জাতীয়

কয়েক সপ্তাহের মধ্যে ন্যাটোভুক্ত দেশে হামলা করতে পারে রাশিয়া : মার্কিন গোয়েন্দা রিপোর্ট

নিউজ ডেস্ক৮ আগস্ট ২০২৬৩ মিনিট পড়া

সিল্কসিটিনিউজ ডেস্ক:

ন্যাটোর ঐক্য বিনষ্ট করতে জোটভুক্ত কোনো দেশে সীমিত পরিসরে হামলা চালাতে পারেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। আমেরিকান সংবাদপত্র ‘দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল’-এর এক প্রতিবেদনে মার্কিন গোয়েন্দা মূল্যায়নের বরাত দিয়ে এই চাঞ্চল্যকর দাবি করা হয়েছে।

ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, রাশিয়ার সাইবার হামলা ও গোপন অভিযান থেকে শুরু করে ছোট আকারের সামরিক অনুপ্রবেশ ঘটানোর মতো নানা দৃশ্যপট খতিয়ে দেখছেন মার্কিন গোয়েন্দারা।
ওয়াশিংটনের এই মূল্যায়নকে বেশ বড় একটি পরিবর্তন হিসেবে দেখা হচ্ছে। এতদিন মার্কিন কর্মকর্তাদের ধারণা ছিল, ইউক্রেন যুদ্ধে ব্যস্ত থাকায় পুতিন ন্যাটোর সঙ্গে সরাসরি সংঘাত এড়িয়ে চলবেন। তবে সে অবস্থান থেকে এখন সরে এসেছে ওয়াশিংটন।

কর্মকর্তারা বলছেন, ইউক্রেনীয় ড্রোন হামলায় রাশিয়ার সামরিক লক্ষ্যবস্তু ও জ্বালানি অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া এবং ভারী ক্ষয়ক্ষতি সত্ত্বেও যুদ্ধক্ষেত্রে অগ্রগতির গতি ধীর হয়ে আসায় রাশিয়ার ওপর একাধিক দিক থেকে চাপ বাড়ছে।
মার্কিন কর্মকর্তারা প্রত্রিকাটিকে জানান, ন্যাটোর বিরুদ্ধে রাশিয়ার যেকোনো পদক্ষেপ অঞ্চল দখলের উদ্দেশ্যে নয়, বরং জোটের ভেতরে থাকা ফাটল জনসম্মুখে উন্মোচিত করাই এর মূল লক্ষ্য হতে পারে।

পুতিনের সম্ভাব্য পদক্ষেপের বিষয়ে আমেরিকান এন্টারপ্রাইজ ইনস্টিটিউটের গবেষক হিদার কনলি বলেন, ‘এমন ঘটনা ঘটলে যুক্তরাষ্ট্র কীভাবে প্রতিক্রিয়া দেখাবে সেটাই এখন বড় প্রশ্ন। ন্যাটোর বিশ্বাসযোগ্যতাকে চ্যালেঞ্জ করা এবং বন্ধুদের থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে আলাদা করা সবসময়ই রাশিয়ার অন্যতম লক্ষ্য ছিল।

’
মার্কিন ও ইউরোপীয় নেতারা ইতোমধ্যেই ন্যাটোর আকাশসীমায় রাশিয়ার তৎপরতাকে সতর্ক সংকেত হিসেবে দেখছেন। এর মধ্যে পোল্যান্ডে রুশ ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র গিয়ে পড়া এবং রোমানিয়ার আকাশসীমায় ড্রোন প্রবেশের ঘটনার কথা উল্লেখ করেছেন তারা।

পুতিনের ওপর আন্তর্জাতিক চাপ ক্রমাগত বাড়তে থাকলে মস্কো বিভিন্ন ধরণের আগ্রাসী পথ বেছে নিতে পারে বলে ধারণা গোয়েন্দাদের। এর মধ্যে রয়েছে—ন্যাটো সদস্য রাষ্ট্রগুলোর ওপর বড় ধরনের সাইবার আক্রমণ চালানো, পরিচয়হীন সশস্ত্র বাহিনীর মাধ্যমে ন্যাটোর সীমান্ত অঞ্চলের ছোট এলাকা দখল নেওয়া, ন্যাটোর পূর্ব সীমান্তে সীমিত পরিসরে সামরিক উপস্থিতি ঘটানোর আশঙ্কা।

গোয়েন্দা মূল্যায়নে বলা হয়েছে, এমন পদক্ষেপ চলতি বছরের শরৎকাল থেকে ২০২৯ সালের মধ্যে যেকোনো সময় ঘটতে পারে।

সরাসরি ভূমিতে আক্রমণ চালানোর সম্ভাবনা বেশ কম, কারণ এতে ন্যাটোর ‘আর্টিকেল ৫’ নামের যৌথ প্রতিরক্ষা অনুচ্ছেদ কার্যকর হয়ে যাবে। তবে হাইব্রিড বা ছায়াযুদ্ধের ক্ষেত্রে ন্যাটোর প্রতিক্রিয়া দেখানো আইনি জটিলতার কারণে কিছুটা ধোঁয়াশাপূর্ণ।
যেকোনো পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে তারা পুরোপুরি প্রস্তুত বলে জানিয়েছে ন্যাটো। ন্যাটোর মুখপাত্র কর্নেল মার্টিন ও’ডনেল বলেন, ‘আমরা যেকোনো পরিস্থিতির জন্য পরিকল্পনা এবং প্রস্তুতি নিচ্ছি। ন্যাটো কড়া নজর রাখছে এবং যেকোনো হামলা প্রতিহত ও প্রতিরোধ করতে আমরা প্রস্তুত, যা আমরা ধারাবাহিকভাবে প্রদর্শন করে আসছি।’

রুশ হুমকির এই নতুন গোয়েন্দা তথ্যের মাঝেই নিজেদের গুরুত্বপূর্ণ সামরিক অস্ত্রের মজুত কমে যাওয়া নিয়ে চিন্তিত ওয়াশিংটন। দীর্ঘদিনের ইউক্রেন সহায়তা এবং সম্প্রতি ইরানে সামরিক অপারেশনের ফলে লং-রেঞ্জ প্রিসিশন স্ট্রাইক মিসাইল, ট্যাকটিক্যাল মিসাইল সিস্টেম (এটাকমস) ও স্টিঙ্গার মিসাইলের মজুত কমে গেছে। এছাড়া প্যাট্রিয়ট, এসএম-৩ এবং থাড ক্ষেপণাস্ত্রের মজুতও চাপের মুখে রয়েছে।

সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজের (সিএসআইএস) সামরিক বিশেষজ্ঞ টম কারাকো জানান, রাশিয়ান আগ্রাসন মোকাবিলায় স্টিঙ্গার ও এটাকমসের মতো ক্ষেপণাস্ত্রগুলোর ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সিএসআইএস-এর অপর এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ইরান সংঘাতের সময় যুক্তরাষ্ট্র ১,০৬০ থেকে ১,৪৩০টির মতো প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করেছে, যার ফলে তাদের হাতে হয়তো আর মাত্র ৮৭০টির মতো ক্ষেপণাস্ত্র অবশিষ্ট রয়েছে।

পেন্টাগনের জয়েন্ট চিফসের চেয়ারম্যান জেনারেল ড্যান কেইন হোয়াইট হাউসকে সতর্ক করে জানিয়েছেন যে, আকাশ প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত দিন দিন কমছে। যদিও এ বিষয়ে পেন্টাগন ও হোয়াইট হাউস দাবি করেছে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের যেকোনো কৌশলগত লক্ষ্য পূরণে মার্কিন সামরিক বাহিনীর পর্যাপ্ত অস্ত্র রয়েছে এবং সামরিক ঠিকাদারদের উৎপাদন বাড়ানোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।