নিজস্ব প্রতিবেদক:
‘ঈদের আগে মাছের রাজা ইলিশের তেমন দেখা না মিললেও সপ্তাহের ব্যবধানে বাজারে অন্য মাছের তুলনায় ইলিশের সরবরাহ বেড়েছে অনেকটা। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ইলিশের ব্যাপকহারে ধরা পড়ায় দেশজুড়ে এখন ইলিশের প্রাচুর্যতা। কিন্তু দাম সে তো আগের মতোই।’
- শুক্রবার রাজশাহীর সাহেববাজার এলাকার মাছপট্টিতে মাছ কিনতে এসে অনেকটা আক্ষেপ প্রকাশ করে দড়িখরবনা এলাকার শব্দ আহমেদ সিল্কসিটি নিউজকে এসব কথা বলেন।
তিনি আরও বলেন, এ মাছের মৌসুমে মাছ কিনতে এসে ১৩’শ টাকা কেজি চায় ইলিশ। পরে অনেক দরদাম করে ১২’শ টাকা দরে ১ কেজি ১’শ ৫০ গ্রাম ১৩’শ ৪০ টাকা দিয়ে নিয়েছি।

রাজশাহীর নিউমার্কেট এলাকায় মাছের আড়তে প্রতিদিন সকাল ৮টা থেকে মিনি ট্রাকে করে ইলিশ মাছ আসা শুরু করে নগরীর বাজারগুলোতে পৌছায়। এখন এখানে ১ কেজি থেকে ১ কেজি ৩শ’ গ্রামের ইলিশও আসছে। গত বছরও এমন সাইজের মাছ চোখে পড়েনি’।
খুচরা মাছ বিক্রেতা রনি সিল্কসিটি নিউজকে জানান, বড় আকারের ইলিশ ও প্রচুর সরবরাহ থাকলেও তুলনামূলকভাবে দাম কমেনি বাজারে। দুই হাত ঘুরে পাইকারি আড়ত থেকে খুচরা বাজারে ইলিশ যাওয়ার পর প্রতি কেজি ইলিশ ৫০ টাকা থেকে ১শ’ টাকা বেশি দরে বিক্রি করতে হচ্ছে। আর তিন হাত ঘুরে ক্রেতা সাধারণের ব্যাগে ইলিশ যাওয়ার পর দাম বেশি পড়ছে’।

তিনি আরও বলেন, ‘ঈদের পর থেকে খুচরা বাজারে ৩শ’ ৫০ গ্রাম থেকে ৪শ’ গ্রামের ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ৪শ’ টাকা কেজি দামে। আমি পাইকারি কিনেছি ৩শ’ ৫০ টাকা দরে। ৭শ’ থেকে ৯শ’ গ্রামের ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ৬শ’ টাকা থেকে ৮শ’ টাকা দরে। যা পাইকারি কিনতে হয়েছে ৫শ’ ৫০ টাকা থেকে ৭শ’ টাকা দরে’।
‘আর এক কেজির ওপরের মাছের দাম ৯শ’ থেকে ১ হাজার ২শ’ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। যা পাইকারি কেনা হয়েছে ৮শ’ ৫০ টাকা থেকে ১ হাজার ১শ’ ৫০ টাকা দরে’।
- এছাড়া মাছের ঠিকাদার, আড়তদার হয়ে খুচরা ব্যবসায়ীদের ডালিতে উঠতে গিয়ে প্রথমে এভাবেই ইলিশের দাম বাড়ছে বলে জানান নগরীর খুচরা মাছ বিক্রেতারা জানান।
নিউমার্কেট এলাকার আড়তদার সালেক উদ্দিন বলেন, ঈদের পর এখন নগরীতে্ ইলিশের সরবরাহ আরও বেড়েছে। কিন্তু নিলামের পর মাছের ঠিকাদারের হাত ঘুরে আসছে আড়তে। তাই পরিস্থিতিতে দাম বেশি থাকায় তারা খুব একটা কমাতে পারছেন না।
উল্লেখ্য, মৎস্য অধিদপ্তরের জাটকা নিধন বন্ধ, মা ইলিশ রক্ষা ও ইলিশের বংশ বিস্তারের জন্য সরকারের ব্যাপক প্রচারণা এবং নির্ধারিত সময়ে কর্মহীন মৎস্যজীবীদের ক্ষতিপূরণ বা প্রণোদনা হিসেবে সরকারের ভিজিএফ কর্মসূচির কারণে অঢেল ইলিশ উৎপাদন হয়েছে।
সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০০৯ সালে ইলিশের উৎপাদন ছিল দুই লাখ ৯৮ মেট্রিক টন। ২০১৪-১৫ সালে সে উৎপাদন বেড়ে দাঁড়িয়েছে তিন লাখ ৮৫ হাজার মেট্রিক টনে। চলতি অর্থবছরে এর পরিমাণ আরো বাড়বে বলে আশা করছে মৎস অধিদপ্তর।
- তথ্যমতে, ভোলা থেকে রাজশাহী পর্যন্ত ইলিশ বিচরণ ক্ষেত্র গড়ে তোলার প্রচেষ্টা চলছে। আগামী ১২ অক্টোবর থেকে ২ নভেম্বর পর্যন্ত ২১ দিন দেশের সব নদীতে মা ইলিশ রক্ষা কর্মসূচি হাতে নেওয়া হয়েছে। এসময় ইলিশ শুধু শিকারই নয়, বিক্রির জন্য হাটবাজারে তোলা বা সংরক্ষণ করা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ বলেও গণ্য হবে।
স/অ









