জাতীয়

‘উনি আমার গান, উনিই আমার সংসার’

নিউজ ডেস্ক৪ আগস্ট ২০২৬২ মিনিট পড়া

সিল্কসিটিনিউজ ডেস্ক:

বয়স ১০৯ বছর। চোখে-মুখে ক্লান্তির ছাপ।

বার্ধক্যে নুয়ে পড়েছে শরীর। তবু শতবর্ষী বাউল আব্দুল গফুরের সামনে একতারাটি রাখলেই অদ্ভুত আলোয় উজ্জ্বল হয়ে ওঠে জোড়া চোখ।
৯৪ বছর ধরে সুরের সাগরে ভাসছেন ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার সাকূয়া গ্রামের বাসিন্দা বাউল আব্দুল গফুর। জীবনের পড়ন্ত বেলায় পরম মমতা নিয়ে তার সেবা করে যাচ্ছেন স্ত্রী রোকেয়া বেগম।

তার কাছে এই সেবা শুধু একজন জীবনসঙ্গীর প্রতি কর্তব্য নয়, বরং স্বামীকে বাঁচিয়ে রাখার মাধ্যমে হাজার বছরের লোকসংস্কৃতির অংশ হিসেবে বাউল গানকে বাঁচিয়ে রাখার নিরন্তর লড়াই।
মময়মনসিংহের গৌরীপুরের বাউল সাধক গুরু উমেদ আলী ফকিরের কাছে মাত্র ১৫ বছর বয়সে বাউল দীক্ষা নিয়েছিলেন আব্দুল গফুর। এরপর থেকে জীবনের দীর্ঘ পথজুড়ে তিনি গেয়ে চলেছেন দেহতত্ত্ব, মুর্শিদি, আধ্যাত্মিক পালা গান। কখনো হাটে-ঘাটে, কখনো বাউল আসরে তাঁর সুরে মুগ্ধ হয়েছেন লাখো মানুষ।

তবে বয়সের ভারে এখন তিনি শয্যাশায়ী। এই কঠিন সময়ে তাঁর সবচেয়ে বড় অবলম্বন স্ত্রী রোকেয়া বেগম।
স্বামীর সাদা চুল আঁচড়ে দিতে দিতে রোকেয়া বলেন, ‘উনিই আমার সংসার, উনিই আমার গান। ওনার ভেতরের এই সুরকে আমি মরতে দিতে পারি না। ওনাকে সুস্থ রাখা মানেই আমাদের বাউল গানকে বাঁচিয়ে রাখা।

’
দীর্ঘ সংগীতজীবনে দেশের নানা প্রান্তে গান গেয়ে বেড়ালেও জীবনের শেষ প্রান্তে এসে চরম অর্থকষ্ট আর অবহেলায় দিন কাটছে এই প্রবীণ শিল্পীর। লোকসংগীতের একজন সাধক হয়েও ১০৯ বছরে তিনি কী পেলেন-তা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে সুধীজন ও স্থানীয় সংস্কৃতিপ্রেমীদের মনে। রাষ্ট্রীয় বা প্রাতিষ্ঠানিক কোনো বড় স্বীকৃতি কিংবা পর্যাপ্ত আর্থিক সহযোগিতা তিনি পাননি। একপ্রকার বিনা চিকিৎসায় এখন মানবেতর দিন কাটছে এই দম্পতির।

ময়মনসিংহ বাউল সমিতির সাধারণ সম্পাদক রেজাউল করিম আসলাম কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘বাউল আব্দুল গফুর আমাদের লোকঐতিহ্যের এক জীবন্ত দলিল। সরকারি বা বেসরকারিভাবে যদি এখনই এই মহান বাউল সাধকের চিকিৎসার সুব্যবস্থা ও তার সৃষ্টিকে সংরক্ষণ করার উদ্যোগ না নেওয়া হয়, তবে বাংলা লোকসংগীতের এক অপূরণীয় ক্ষতি হবে। তার পাশে দাঁড়ানো এখন সময়ের দাবি।’