সিল্কসিটিনিউজ ডেস্ক: সাতক্ষীরায় দুরারোগ্য ব্যাধিতে আক্রান্ত ইব্রাহীম নামের ১০ মাসের এক শিশু গলার চামড়া খড়ে পড়েছে। ৬ মাস বয়সে তার গলার চামড়া খসে পড়া শুরু হয়। এখন তার গলার মাংস বের হয়ে গেছে।
ক্ষতস্থানের অসহ্য ব্যথায় সারাদিন কাঁদছে শিশুটি। সাতক্ষীরা, ঢাকা ও ভারতের বিভিন্ন চিকিৎসকের শরণাপন্ন হলেও এই রোগের কোনও চিকিৎসা দিতে পারেননি কেউ। সাতক্ষীরা সদর উপজেলা লাবসা ইউনিয়নের মাগুরা গ্রামের ফল বিক্রেতা শেখ জয়নুল আবেদিন টাকার অভাবে ছেলের চিকিৎসাও করাতে পারছেন না। দরিদ্র এ বাবার আশা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার ছেলের জন্য সাহায্যের হাত বাড়াবেন।
শেখ জয়নাল আবেদীন বলেন, ‘জন্মের ৬ মাস বয়সে ইব্রাহিমের গলার গলে উঠে গেলে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালের নাক, কান ও গলা বিশেষজ্ঞ নারায়ণ প্রসাদ সান্যালকে দেখালে তিনি বলেন এখানে চিকিৎসা সম্ভব নয়। তার পরামর্শে আমি ঢাকার শমরিতা মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের ডা. কবির চৌধুরীর কাছে গেলে তিনি ইব্রাহীমকে ভারতের ভেলোরে ক্রিস্টিয়ান মেডিক্যাল কলেজে ডা.অনু করুলার কাছে যাওয়ার পরামর্শ দেন।’

জয়নাল আবেদীন বলেন, ‘ভারতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ইব্রাহীমের উরুর গোড়ায় একই ক্ষত চিহ্ন দেখা দিলে বিভিন্ন পরীক্ষা নিরীক্ষার পর ডা. অনু করুলা বলেন, ইব্রাহীমের বোনম্যারো (অস্থিমজ্জা) পরিবর্তন ছাড়া তাকে সুস্থ করা সম্ভব নয়। কিন্তু এটি খুবই ব্যয়বহুল চিকিৎসা। এ জন্য প্রয়োজন প্রায় ৪৫ লাখ টাকা। এত টাকা যোগাড় করা আমার পক্ষে সম্ভব নয় বলে আবার দেশে ফিরে আসি।’
তিনি আরও বলেন, ‘ইব্রাহীমের গলায় প্রথমে ছোট আকারে একটি ক্ষত চিহ্ন ছিল, সেটা এখন গলার চারিদিকে ছড়িয়ে পড়েছে। এছাড়া দিন দিন শরীরের অন্যান্য অংশেও ছড়িয়ে পড়ছে। আমি একজন সামান্য ফল বিক্রেতা। আমার পক্ষে এত টাকা যোগাড় করা সম্ভব নয়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সাতক্ষীরার দুরারোগ্য রোগে আক্রান্ত মুক্তামনির চিকিৎসার দায়িত্ব নিয়েছেন। আমার ছেলের চিকিৎসায় তিনি সাহায্যের হাত বাড়াবেন- এটিই আমার কামনা।’
ইব্রাহিমের মা হাসিনা বেগম বলেন, আমার ছেলে সারাদিন অসহ্য যন্ত্রনায় ছটফট করে। আমি মা হয়ে তা সহ্য করতে পারি না। প্রধানমন্ত্রী ও সমাজের বিত্তবানরা যদি এগিয়ে আসেন, তাহলে আমার ছেলে ভালো হয়ে যেত।’
ইব্রাহিমের চিকিৎসায় অর্থ সহায়তা পাঠানোর ব্যাংক হিসাব-
মোছা. হাসিনা বেগম,হিসাব নং- ২১৬৮৫, ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লি., সাতক্ষীরা শাখা।
সূত্র: বাংলা ট্রিবিউন









