জাতীয়

সরকার রুফটপ সোলারে আগ্রাসীভাবে এগোচ্ছে : জ্বালানিমন্ত্রী

নিউজ ডেস্ক১১ আগস্ট ২০২৬৩ মিনিট পড়া
সিল্কসিটিনিউজ ডেস্ক:
দেশের চলমান জ্বালানি সংকট মোকাবেলায় তাৎক্ষণিকভাবে এলএনজি আমদানি বাড়ানোর পাশাপাশি দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধান ও উৎপাদন বৃদ্ধি, নবায়নযোগ্য জ্বালানির প্রসার এবং অবকাঠামো উন্নয়নের ওপর জোর দিয়েছেন বিশেষজ্ঞ ও ব্যবসায়ী নেতারা। একই সঙ্গে জ্বালানি খাতে নীতিগত ধারাবাহিকতা, যৌক্তিক মূল্য নির্ধারণ এবং বেসরকারি খাতের অংশগ্রহণ বাড়ানোর তাগিদ দিয়েছেন তারা।
মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) রাজধানীর ঢাকা ক্লাবের সামসন এইচ চৌধুরী হলে ‘জ্বালানি খাতের সংকট : সম্ভাবনা ও উত্তরণের উপায়’ শীর্ষক এক সেমিনারে বক্তারা এসব কথা বলেন। ফোরাম ফর এনার্জি রিপোর্টার্স বাংলাদেশ (এফইআরবি) এই সেমিনারের আয়োজন করে।

সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ বলেন, ‘সরকার ১০ হাজার মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্য নিয়ে রুফটপ সোলারে আগ্রাসীভাবে এগোচ্ছে। এ জন্য বিনিয়োগবান্ধব নীতি ও পাঁচ বছরের কর অবকাশ সুবিধা দেওয়া হয়েছে।

ঢাকা থেকে শুরু করে সারা দেশে ক্লাস্টারভিত্তিক ও অপেক্স মডেলে রুফটপ সোলারে বেসরকারি বিনিয়োগকে উৎসাহিত করা হবে, সরকার এতে সরাসরি বিনিয়োগ করবে না।’কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, ‘সরকার কয়লা দিয়ে আরো বিদ্যুৎকেন্দ্র করার চিন্তা করলেও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে অর্থায়ন কমে যাওয়ায় সতর্কতার সঙ্গে এগোতে হবে। পাশাপাশি জ্বালানি তেল আমদানি ও বিপণনে সরকারি প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি বেসরকারি খাতকেও সুযোগ দেওয়ার নীতি তৈরি করা হচ্ছে।’ ভোলার গ্যাস ব্যবহারে মালয়েশিয়ার রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান পেট্রোনাসের সঙ্গে আলোচনায় অগ্রগতি হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘একটি প্রতিনিধিদল সফর শেষে ফিরে এসেছে এবং যৌথ কাজের বিষয়ে সরকার খুবই আশাবাদী।

’শিল্পে গ্যাসসংকট নিয়ে মন্ত্রী জানান, শিল্পের ক্ষতি এড়াতে প্রধানমন্ত্রী, শিল্পোদ্যোক্তা ও বিশেষজ্ঞদের নিয়ে বৈঠকের উদ্যোগ নেওয়া হবে। গ্যাসের বিকল্প হিসেবে শিল্পে এলপিজি ব্যবহারের প্রস্তাব সহায়ক হলে দ্রুত অনুমোদন দেওয়া হবে। এ ছাড়া বিদেশি বিনিয়োগকারীদের অফশোর তেল-গ্যাস অনুসন্ধানের দরপত্রে আকৃষ্ট করতে যুক্তরাষ্ট্রের হিউস্টনে যাওয়ার পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত চাহিদা ও সরবরাহের ঘাটতিই স্বীকার করে জনগণের ভোগান্তির জন্য দুঃখ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, ‘দেশীয় কূপে প্রতি বছর ১ হাজার ৫০০ মিলিয়ন ঘনফুট উৎপাদন কমায় এবং প্রয়োজনীয় অবকাঠামো না থাকায় রাতারাতি এলএনজি আমদানি বাড়ানো সম্ভব হচ্ছে না।

তবে দুই বছরের কম সময়ে নতুন এফএসআরইউ কার্যকর করার রাজনৈতিক অঙ্গীকার রয়েছে সরকারের। পাশাপাশি মাতারবাড়ীতে ল্যান্ডবেসড এলএনজি টার্মিনালের কার্যক্রমও এগিয়ে চলছে।’সেমিনারে মূল প্রবন্ধে বুয়েটের সাবেক অধ্যাপক ও জ্বালানি বিশেষজ্ঞ ড. ইজাজ হোসেন বলেন, সামষ্টিক অর্থনৈতিক ও ডলার সংকট দূর না হলে জ্বালানি সংকট সমাধান কঠিন। দেশীয় গ্যাসের উৎপাদন ধরে রাখতে দ্রুত অনুসন্ধান বাড়ানোর পাশাপাশি ফার্নেস অয়েলনির্ভরতা কমিয়ে সৌরবিদ্যুৎ ও সাশ্রয়ী গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুতের দিকে যেতে হবে।

প্যানেল আলোচনায় ইন্ডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশের উপাচার্য অধ্যাপক ম. তামিম বলেন, বাপেক্স-নির্ভরতা কমিয়ে আন্তর্জাতিক কোম্পানির মাধ্যমে গভীর ও পুরোনো গ্যাসক্ষেত্রে নতুন প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়াতে হবে। কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) জ্বালানি উপদেষ্টা শামসুল আলম বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে ‘বিপ্লবী পরিবর্তন’ ও যৌক্তিক মূল্য নির্ধারণের দাবি জানান।

ইস্ট কোস্ট গ্রুপের চেয়ারম্যান আজম জে চৌধুরী মাতারবাড়ীকে আঞ্চলিক এনার্জি হাব হিসেবে গড়ে তোলার প্রস্তাব দেন এবং নীতিগত অনিশ্চয়তা দূর করে বেসরকারি খাতকে সম্পৃক্ত করার আহ্বান জানান।

বাংলাদেশ ইন্ডিপেনডেন্ট পাওয়ার প্রডিউসার অ্যাসোসিয়েশনের (বিপ্পা) সভাপতি ডেভিড হাসনাত জানান, গ্যাস ঘাটতিতে প্রায় ৭ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। দ্রুত অবকাঠামো ও দেশীয় কয়লা ব্যবহারের ওপর জোর দেন তিনি।

এফইআরবির চেয়ারম্যান এম আজিজুর রহমানের সভাপতিত্বে ও নির্বাহী পরিচালক সেরাজুল ইসলাম সিরাজের স্বাগত বক্তব্যে অনুষ্ঠানে বিভিন্ন ব্যবসায়ী সংগঠন ও জ্বালানি খাতের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।