অর্থ ও বাণিজ্য

দুর্যোগ মোকাবেলায় একগুচ্ছ প্রকল্প

নিউজ ডেস্ক১৪ মে ২০১৯৪ মিনিট পড়া

সিল্কসিটিনিউজ ডেস্ক:

আসন্ন বাজেটে প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবেলা করে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্য (এসডিজি) অর্জনে নজর দেয়া হচ্ছে। এজন্য পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় ১১টি নতুন প্রকল্প হাতে নিয়েছে।

চলমান ও নতুন ৩০টি প্রকল্প বাস্তবায়নসহ অন্য ব্যয় মেটাতে আগামী অর্থবছরে এ মন্ত্রণালয়ের অর্থের প্রয়োজন ১ হাজার ৬৩৪ কোটি টাকা। নতুন বাজেটে প্রয়োজনীয় এ অর্থ বরাদ্দের জন্য সম্প্রতি অর্থ সচিবকে আধা-সরকারি পত্র (ডিও লেটার) দিয়েছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের সচিব। সংশ্লিষ্ট সূত্রে পাওয়া গেছে এসব তথ্য।

জানা গেছে, জলবায়ু মোকাবেলায় সব ধরনের প্রস্তুতির জন্য অর্থ বরাদ্দ রাখা হচ্ছে আসন্ন বাজেটে। অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে আগামী বাজেটে প্রাথমিকভাবে ১ হাজার ৩৯৮ কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়েছে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়কে। এ বরাদ্দের পর নতুন করে আরও ২৩৫ কোটি টাকা বরাদ্দ বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছে পরিবেশ মন্ত্রণালয়।

পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন সচিব আবদুল্লাহ আল মোহসীন চৌধুরী বলেন, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ, সর্বোত্তম বন কভারেজ, পরিবেশ দূষণ নিয়ন্ত্রণ, টেকসই পরিবেশ নিশ্চিতকরণের মাধ্যমে এসডিজি লক্ষ্য অর্জনের পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যে উন্নয়ন কাজ বাস্তবায়নের জন্য ১ হাজার ৬৩৪ কোটি টাকা প্রয়োজন। আগামী বাজেটে এ অর্থ বরাদ্দের জন্য অর্থ মন্ত্রণালয়কে সুপারিশ করা হয়েছে।

জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বাংলাদেশ বড় ধরনের হুমকির মধ্যে আছে। প্রতি বছর আগাম ও স্বাভাবিক বন্যায় আক্রান্ত হচ্ছে দেশ। অস্বাভাবিক বৃষ্টিপাত বা অনাবৃষ্টি হচ্ছে। আবার কখনও খরাসহ অসহনীয় গরমও দেখা দিচ্ছে। এতে একদিকে কৃষির ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে। অন্যদিকে নানাবিধ সমস্যার কারণে অর্থনীতিতে এর বিরূপ প্রভাব পড়ছে।

সর্বশেষ জলবায়ু পরিবর্তনের আগ্রাসন হিসেবে যোগ হয়েছে ঘূর্ণিঝড় ফণী। সম্প্রতি এ ঝড়ে দেশব্যাপী ফসলি (আংশিক) ১ লাখ ৫৩ হাজার ৮৩২ একর ও পুরোপুরি ১ হাজার ৮৩০ একর জমি ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

ঝড়ের তাণ্ডবে ৫ জন নিহতসহ আহত হয়েছেন ৮৩২ জন। একই সময়ে গবাদি পশু মারা গেছে ১৭৫টি। এর আগে গত বছরের অকাল বন্যায় হাওরের প্রায় ১০ লাখ টন ধান নষ্ট হয়ে যায়।

জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে আগামীতে আবার বন্যার আশঙ্কা করা হচ্ছে। ফলে বাজেটে জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলায় প্রয়োজনীয় কার্যক্রম পরিচালনাকে বেশ গুরুত্ব দিয়ে বরাদ্দ রাখার প্রস্তাব দিয়েছে পরিবশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়।

মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা জানান, জলবায়ু মোকাবেলা করতে না পারলে আগামীতে এসডিজি বাস্তবায়ন সম্ভব হবে না। এজন্য জলবায়ু মোকাবেলায় প্রয়োজনীয় সব ধরনের উদ্যোগ নিতে হবে। আর তা বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় বাজেটে বরাদ্দসহ সব ধরনের প্রস্তুতি রাখার পরিকল্পনা রাখতে হবে।

সূত্র মতে, অর্থ সচিবকে পাঠানো ডিও লেটারে বলা হয়, ২০১৯-২০ অর্থবছরে মন্ত্রণালয়ের উন্নয়ন বাজেটের আওতায় ১৯টি প্রকল্প চলমান আছে।

পাশাপাশি পিইসির সুপারিশকৃত ১১টি নতুন প্রকল্প অনুমোদন দেয়া হয়েছে। এসব প্রকল্পের অনুকূলে ৮১১ কোটি ১৯ লাখ টাকার প্রয়োজন হবে। এর মধ্যে সরকারি খাত থেকে ৩৫৭ কোটি ১৯ লাখ টাকা এবং বিদেশি সহায়তা হিসেবে ৪৫৪ কোটি টাকা দরকার।

কিন্তু মধ্যমেয়াদি বাজেট কাঠামোর আওতায় অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের ব্যয় সীমা (বাজেট) নির্ধারণ করেছে ১ হাজার ৩৯৮ কোটি ১৫ লাখ টাকা। এ বরাদ্দ থেকে উন্নয়ন বাজেটের জন্য ৫৭৫ কোটি টাকা বরাদ্দ দেয়া সম্ভব হয়েছে। যার মধ্যে প্রকল্প সাহায্য হচ্ছে ৩৫৭ কোটি টাকা।

ডিও লেটারে আরও বলা হয়, নতুন অনুমোদিত টেকসই বন ও জীবিকা (সুফল) শীর্ষক প্রকল্পের ব্যয় প্রায় ১৫০৩ কোটি টাকা। এর মধ্যে সরকারি ব্যয় হচ্ছে প্রায় ৩৩ কোটি টাকা ও প্রকল্প সহায়তা (বিশ্ব ব্যাংকের ঋণ) ১ হাজার ৪৭০ কোটি টাকা। ফলে ৫ বছর মেয়াদি এ প্রকল্পের অনুকূলে আগামী বাজেটে ৪০০ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রয়োজন হবে।

বড় ধরনের এ প্রকল্প ছাড়াও ২০১৯-২০ অর্থবছরে বাস্তবায়নের জন্য জার্মান সরকারের অর্থায়নে সুন্দরবনের বিকল্প জীবিকায়ন প্রকল্প নেয়া হয়েছে। ফলে এসব প্রকল্পের জন্য আগামী বাজেটে প্রকল্প সহায়তার ব্যয়সীমা আরও ২৩৫ কোটি টাকা বৃদ্ধি করা প্রয়োজন।

সূত্র মতে, জলবায়ু পরিবর্তনসহ সার্বিক পরিস্থিতি মোকাবেলায় পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের চলতি সংশোধিত বাজেট বাড়ানো হয়েছে। টাকার অঙ্কে বাড়ানো হয় ৩৯ কোটি টাকা। এ ব্যয় বাড়ানো হয়েছে উন্নয়ন বাজেটে।

শুরুতে এ মন্ত্রণালয়ের উন্নয়ন বাজেট ঘোষণা করা হয় ৪৮১ কোটি ৩৭ লাখ টাকা। সংশোধিত বাজেটে বাড়িয়ে নির্ধারণ করা হয় ৫২০ কোটি টাকা।

জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলায় ইতিমধ্যে অনেকগুলো প্রকল্প হাতে নেয়া হয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে লালমাই পাহাড় এলাকায় উদ্ভিদ উদ্যান স্থাপন, দেশের পাঁচটি উপকূলীয় জেলায় বনায়ন প্রকল্প, রংপুর জেলায় সামাজিক বনায়ন ও টেকসই উন্নয়ন, বণ্যপ্রাণী সংরক্ষণ, বঙ্গোপসাগরের উপকূলে জেগে ওঠা নতুন চর বনায়ন, চর উন্নয়ন ও বসতি স্থাপন ক্লাইমেট ফাইন্যান্স গভর্ন্যান্স প্রকল্প।