়ে নির্বাচন কর্মকর্তাসহ আইন শৃংখলা বাহিনীর সদস্যদের কাছে একাধিক অভিযোগ আসলেও দৃশ্যমান কোন পদক্ষেপ দেখা যায়নি বলে অভিযোগ তুলেছেন স্বতন্ত্র প্রার্থীরা।

বাগমারা উপজেলার ১৬টি ইউনিয়ন পরিষদের আগামী ৩১ অক্টোবর। এর আগে চতুর্থ দফায় গত ৭ মে ১৬টি ইউনিয়নের নির্বাচন হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু সহিংসতার আশংকায় দুইদিন আগে ৫ মে নির্বাচন স্থগিত করা হয়। পরে নতুন তফসিল ঘোষণার পর ১৬টির মধ্যে তিনটিতে দলীয় প্রার্থী পরিবর্তন করে আওয়ামী লীগ। যাদের মধ্যে জেএমবির ক্যাডার আলমগীর সরকারও দলীয় মনোনয়ন পেয়ে যান। যার বাড়িতে জেএমবির শীর্ষ নেতাদের বৈঠক হতো এবং তার ভিডিও চিত্র গণমাধ্যমে এসেছে। তবে আগে যারা দলীয় মনোনয়ন পেয়েছিলেন তারা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বীতা করছেন।
স্বতন্ত্র প্রার্থীদের লিখিত অভিযোগ ও স্থানীয় একাধিক সূত্র জানায়, বুধবার সন্ধ্যায় গোয়ালকান্দি ইউনিয়নের সাজুড়িয়া গ্রামের ইদ্রিস আলী বাড়ির পাশের মোড়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী আব্দুস সালামের কয়েকজন সমর্থককে সঙ্গে নিয়ে চা খাচ্ছিলেন। এসময় আওয়ামী লীগ মনোনিত প্রার্থী আলমগীর সরকারের কর্মীরা সেখানে গিয়ে প্রকাশে ইদ্রিস আলীকে নৌকার পক্ষে প্রচার চালাতে বলে। নয়লে ভোটের আগ পর্যন্ত এলাকা ছেড়ে চলে যাওয়ার জন্য হুমকি দেয়া হয় তাকে। একই ভাবে গত তিনদিনে ওই গ্রামের আমজাদ হোসেন ও আলম শাহসহ ১০ থেকে ১২ জনকে হুমকি দেয়া হয়েছে।এমনকি তাদের স্থানীয় নির্বাচনী ক্যাম্পেও যেতে দেয়া হয়নি।
এছাড়াও গত ২৩ অক্টোবর ওই গ্রামে নির্বাচনী প্রচার চালাতে স্বতন্ত্র প্রার্থী আব্দুস সালামকে বাধা দেয়া হয়। ওই দিনই সন্ধ্যায় শাহ আলম নামের আব্দুস সালামের এক কর্মীকে মারধর করে আলমগীর সরকারের কর্মীরা। একই অবস্থা মির্জাপুর, রামরামা, কামারখালি, কনোপাড়া, দুলালিপাড়া ও তেলিপুকুর গ্রামে। এ সব এলাকায় স্বতন্ত্র প্রার্থীর পোষ্টার ব্যানার টাংগাতেও বাধা দেয় আলমগীর সরকারের কর্মীরা।
স্বতন্ত্র প্রার্থী ও উপজেলা আওয়ামী লীগের কৃষি বিষয়ক সম্পাদক আব্দুস সালাম বলেন, সাজুড়িয়া, কনোপাড়া, রামরামা ও কামারখালি এই চারটি ভোট কেন্দ্রের আওতায় তার কর্মী-সমর্থকদের ভয়ভিতি দেখানো হচ্ছে। বহিরাগত ক্যাডার বাহিনী নিয়ে গিয়ে আলমগীর সরকারের কর্মীরা এসব সন্ত্রাসী কর্মকান্ড চালাচ্ছে। এ ব্যাপারে আইন শৃংখলা বাহিনীসহ রিটানিং অফিসারের কাছে একাধিক লিখিত অভিযোগ দিয়েও কোন লাভ হয়নি বলে অভিযোগ তুলেন এই স্বতন্ত্র প্রার্থী।
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে শান্তিপুর্ণভাবে প্রচার প্রচারণা চলছে বলে দাবি করেন আলমগীর সরকার। তিনি বলেন, দলীয় মনোনয়ন না পেয়ে আব্দুস সালাম একের পর এক তার কর্মীদের বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ করছেন।
উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা গোলাম মোস্তফা সিল্কসিটি নিউজকে বলেন, ভোটারা যেন নির্বিগ্নে ভোট কেন্দ্রে দিয়ে ভোট দিতে পারে তার জন্য সব ধরণের পদক্ষেপ গ্রহন করা হয়েছে। আচারণ বিধি লংঘন ও কর্মী-সমর্থকদের ভয়ভিতি দেখানোর যে সব অভিযোগ যাওয়া গেছে তা তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
বাগমারা থানার ওসি সেলিম হোসেন জানান, যেখানে বিশৃংখলা সৃষ্টির চেষ্টা করা হয়েছে খবর পেয়ে সাথে সাথে সেখানে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। তবে সেখানে পুলিশ যাওয়ার আগেই তারা সটকে পড়েছে। ভোটে বিশৃংখলাকারিদের তালিকা তৈরী হচ্ছে। ভোটের আগেই তাদের আটক করে বিশেষ অভিযান চালানো হবে বলেও জানান তিনি।
স/শ









