অর্থ ও বাণিজ্য

শেয়ারবাজার ঋণাত্মক ইকুইটির বিওতে লেনদেনের মেয়াদ বাড়ল ২ বছর

নিউজ ডেস্ক২৭ ডিসেম্বর ২০১৮৩ মিনিট পড়া

সিল্কসিটিনিউজ ডেস্ক:

পুঁজিবাজারে ঋণাত্মক ইকুইটির বেনিফিশিয়ারি ওনার্স (বিও) অ্যাকাউন্টে লেনদেনের মেয়াদ আরো দুই বছর বাড়িয়েছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) ব্রোকার্স অ্যাসোসিয়েশনের (ডিবিএ) আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ও পুঁজিবাজার তথা বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ বিবেচনায় এ মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে। গতকাল বিএসইসির চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. এম খায়রুল হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত কমিশন সভায় এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

বিএসইসির নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র মো. সাইফুর রহমান স্বাক্ষরিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, ডিবিএর আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এবং পুঁজিবাজার ও বিনিয়োগকারীর স্বার্থ বিবেচনায় কমিশন এর আগে ২০১৭ সালের ১৭ আগস্ট জারি করা নির্দেশনার মাধ্যমে মার্জিন রুলস ১৯৯৯-এর ৩(৫) ধারার কার্যকারিতা স্থগিতাদেশের মেয়াদ আরো দুই বছর অর্থাৎ ২০২০ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত বাড়িয়েছে।

প্রসঙ্গত, মার্জিন রুলস, ১৯৯৯-এর ৩(৫) ধারায় বলা হয়েছে, যখন কোনো গ্রাহকের মার্জিন হিসাবে তার ইকুইটি ডেবিট ব্যালান্সের ১৫০ শতাংশের নিচে নেমে আসে, তখন হাউজ সংশ্লিষ্ট গ্রাহককে ঋণ সমন্বয়ের জন্য বলবে। হাইজ কর্তৃক গ্রাহককে এ সংক্রান্ত চিঠি ইস্যুর তিনদিনের মধ্যে নগদ অর্থ কিংবা মার্জিনেবল সিকিউরিটিজ জমার মাধ্যমে ঋণ সমন্বয় করতে হবে। যে পর্যন্ত ইকুইটি ডেবিট ব্যালান্সের বিপরীতে সন্তোষজনক অবস্থায় না আসবে, সে পর্যন্ত ওই বিও হিসাবে শেয়ার লেনদেন বন্ধ থাকবে।

২০১০ সালের ধসের পর মার্জিন ঋণধারী বিনিয়োগকারীদের পোর্টফোলিওর সম্পদমূল্য অস্বাভাবিক হারে কমে যায়। ঋণাত্মক ইকুইটির বিও হিসাবের সংখ্যা অনেক বেশি হয়ে যাওয়ায় সংশ্লিষ্ট বিনিয়োগকারী ও শেয়ারবাজারের স্বার্থে সেগুলোয় লেনদেন চালিয়ে যাওয়ার সুযোগ চায় ব্রোকারেজ হাউজ ও মার্চেন্ট ব্যাংকগুলো। পরবর্তী সময়ে স্টক এক্সচেঞ্জও এ বিষয়ে সুপারিশ করে। এর পরিপ্রেক্ষিতে ২০১৩ সালের ৯ এপ্রিল মার্জিন রুলস, ১৯৯৯-এর ধারা ৩(৫)-এর কার্যকারিতা এক বছরের জন্য স্থগিত করে বিএসইসি। এর পর থেকে এ পর্যন্ত আট দফা এ স্থগিতাদেশের মেয়াদ বাড়িয়েছে বিএসইসি। সর্বশেষ এ বছরের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত এ স্থগিতাদেশের মেয়াদ রয়েছে।

এদিকে গত বছরের ১৭ আগস্ট জারি করা নির্দেশনায় মার্জিন রুল ১৯৯৯-এর ৩(৫) ধারার কার্যকারিতা স্থগিতের পাশাপাশি বেশকিছু শর্তারোপ করেছিল কমিশন। এগুলো হলো প্রতিষ্ঠানগুলোকে ২০১৭ সালের ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে ঋণাত্মক ইকুইটি সমাধানের বিষয়ে তাদের পরিকল্পনা জমা দিতে হবে। আর ১ অক্টোবর থেকে ঋণাত্মক ইকুইটির বিও হিসাবের ক্ষেত্রে প্রত্যেক প্রান্তিকের জন্য আলাদা কর্মপরিকল্পনা তৈরি করতে হবে। পরিকল্পনায় ২০১৮ সালের ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে প্রত্যেক ঋণাত্মক হিসাবের ঋণ সমন্বয়ের বিষয়টি চূড়ান্ত নিষ্পত্তির লক্ষ্য থাকতে হবে। পরিকল্পনা জমা দেয়ার পর প্রতি প্রান্তিক শেষে এর অগ্রগতি প্রতিবেদন কমিশন ও স্টক এক্সচেঞ্জে জমা দিতে হবে। প্রান্তিক শেষ হওয়ার সাতদিনের মধ্যে ওই প্রান্তিকের প্রতিবেদন জমা দিতে হবে। আর ঋণাত্মক ইকুইটি সংক্রান্ত কর্মপরিকল্পনা ও অগ্রগতি প্রতিবেদন পাওয়ার দুই সপ্তাহের মধ্যে কমিশনের কাছে একটি সমন্বিত প্রতিবেদন পাঠানোর জন্য স্টক এক্সচেঞ্জকে নির্দেশনা দেয়া হয়েছিল।