নিজস্ব প্রতিবেক:
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) শিক্ষার্থী মোতালেব হোসেন লিপুর হত্যাকাণ্ড নিয়ে নানা রহস্যের জন্ম দিয়েছে। আবার হত্যা নাকি আত্মহত্যা সেটি নিয়েও নানা প্রশ্নের উদ্রেগ সৃষ্টি হয়েছে। তবে এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য চারজনকে আটক করেছে পুলিশ।

আটককৃতরা হলেন, লিপুর রুমমেট মনিরুল ইসলাম, লিপুর বন্ধু প্রদীপ ও হলের দুইজন প্রহরী (গার্ড)।
এদিকে ওই ঘটনায় চাচা বশির উদ্দিন বাদী হয়ে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় বাদী হয়ে অজ্ঞাত কয়েকজনকে আসামি করে একটি মামলা করেছেন।

- তাদের আটকের বিষয়টি নিশ্চত করে নগরীর মতিহার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হুমায়ুন কবীর বলেন, বৃহস্পতিবার দুপুরে লিপু যে কক্ষে থাকতেন সে কক্ষসহ আশপাশের কক্ষগুলোতে তল্লাশি চালানো হয়েছে। কিন্তু লিপু মোবাইল ফোনটি পাওয়া যায়নি। লিপুর রুমমেটসহ আরো দুইজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করে থানায় নেয়া হয়েছে। তার মৃত্যুর ঘটনাটি অত্যন্ত গুরুত্বে সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে।

আরেকটি সূত্র সিল্কসিটি নিউজকে জানায়, লিপুর মোবাইলের সিম কার্ডটি ছিল তার বন্ধু প্রদীপের কাছে। এ কারণেই তাকে আটক করা হয় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য। আর ওই হলে লিপুর সিট বরাদ্দ না থাকলেও তিনি যে কক্ষটিতে থাকতেন সেই কক্ষের অপর শিক্ষার্থী মনিরুলকে আটক করা ওই ঘটনার সঙ্গে তার কোনো সংশ্লিষ্টতা আছে কিনা সেটি ক্ষতিয়ে দেখতে।
- এছাড়াও হলের অভ্যান্তরের চিকন ড্রেনের মধ্যে কিভাবে লাশটি পড়েছিল, বা কারা তাকে হত্যা করলো সেটি খুঁজে বের করতে ওই হলের দুই গার্ডকে আটক করা হয়।
অপর একটি সূত্র সিল্কসিটি নিউজকে জানায়, হতদরিদ্র পরিবারের সন্তান লিপু বছর খানেক শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষার প্রক্সি দিতে গিয়ে আটক হয়েছিলেন। অর্থভাবে টাকার বিনিময়ে ওই প্রক্সি দিতে গিয়ে আটক হেয় লিপু রাবিতে এক বছরের জন্য পিছিয়ে পড়েন। এরপর থেকে লিপুর সঙ্গে তার পরিবারের সদস্যদেরও তেমন যোগাযোগ ছিল না।

- প্রক্সি দিতে যাওয়ার নেপথ্যে ছাত্রলীগের একজন নেতাসহ কয়েকজন জড়িত তাকার বিষয়টি লিপু প্রকাশ করে দেয়। এ নিয়ে ওই চক্রটির সঙ্গে লিপুর দ্বন্দ্বও চলে আসছিল। এরই জের ধরে লিপুকে খুন করে হতে পারে বলেও ধারণা করছেন কেউ কেউ।
লিপুর চাচা বশির উদ্দিন বলছিলেন, ‘গত মঙ্গলবার লিপু বাড়ি থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ে আসে। কারো সঙ্গে ঝামেলায় না জড়িয়ে পড়াশোনা করতে বলি।’ তিনি দাবি করেন, ‘এর আগে বদলি পরীক্ষা দিয়ে ধরা পড়ার পর কয়েকজন লিপুকে বিভিন্ন ধরনের ভয়-ভীতি ও হুমকি দিয়ে আসছিল।’
লিপুর লাশ উদ্ধারের সময় ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন এবং আলামত সংগ্রহ করেন পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। তাদের একটি সূত্রও দাবি করছে, প্রাথমিক আলমতে যা তারা পেয়েছেন, সেটি একটি হত্যাকাণ্ডই। তারপরেও বিষয়টি ফরেনসিকি রিপোর্ট ছাড়া পরিস্কার হওয়া যাচ্ছে না। এই রিপোর্ট পেতে তাদের সশয় লাগতে পারে প্রায় ১৫ দিন। এর মধ্যেই পরিস্কার হওয়া যাবে লিপুকে হত্যা করা হয়েছে নাকি তিনি আত্মহত্যা করেছেন সে বিষয়টি।
আরেকটি সূত্রটি বলছে, লিপু ওই ঘটনার পর থেকেই অনেকটা মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছিলেন। কারো সঙ্গে তেমন মিশতেনও না। আবার অর্থনৈতিকভাবে অনেকটা টানা-কষার মধ্যে ছিলেন। সেই সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ে এক বছর পিছিয়ে পড়া নিয়েও ছিল মানসিক কষ্ট। এসব কারণেও আত্মহত্যা করতে পারেন লিপু।
তবে তার লাশ যে চিকন ড্রেন থেকে পাওয়া যায়, সেখানে হলের তিন তলার ছাদ থেকে লাফ দিয়ে পড়লেও ড্রেনে পড়ার কথা নয় বলেও দাবি করেন প্রত্যক্ষদর্শীরা। এই অবস্থায় তাকে হত্যা করেই হয়তো দুর্বৃত্তরা ওই ড্রেনের মধ্যে ঠেলে লিপুর লাশ ঢুকে দেয় বলেও দাবি করেন তদন্ত সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র।
- এর আগে বিকেলে রাবি গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থী মোতালেব হোসেন লিপুর লাশ রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে ময়নাতদন্ত ও রাবিতে কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ মাঠে জানাযা শেষে তার চাচা বশির মোল্লার কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। রামেকে বেলা সাড়ে ৩টার দিকে লিপুর লাশের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়। পরে বিকেলে রাবিতে নামাজের জানাযা অনুষ্ঠিত হয়।
ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসক এনামুল হক সাংবাদিকদের বলেন, নিহত লিপুর মাথার ডানপাশে গুরুতর আঘাত ছিল। ভাঙা পাওয়া গেছে তার পাঁজরের দুটি হাড়। এছাড়া ডান হাত ও দুই পায়েও আঘাতের চিহ্ন ছিল। মূলত মাথায় গুরুতর আঘাত পেয়েই লিপুর মৃত্যু হয়েছে।
উল্লেখ্য, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের এক শিক্ষার্থী মোতালেব হোসেন লিপুর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার সকালে আব্দুল লতিফ হলের ক্যান্টিনের পেছনের ড্রেন থেকে এ মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তিনি গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী। তার বাড়ি ঝিনাইদহের হরিণাকুন্ডু। তিনি নওয়াব আব্দুল লতিফ হলের ২৫৩ নম্বর কক্ষের আবাসিক শিক্ষার্থী ছিলেন।
স/আর









