রাজশাহী

বাঘায় মোবাইল চুরির অপবাদ দিয়ে স্কুলশিক্ষার্থীকে ঝুলিয়ে নির্যাতনের অভিযোগ

নিউজ ডেস্ক২৪ অক্টোবর ২০১৬৩ মিনিট পড়া

বাঘা প্রতিনিধি:

রাজশাহীর বাঘায় মোবাইল চুরির অপবাদ দিয়ে এক স্কুল ছাত্রকে পা বেঁধে একটি দোকান ঘরের কাঠের তীরের সাথে ঝুলিয়ে নির্যাতন করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। সোমবার সকালে উপজেলার নারায়নপুর বাজারের মনিকা সিনেমা হলের সামনে প্রকাশ্যে এই ছাত্রকে নির্যাতন করা হয়। নির্যাতনের শিকার ওই শিক্ষার্থীর নাম মনিরুল ইসলাম (১৩)। সে চকনারায়নপুর গ্রামের মিঠু প্রামানিকের ছেলে।

 

পরে বাজারের লোকজন ছাত্রকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ভর্তি করে। খবর পেয়ে বাঘা থানা পুলিশ ঘটনার সঙ্গে জড়িত জিল্লুর রহমান নামের এক পুলিশ সদস্যকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, উপজেলার চকছাতারি গ্রামের সাবেক ইউনিয়ন মেম্বর হারান আলীর ছেলে ব্যবসায়ী মহিবুল আলম নারায়নপুর বাজারে মাছ বাজারে ঘোরাফেরা করছিল। এ সময় তার ব্যবহৃত একটি মোবাইল খোয়া যায়। সেখানে ছিল কয়েকজন যুবক।

 

পরে চকনারায়নপুর গ্রামের মিঠু প্রামানিকের সপ্তম শ্রেণীতে পড়ুয়া ছেলে মনিরুল ইসলামকে (১৩) মোবাইল চোর সন্দেহ করে মহিবুল ইসলামসহ তার ভাই সেনা সদস্য জাহাঙ্গীর হোসেন, অপর ভাই পুলিশ সদস্য হাফিজুর রহমান জিল্লুর ওই ছাত্রকে মটোরসাইকেলে করে তুলে নিয়ে নারায়নপুর বাজারে মনিকা সিনেমা হলের সামনে আসেন।

 

সেখানে ওই শিক্ষার্থীর দুই পাঁ বেঁধে দোকানের কাঠের তীরের সাথে উপরে পাঁ ঝুলিয়ে শারীরিক নির্যাতন করা হয়। এ দৃশ্য দেখে বাজারের নির্যাতনকারীদের ধাওয়া দিলে তারা পালিয়ে যায়। এরপর ওই ছাত্রকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে।

 

প্রত্যক্ষদর্শী স্থানীয় তূর্য লুৎফর রহমানসহ আরো অনেকে জানান, বিক্ষুব্ধ জনতার ধাওয়া খেয়ে মটোরসাইকেল ফেলে সেনা সদস্য জাহাঙ্গীর ও তার ভাই পুলিশ সদস্য হাফিজুর পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। তবে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল মটোরসাইকেলসহ পুলিশ সদস্য জিল্লুরকে আটক করে।

 

এদিকে মোবাইল চুরির সঙ্গে ছেলে জড়িত থাকতে পারে না বলে দাবি করে মনিরুলের মা আবেদা বেগম বলেন, আমার ছেলে নির্দোষ। কিন্তু সেনা সদস্য জাহাঙ্গীর ও তার ভাই পুলিশ সদস্য হাফিজুর আমার ছেলেকে ধরে নিয়ে গিয়ে উল্টো করে বেঁধে পিটিয়েছে। আমি এর বিচার চাই।তাদের এমন শাস্তি দেওয়া হোক, যেন কেউ আর শিশুদের ওপর নির্যাতন চালাতে না পারে।
জানতে চাইলে বাঘা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আলী মাহমুদ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে সিল্কসিটি নিউজকে বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ফোর্স নিয়ে ঘটনাস্থল থেকে মটোরসাইকেলসহ জিল্লুরকে আটক করা হয়েছে। সে পুলিশ সদস্য বলে জানা গেছে। ছুটিতে এসে সে এই ধরনের ঘটনা ঘটিয়েছে। তার পলাতক দুই ভাইকেও আটক করার চেষ্টা চলছে।

 

এ ঘটনায় ছাত্র মনিরুলের মা বাদী হয়ে মামলা করেছেন। ওই মামলায় জিল্লুরকে গ্রেফতার দেখানো হয়েছে।

স/আর