অর্থ ও বাণিজ্য

দিশেহারা কৃষক, অসহায় ভোক্তা!

নিউজ ডেস্ক১১ জানুয়ারি ২০১৯২ মিনিট পড়া

সিল্কসিটিনিউজ ডেস্ক:

কষ্টে ফলা ধান খেত থেকে কয়েক দফায় হাত বদলে চাল হয়ে ভোক্তার কাছে যায়। কিন্তু মধ্যস্বত্ত্বভোগীদের কারসাজিতে কম দামে ধান বেচে একপ্রান্তে কৃষক দিশেহারা, আরেক প্রান্তে চড়া দামে চাল কিনে অসহায় ভোক্তা।

বড়দরগা হাটে ভর-মৌসুমেও হাতে গোনা কৃষক আর জনা দুই ব্যাপারী। পরিবহন ব্যয় ছাড়াও মনপ্রতি ১৫ টাকা টোল গুণে এই হাটে আর আসেই না কৃষক। এবার সেচ, কীটনাশকে অপ্রত্যাশিত ব্যয়ে উৎপাদন খরচ বাড়ায় কৃষকের লাভ নিয়ে শঙ্কায়। তবে প্রতি লাখে ২০ অথবা ২৫ হাজার টাকার লাভ আসবেই ব্যাপারীর পকেটে।

কৃষকের হাত থেকে ফড়িয়ারা ধান কিনে ব্যাপারীদের কাছে দেয়। এরপর চাতালে, চাতাল থেকে মিলে চাল হয়ে ডিলার বা বড় কারবারিদের গুদামে মজুদ হয়। সেখান থেকে বাজারে যায় চাল। ভোক্তার কাছে যেতে পাইকারি ও খুচরা ব্যবসায়ীর মধ্যে আরেক বার হাত বদলায়। প্রতিটি হাতে থাকে লাভের হিসাব।

কৃষক নেতা বলছেন, ব্যাপক মজুদের সুযোগে ব্যবসায়ী ও মিলাররা বাজার নিয়ন্ত্রণ করছে। নতুন ধান বাজারে আসার সময় হলে মজুদ ছেড়ে দরপতন ঘটিয়ে কম দামে নতুন ধানের মজুদ গড়ে তারা। বিপণন বিভাগের ভরসা মধ্যসত্ত্বভোগীদের ওপর। চাইলেও ব্যবস্থা নিতে পারে না খাদ্য বিভাগ।

রংপুর জেলা কৃষক সমিতি সভাপতি নজরুল ইসলাম হক্কানী বলেন, ধানের দাম কমানোর জন্য তাদের মজুদকৃত চাল বাজারে ছেড়ে সরবারহ বাড়াচ্ছে। এতে ধানের দাম কমে যাচ্ছে।

জেলা বিপণন কর্মকর্তা হাসান সরওয়ার বলেন, ‘ডিলাররা যদি  সঠিকভাবে কৃষকের কাছ থেকে ধান কিনে চালটা সরবরাহ করে তবে ভাল দাম পাবে।’

জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক শাহজাহান ভূঁইয়া বলেন, ‘অভিযোগ আসলে সব কর্তৃপক্ষই ব্যবস্থা নিতে পারবে।’

ধান চালের ব্যবসা করে মধ্যস্বত্ত্বভোগীরা লাভের পাহাড় গড়ছে। আর উৎপাদন খরচ কোন মতে উঠিয়ে বছরের পর বছর কৃষকের স্বপ্ন কুঁড়েঘরেই ফিকে হচ্ছে।