সিল্কসিটিনিউজ ডেস্ক:
ভারতীয় সংস্কৃতিতে হাত দিয়ে খাওয়াটাই দস্তুর। আদিকাল থেকে রাজা-রাজড়া, নবাব-বাদশা, আমির-ফকির, গরিব-গুর্বো নির্বিশেষে ভারতীয়রা হাত দিয়েই খেয়েছে। তার মানে এই নয় যে, চামচ বস্তুটি ভারতে ছিল না। কিন্তু তা ছিল অন্য কাজে ব্যবহারের জন্য। পরবর্তীকালে ইউরোপীয় সংস্কৃতির আগমনের পরে এমন একটা ধারণা ভারতীয়দের মনের মধ্যে ঢুকিয়ে দেওয়া হয় যে, হাত দিয়ে খাবার খাওয়া বর্বরোচিত কাজ। উপনিবেশের চাপে ভারতীয়রা তাতে বিশ্বাস করতেও শুরু করেন। কিন্তু প্রাচীন আয়ুর্বেদ শাস্ত্র জানাচ্ছে, হাত দিয়ে খাওয়া মোটেই অস্বাস্থ্যকর নয়। বরং তা আমাদের দেহধারণের জন্য বিশেষ প্রয়োজন।
জেনে নিন এই বিষয়ে আয়ুর্বেদের মত।

• হাত দিয়ে খাওয়ার সময়ে আঙুল বিভিন্ন মুদ্রায় স্থিত হয়। এই মুদ্রাগুলির অধিকাংশই যোগ-বর্ণিত ধ্যানমুদ্রা। এতে আত্মিক ও আধ্যাত্মিক উভয় প্রকার উন্নতি হয়।
• বৈদিক মন্ত্র ‘করাগ্রে বসতে লক্ষ্মী’ হাত দিয়ে আহার্য গ্রহণের কালে মূর্ত হয়ে ওঠে। করাঙ্গুলি আমাদের কর্মেন্দ্রিয়। তার স্পর্শে আহার্য সকর্মক হয়ে ওঠে। প্রতিটি করাগ্রের অধিষ্ঠাতা দেবতা বা অধিষ্ঠাত্রী দেবী রয়েছেন। আহার্য হাত দিয়ে গ্রহণ করলে তা তাঁদের প্রসাদে পরিণতি পায় বলে জানায় সনাতন ধর্ম।
• আয়ুর্বেদ মতে পঞ্চাঙ্গুলি পঞ্চভূতের সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত। বৃদ্ধাঙ্গুষ্ঠ ব্যোমের, তর্জনি বায়ুর, মধ্যমা অগ্নির, অনামিকা জল ও কনিষ্ঠা মাটির সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত। হাত দিয়ে আহার্য গ্রহণ করলে এই পঞ্চভূতও শরীরে প্রবিষ্ট হয়।
• ভারতীরা যে ধরনের খাবার খেয়ে থাকেন, তা প্রস্তুত করতে হাতের প্রয়োজন। যেমন, হাত দিয়েই ভাত মেখে খাওয়া সম্ভব। অন্য কোনও ভাবে তাকে গ্রহণ করলে তার স্বাদ নষ্ট হয়। আয়ুর্বেদ মতে, বিস্বাদ আহার্য গ্রহণ অনুচিত। তা পাকযন্ত্রের উপরে চাপ ফেলে।









