জাতীয়

ড্রেন নির্মাণে অনিয়ম, অবরুদ্ধ ১০০ পরিবার

নিউজ ডেস্ক১৩ আগস্ট ২০২৬২ মিনিট পড়া

সিল্কসিটিনিউজ ডেস্ক:

নাটোরের গুরুদাসপুর পৌরসভায় আরসিসি ড্রেন নির্মাণের কাজে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে অনুরোধসহ চিঠি দিয়েও কাজ শেষ করাতে পারছে না পৌর কর্তৃপক্ষ।

এতে শতাধিক পরিবার অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছে। 

পৌরসভা সূত্রে জানা যায়, বিশ্ব ব্যাংকের অর্থায়নে যৌথভাবে কাজটি পায় নাটোরের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স সিনথিয়া ও  আলামিন আনিসুর। ৪৭ লাখ টাকার কাজটি পরে সাব-কন্ট্রাক্ট নেন পৌর ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি সেলিম শাহ। এরই মধ্যে কাজের বিলও তুলে নিয়েছেন তিনি।

 

বৃহস্পতিবার সরেজমিনদেখা গেছে, উপজেলা প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের গেট থেকে সুফিয়ার বাড়ি পর্যন্ত ২০৬ মিটার দীর্ঘ আরসিসি ড্রেন নির্মাণ ও স্লাব বসানোর জন্য স্থানীয়দের যাতায়াতের একমাত্র সড়কটি কেটে গর্ত করে রাখা হয়েছে। প্রকল্পটির ১৩০ মিটার অংশে ঢালাই ও স্লাব বসানোর কাজ শেষ। কিন্তু পশ্চিমাংশে রড বসানো হলেও ঢালাই হয়নি। সেখানে বৃষ্টির পানি জমে আছে।

ধসে যেতে বসেছে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের প্রাচীর। 

এদিকে, ১০ মার্চ ড্রেনটি নির্মাণকাজ উদ্বোধন করেন স্থানীয় সংসদ সদস্য মো. আব্দুল আজিজ এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পৌর প্রশাসক ফাহমিদা আফরোজ। প্রকল্পটির মেয়াদ ধরা হয় ছয় মাস। সে অনুযায়ী ১০ আগস্ট নির্মাণ কাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু সেই সময় পেরিয়ে গেলেও কাজ শেষ হয়নি।

 

মকবুল হোসেন ও মাসুদ রানাসহ কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দার ভাষ্য, সড়কে ড্রেন নির্মাণ ও স্লাব বসানোর কাজটি ধীরগতিতে হচ্ছে। এতে শতাধিক পরিবার অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছে। বৃষ্টির পানি জমে থাকায় নিচের রডের ওপর দিয়ে যাতায়াত করতে হচ্ছে। দুর্ভোগ থেকে মুক্তি পেতে পৌর প্রশাসকের হস্তক্ষেপ চান তারা।

পৌর প্রকৌশলী আবু রায়হান জানান, নিম্নমানের উপকরণ ও রড ব্যবহার করায় মাঝখানে নির্মাণকাজ বন্ধ ছিল। ২৬ জুন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান শিডিউল অনুযায়ী কাজটি শেষ করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে পৌর কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করেন। কাজ শুরু হলেও ঢালাইয়ে নিম্নমানের পাথর ও ১২ মিলিমিটার রডের সঙ্গে আট  মিলিমিটারের রড ব্যবহারের অভিযোগ ওঠে। বিধি মেনে দ্রুত নির্মাণ কাজ শেষ করতে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে বারবার চিঠি দেওয়া হয়েছে।

ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের পক্ষে মাসুম আলী বলেন, তাঁর ঠিকাদারি লাইসেন্সে কাজটি করছেন সেলিম শাহ। দায়-দায়িত্বও তার। তবু তদারকি করা হচ্ছে।

সেলিম শাহ বলেন, বৃষ্টির কারণে কাজে দেরি হয়েছে। দ্রুত নির্মাণকাজ শেষ করা হবে।

পৌর প্রশাসক ফাহমিদা আফরোজ বলেন, নির্মাণ কাজ বুঝে নেওয়ার জন্য পৌর নির্বাহী প্রকৌশলীকে নির্দেশ  দেওয়া হয়েছে।