নিজস্ব প্রতিবেদক:
তপ্ত রোদ উপেক্ষা করে স্বপ্ন বুনে কৃষক। মাসের পর মাস কঠোর পরিশ্রমের পরে ধান কাটার উৎসবের ছোঁয়া পাই কৃষকরা। তবে দামে বেলায় কৃষকের উৎসব কষ্টে ফিকে হয়ে যায়।
রাজশাহীতে সরকারিভাবে ১ ডিসেম্বর থেকে চাল সংগ্রহ কর্মসূচি চালু হলেও তাতে ভাগ্য ফিরছে না কৃষকের। তাদের দাবি, দেরিতে ধান-চালের মূল্য নির্ধারণ ও বাজারে মধ্যস্বত্ত্বভোগীদের দৌরাত্ম্যে ন্যায্য মূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন তারা। তবে খাদ্য বিভাগ বলছে, কৃষি বিভাগের সঙ্গে সমন্বয় রেখেই ধান-চালের দাম নির্ধারন করা হয়ে। চলতি বছর জেলায় সরকারিভাবে আমন চাল কিনতে চুক্তিবদ্ধ হয়েছে ২৩৮টি চাল মিল।

রাজশাহী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপপরিচালক (উদ্যান) আবদুল ওয়াদুদু জানায়, রাজশাহী অঞ্চলে ৭৫ হাজার ১৬৬ হেক্টর জমিতে এই ধানের চাষ হয়েছে। এবছর গড় ফলন ৭ দশমিক ৫৭ টন পার (প্রতি) হেক্টর। আর গত বছর ছিলো ৩ দশমিক ৩ টন পার (প্রতি) হেক্টর।
কৃষি বিভাগের তথ্য মতে, এতে পূরণ হয়েছে, জেলার ১ লাখ ৯৬ হাজার মেট্রিক টন আমনের উৎপাদন। কিন্তু হাট-বাজারে আমনের দাম পায়নি কৃষক। তাদের প্রতি মণ আমন ধান বিক্রি করতে হয়েছে ৫শ’ থেকে ৬শ’ টাকায়।
নগরীর উপকণ্ঠ খরখড়ি সিটি বাইপাসের ললিতাহার এলাকার মো. আবুল কাশেম (৭০)। বলেন, তার সাড়ে পাঁচ বিঘা জমিতে স্বর্ণা ধান চাষ করেছেন। বিঘা প্রতি ১২হাজার টাকা খরচ হয়েছে। গত বছর বিঘাপ্রতি তিন হাজার টাকা কম খরচ হয়েছে এক বিধা ধান চাষে। কিন্তু এবছর বর্ষণ না থাকায় সেচ দেওয়ার কারণে খরচ বেড়েছে।
তিনি আরো বলেন, ধান ওঠার পর ধান বিক্রি হয় কিন্তু সেই অনুযায়ী দাম পাওয়া যায় না। ধান যখন ওঠে তখন সরকার দামটা নির্ধারণ করে দিলে আমরা লাভবান হতাম। আমনের স্বল্পমূল্যের এ সুযোগে কৃষকের অধিকাংশ ধান ঢুকেছে মজুতদারের ঘরে। ফলে আবারো ন্যায্য মূল্য থেকে বঞ্চিত হয়েছে কৃষক বলে দাবি করেন তিনি।
রাজশাহীর গোদাড়ীর মন্সি ট্রেডার্সের সত্ত্বাধিকার আবদুল্লাহ-আল-মামুন জানায়, নতুন ধান উঠায় বাজারে তেমন প্রভাব পড়েনা। তবে বেশি উঠলে কমে দাম।
কৃষকরা বলেন, সরকার যেসময় ধানের দাম নির্ধারণ করে দিয়েছেন তখন ধান ঘরে থাকে না, কম মূল্যে বিক্রি হয়ে যায়। তেল, সেচ, সার খরচ অনেক বেশি সে তুলনায় আমরা দাম পাই না।
জানা গেছে, এবছর সরকারিভাবে রাজশাহী থেকে ৩৬ টাকা দরে ৭ হাজার ৭৩৩ মেট্রিক টন আমন চাল কেনা হবে। আর তার যোগান দিতে মিল মালিকরাও অধিক দরে ধান কিনছেন মজুতদারের কাছ থেকে।
পবার মেসার্স দোলা চালমিলের মালিক মো. আফসার আলী বলেন, যখন ভাবা হয় ধানের দাম আরো বাড়বে তখন চালের সাথে ধানের দামের সমঝোতা থাকে না।
রাজশাহীর জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মো. নাজমুল হক ভুঁঁইয়া বলেন, কৃষি বিভাগের সঙ্গে সমন্বিতভাবে ধান-চালের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে। দামে ক্ষতিগ্রস্ত হবে না কৃষক। ধানের উৎপাদন খরচ হিসাব করে ধানের দাম ধরা হয়েছে। সেক্ষেত্রে কৃষকদের অভিযোগ সত্যি নয়। তারপরও যদি কৃষকরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে থাকে সেক্ষেত্রে মিলারদের দৌরাত্ম্য থাকতে পারে।
স/আ









