সিল্কসিটিনিউজ ডেস্ক:
সবাই বাতিলের খাতায় ফেলে দিয়েছে এমন এক প্রযুক্তির সেবা দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে রাষ্ট্রায়ত্ত টেলিযোগাযােগ সংস্থা বিটিসিএল।
সারা বিশ্বের মতো দেশেও অনেকটা ‘মৃতপ্রায়’ ওয়াইম্যাক্স। এখন এ সেবার লাইসেন্স নিতে যাচ্ছে সংস্থাটি, যা অবাক করেছে সবাইকে। এতে ২১৫ কোটি টাকা লাইসেন্স ফিসহ আরও কয়েকশ’ কোটি টাকার বিনিয়োগ জলে যেতে পারে বলে মনে করছেন টেলিযোগাযোগ বিশেষজ্ঞরা।

মোবাইল ফোন অপারেটরগুলোর ডেটা ব্যবসার কাছে মার খেয়ে হারিয়ে যেতে বসেছে এ সেবা।
বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) সম্প্রতি এক বৈঠকে সরকারের সবচেয়ে বড় টেলিযোগাযোগ কোম্পানি বাংলাদেশ টেলিকমিউনিকেশন্স কোম্পানি লিমিটেডের (বিটিসিএল) এ সংক্রান্ত লাইসেন্স নেওয়ার বিষয়টি অনুমোদন করা হয়েছে।
এ লাইসেন্স পেলে তারা এলটিই সেবাও দিতে পারবে।
এই মুহূর্তে বিটিসিএলের ওয়াইম্যাক্স লাইসেন্স নেওয়াতে বিস্ময় প্রকাশ করছে খোদ নিয়ন্ত্রক সংস্থাও। ২০০৮ সালে দেশে এ সেবা চালুর সময় রাষ্ট্রায়ত্ত কোম্পানিটির লাইসেন্স নেওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছিল। মাঝে আরও কয়েকবার লাইসেন্সটি নেওয়ার জন্য তাদের প্রস্তাবও দেওয়া হয়। কিন্তু তখন তারা নেয়নি।
অথচ এখন বিশ্বব্যাপী বাতিলের খাতায় চলে যাওয়া এ লাইসেন্স নিতে এক দশক পরে সরব হয়েছে বিটিসিএল।
বর্তমানে দেশে তিনটি ওয়াইম্যাক্স লাইসেন্স আছে বাংলালায়ন, কিউবি এবং ওলোর। তিন প্রতিষ্ঠানেরই ওয়াইম্যাক্স সেবা বর্তমানে একেবারেই সংকুচিত হয়ে গেছে। গত অক্টোবর মাসের শেষে তাদের কার্যকর সংযোগ সংখ্যা আছে মাত্র ৮০ হাজার, যা ২০১৩ সালেও ছিল পাঁচ লাখ পাঁচ হাজারের ওপরে।
প্রথমে বাংলালায়ন ও কিউবি সেবা দেওয়া শুরু করে। ২০১৩ সালে এসে তাদের সঙ্গে যোগ দেয় ওলো। কিন্তু ওলো সেই অর্থে কিছুই করতে পারেনি।
দেশে ওয়াইম্যাক্স সেবা চালু হওয়ার পর গত এক দশকে গোটা দুনিয়া থেকেই ওয়াইম্যাক্স সেবা উঠে যাবার পথে। বিটিআরসির কমিশন বৈঠকের আলোচনাতেও তা উঠে আসে। অথচ এরই মধ্যে কয়েক কিস্তিতে লাইসেন্স ফির ২১৫ কোটি টাকা দিয়েছে বিটিসিএল।
এখন নেটওয়ার্ক তৈরিসহ বিপণনে আরও কয়েক’শ কোটি টাকা খরচ হবে। এ টাকার পুরোটাই জলে যাবে বলে ধারণা সংশ্লিষ্টদের।
২০১৩ সালে দেশে থ্রিজি চালু হওয়ার পর ধীরে ধীরে ওয়াইম্যাক্সের সেবা সংকুচিত হতে থাকে। সর্বশেষ চলতি বছরের শুরুতে এসে ফোরজি চালু হওয়ায় এখন ওয়াইম্যাক্সের আর কোনো সুযোগই নেই বলে মনে করেন টেলিযোগাযাগ বিশেষজ্ঞরা।
খুচরা গ্রাহক পর্যায়ে ওয়াইম্যাক্সের ব্যবসা একেবারেই শেষ। এখন অপারেটরদের নজর কর্পোরেট খাতে হলেও প্রতিযোগিতায় অন্যান্য সেবাদাতাদের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় পেরে উঠছে না তারা। ফলে প্রতিনিয়েত বাজার হারাচ্ছে তারা।
২০১৩ সালের জুনে দেশে ওয়াইম্যাক্সের মোট গ্রাহক ছিল পাঁচ লাখ পাঁচ হাজার। পরের এক বছর শেষে তা নেমে আসে দুই লাখ ৮১ হাজারে। জুন ২০১৫ সালে এসে কার্যকর সংযোগ দাঁড়ায় এক লাখ ৭৯ হাজারে। পরের বছর জুনে তা কমে হয় এক লাখ ১২ হাজার। ২০১৭ সালের জুনে ৯০ হাজার থাকলেও এখন তা ক্রমান্বয়ে কমছেই।









