রাজশাহী

রাবি শিক্ষক জলির সাবেক স্বামীকে একাডেমিক কার্যক্রম থেকে প্রত্যাহার

নিউজ ডেস্ক২২ সেপ্টেম্বর ২০১৬২ মিনিট পড়া

নিজস্ব প্রতিবেদক:
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক আকতার জাহান জলির স্বাবেক স্বামী অধ্যাপক তানভীর আহমদকে বিভাগের অ্যাকাডেমিক কার্যক্রম থেকে সাময়িক প্রত্যাহার করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার বিভাগের অ্যাকাডেমিক কমিটির সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

  • বিভাগের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ‘আকতার জাহানের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে তাঁর সাবেক স্বামী ও বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক তানভীর আহমদের বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ উঠেছে তার পরিপ্রেক্ষিতে এবং বিভাগের শিক্ষকদের সর্বসম্মত মতামতের ভিত্তিতে তানভীর আহমদ বিভাগের সকল কার্যক্রম থেকে সাময়িকভাবে নিজেকে প্রত্যাহার করার প্রস্তাব দেন। সভায় বিষয়টি সর্বসম্মতভাবে গ্রহণ করা হয়।’

 

  • বিভাগের সভাপতি ড প্রদীপ কুমার পাণ্ডে সিল্কসিটি নিউজকে বলেন, ‘মিটিং-এর পর্যায়ে তিনি নিজেই অ্যাকাডেমিক কার্যক্রম থেকে নিজেকে প্রত্যাহার রাখার প্রস্তাব দেন। পরে সেটা সর্বসম্মতিক্রমে গ্রহণ করা হয়।’ এ ব্যাপারে অধ্যাপক তানভীর আহমদের সাথে মুঠোফোনে যোগযোগ করা হলে তিনি ফোন রিসিভ করেনি।

Image result for রাবি শিক্ষক জলি
৯ সেপ্টেম্বর বিশ্ববিদ্যালয়ের জুবেরী ভবনের ৩০৩ নম্বর কক্ষ থেকে জলিকে উদ্ধার করে রাজশাহী মেডিকেল কলেজে নেওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। পরে তার কক্ষে একটি ‘সুইসাইড নোট’ উদ্ধার করে পুলিশ। এই সূত্রে পরদিন ১০ সেপ্টেম্বর থানায় আত্মহত্যায় পরোচনার মামলা করেন জলির ছোট ভাই কামরুল হাসান। এরপর থেকেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ বিভিন্ন জায়গায় জলির সাবেক স্বামীকে নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা চলতে থাকে।
এদিকে জলির অকালমৃত্যুতে শোকসভাসহ নানা কর্মসূচি গ্রহণ করেছে বিভাগ। বৃহস্পতিবার ১১টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত বিভাগের অ্যাকাডেমিক সভায় এ সব কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়। আগামী ২৫ সেপ্টেম্বর সকাল ১১টা ৩০ মিনিটে বিভাগের সামনে থেকে শোকর‌্যালি বের করা হবে, ওইদিন বেলা ১২টায় বিভাগের ১২৩ নং কক্ষে শোকসভা এবং ২৩ থেকে ২৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তিনদিন বিভাগে কালোব্যাজ ধারণ কর্মসূচিও গ্রহণ করা হয়।
এছাড়া আকতার জাহানের নামে বিভাগের সেমিনার লাইব্রেরির নামকরণ, বিভাগের সামনে ‘আকতার জাহান কর্নার’ স্থাপন ও বিভাগে একটি শোকবই খোলারও সিদ্ধান্ত হয়।
ওই মিটিং-এ একটি মামলা তদারকি কমিটি গঠন করা হয়েছে। এতে বিভাগের সভাপতিকে আহ্বায়ক ও সহকারী অধ্যাপক শাতিল সিরাজ, কাজী মামুন হায়দার ও আব্দুল্লাহীল বাকীকে সদস্য করা হয়। যা আকতার জাহানের মৃত্যুর পর তাঁর পরিবারের পক্ষ থেকে ‘আত্মহত্যার প্ররোচনার’ অভিযোগে মতিহার থানায় যে মামলা করা হয়েছে তা সম্পর্কে নিয়মিত বিভাগকে অবহিত করবে। এছাড়া মৃত্যুসংশ্লিষ্ট বিষয়ে গণমাধ্যম ও সামাজিক গণমাধ্যমে বিভাগ সম্পর্কিত যেসব বিষয় উঠে এসেছে তা তদন্ত করে দেখার জন্য বিভাগের পক্ষ থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার বরাবর একটি চিঠি দেওয়ারও সিদ্ধান্ত হয়।

স/অ